অন্তর্বর্তী সরকার কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় চায়

অন্তর্বর্তী সরকার যেহেতু কোনো রাজনৈতিক দল নয়, সেহেতু গণভোটে তার জন্য কোনো পক্ষ নেওয়া বেমানান। অন্তর্বর্তী সরকার কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় চায়, তা নিয়ে লিখেছেন ইমরান আজাদ

আসন্ন গণভোটে জনগণ যেন ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করে, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ের সর্বত্র ইতিমধ্যে প্রচারণা শুরু করেছে। যেখানে সরকারের কেবল গণভোট নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর কথা, সেখানে সরকার একটা সুনির্দিষ্ট পক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছে। এতে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।

ধারণা করা যায়, সরকার সম্ভবত দুটি কারণে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এক. রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার–সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতির প্রতি সরকারের আস্থাহীনতা এবং দুই. সংস্কারসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব ইমেজ ধরে রাখার চেষ্টা।

সংস্কার ইস্যু নিয়ে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে, সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও অঙ্গীকার নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের ঘোরতর সন্দেহ আছে।

রাজনীতিবিদেরা প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। (যুগান্তর, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪) তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘রাজনীতিবিদেরাই যদি সংস্কার করেন, তাহলে গত ৫৩ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি কেন?’ডেইলি স্টার বাংলা, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪)

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা, নিজেদের স্বার্থ রক্ষা এবং মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটানোর কারণে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে এবং জনগণকেই, বিশেষত তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে আসতে হয়েছে। (বাংলা ট্রিবিউন, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪)

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের বিচারে কথাগুলো অনেকটাই যুক্তিযুক্ত। তবে ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে গত পাঁচ দশকে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ একদমই গ্রহণ করা হয়নি, তা কিন্তু পুরোপুরি সত্য নয়।

বাংলাদেশে এর আগেও অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যেগুলো পরবর্তী সময়ে বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়েছিল। কেউ কি এই নিশ্চয়তা দিতে পারবে যে এবার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশে ইতিবাচক মৌলিক সংস্কারগুলো কেউ কোনো দিন নস্যাৎ করার চেষ্টা করবে না, অর্থাৎ ফ্যাসিজম বা স্বৈরাচারী ব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না।

আরও পড়ুন

২.

সংস্কার তখনই টেকসই হবে, যখন দেশের জনগণ সংস্কারের বিষয়গুলো নিজেরা ধীরে ধীরে আত্মস্থ করতে শিখবে। তাদের দৈনন্দিন জীবনে সংস্কারগুলোর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। শুধু জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে স্বৈরশাসনের আগমনকে প্রতিরোধ করা যাবে না।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা প্রকাশ করা সরকারের তরফ থেকে কোনো শোভনীয় আচরণ নয়। কেননা এই রাজনৈতিক দলগুলোই শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সরকার আয়োজিত সংস্কারকেন্দ্রিক বিভিন্ন আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে নিবিড়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।

ঐকমত্য কমিশনে অংশগ্রহণ করা ছাড়াও দলগুলো দলীয় ও বিভিন্ন নাগরিক ফোরামে সংস্কার নিয়ে আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক করেছে এবং প্রয়োজনে ছাড় দেওয়ারও চেষ্টা করেছে। ভুলে গেলে চলবে না যে এই অভ্যুত্থানের বহু আগেই কিছু কিছু দল রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করেছিল।

এর পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার হয়তো ধারণা করছে যে যদি গণভোটে ‘না’ জয়ী হয়ে যায়, তবে সরকারের এত দিনের সংস্কারসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, আয়োজন ও প্রচেষ্টা নিছক ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

উপরন্তু নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে সরকারের দুর্বল পারফরম্যান্স জনগণের মধ্যে একধরনের হতাশা ও অসন্তোষ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকার হয়তো অন্তত ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয়ের সাফল্য নিয়ে ‘সম্মানজনকভাবে’ বিদায় নিতে চাইছে।

এটা অনেকটা ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’ ধরনের পন্থা অনুসরণ করা। অন্যভাবে বললে অন্য সব ব্যর্থতাকে ঢাকতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় সরকারের জন্য এখন অত্যন্ত জরুরি একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়টা কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের বক্তব্যে। সম্প্রতি তিনি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিপুলভাবে জিততে না পারলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, সংসদ নির্বাচনসহ সবকিছু প্রশ্নের মুখ পড়বে। (প্রথম আলো, ১১ জানুয়ারি ২০২৬)

সরকারকে জনগণের জন্য কাজ করতে হলে নির্দিষ্ট কোনো পক্ষ বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, সবার জন্য কাজ করতে হয়। গণতন্ত্রের ধারণাটাই হচ্ছে, ‘গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, অ্যান্ড ফর দ্য পিপল’। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার কেন ধরে নিচ্ছে যে তারা যেখানে যেভাবে সংস্কার চায়, বাংলাদেশের সব জনগণও সেখানে সেভাবেই সংস্কার চায়?

৩.

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বারবার বলছেন, সরকার গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে; এতে আইনগত কোনো বাধা নেই। এ কথাটা বিভ্রান্তিকর এবং পুরোপুরি সঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে তাঁরা আইনের সংকীর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আইন কেবল লিখিত বিধিবিধান নয়। অলিখিত নীতিনৈতিকতাও আইনের অংশ হতে পারে। যেমন উদার সাংবিধানিকতাবাদের অন্যতম স্বীকৃত নীতি হলো রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার কখনো জনগণ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ নিতে পারে না।

সরকারকে জনগণের জন্য কাজ করতে হলে নির্দিষ্ট কোনো পক্ষ বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, সবার জন্য কাজ করতে হয়। গণতন্ত্রের ধারণাটাই হচ্ছে, ‘গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, অ্যান্ড ফর দ্য পিপল’। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার কেন ধরে নিচ্ছে যে তারা যেখানে যেভাবে সংস্কার চায়, বাংলাদেশের সব জনগণও সেখানে সেভাবেই সংস্কার চায়?

এমন কি হতে পারে না যে সংস্কার বিষয়ে কারও কারও পুরোপুরি বা আংশিক ভিন্নমত আছে? তাহলে সরকার কি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন দিয়ে জনগোষ্ঠীর ওই অংশের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে না?

সরকার বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা প্রতিটি রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলাপ-আলোচনায় অংশ নিয়ে মতামত দিয়েছে এবং সেই অনুসারে জুলাই জাতীয় সনদ গৃহীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

লক্ষণীয় হলো, এই রাজনৈতিক দলগুলো নিঃসন্দেহে জনগণের একটা বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে; কিন্তু তারা দেশের সব জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। এর মানে হচ্ছে, জনগণের এক বা একাধিক অংশের প্রতিনিধিত্ব কমিশনের আলাপ-আলোচনায় ছিল না। এর ফলে সংস্কার নিয়ে তাদের চিন্তা, বক্তব্য বা অংশগ্রহণও পরিলক্ষিত হয়নি। তাহলে ভবিষ্যতে আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাইছি, যেটা হবে শুধু একটা পক্ষের বাংলাদেশ?

শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী আমলের মতোই কি আমরা দেখব যে ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি’র মতো ‘জুলাই–বিরোধী’ বলে একটা গোষ্ঠীকে পৃথক্‌করণ করা হবে? ভুলে গেলে চলবে না এই অপরায়ণের রাজনীতিই বাংলাদেশকে আজ এই সংকটময় পরিস্থিতিতে নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন

৪.

আইনে কোনো বাধানিষেধ নেই বলে সরকার কোনো একটা পক্ষ নিতে পারে—এই বক্তব্যটা আরও একটি কারণে সমস্যাজনক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে সংসদ কার্যকর না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতির নামে বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করে দেশ চালাচ্ছে। অর্থাৎ একমাত্র সরকারই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কোন বিষয়ে আইন তৈরি করা হবে বা হবে না।

এখন কেউ যদি যুক্তি দেয় যে সংসদের অনুপস্থিতিতে আইন তৈরি করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত এই সরকারই আসলে চায়নি নিজের কর্মকাণ্ড সীমিত করতে কোনো আইন তৈরি হোক—তাহলে তা কি খুব বেশি ভুল বলা হবে?

লক্ষণীয়, সরকার গণভোট অধ্যাদেশের ধারা ১৮–তে বলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করবে। অথচ নির্বাচন কমিশনের বাইরে খোদ অন্তর্বর্তী সরকার ও সরকারি কর্মকর্তাদের (উপদেষ্টা ও সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা) নির্বাচনী আচরণ কেমন হবে, সে বিষয়ে এ আইনটি নিশ্চুপ।

আরও পড়ুন

গণভোট অধ্যাদেশের ধারা ১৮ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এর কারণ হলো, জনপ্রশাসনের মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের হয়ে একদিকে সংসদ নির্বাচন, অন্যদিকে গণভোটে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছেন। এই কর্মকর্তারাই আবার অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত রয়েছেন।

এমন ঘটনা শুধু বিরলই নয়, আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে নিরপেক্ষ থাকার মৌলিক নীতির বরখেলাপ বটে। অনেকে বলতে পারেন, সিভিল সার্ভিস বা সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে রাজনীতি নিরপেক্ষভাবে ‘গভর্নমেন্ট অব দ্য ডে’ অর্থাৎ যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে, তখন সেই সরকারকে তার নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করতে হবে। তর্কের খাতিরে এটা মেনে নিলেও ওপরে বর্ণিত স্ববিরোধী ঘটনাটা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়।

এর কারণ হলো, সরকারের নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করা এক বিষয় আর সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করা ও একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত থাকা আরেক বিষয়।

৫.

ব্রিটেনেও ব্রেক্সিট রেফারেন্ডামের (গণভোট) প্রচারণায় তদানীন্তন সরকার কর্তৃক সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের যুক্ত করায় রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের মতো যুক্তরাজ্যের ডেভিড ক্যামেরন সরকারের ক্যাবিনেট সেক্রেটারি জেরেমি হেউডের যুক্তি ছিল যে সিভিল সার্ভিস কোডে এমন কোনো বিধান নেই, যা সরকারকে রেফারেন্ডামের প্রচারণায় সিভিল সার্ভিসকে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে পারে।

তবে রেফারেন্ডাম–পরবর্তী সময়ের হাউস অব কমন্সের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড কনস্টিটিউশনাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির ‘লেসনস লায়ার্নড ফ্রম দ্য ইইউ রেফারেন্ডাম (২০১৭)’ শীর্ষক অনুসন্ধান রিপোর্টে বলা হয়, রেফারেন্ডামের প্রচারণায় সিভিল সার্ভিসের অংশগ্রহণ জনমনে অনাস্থার পরিবেশ তৈরি করেছিল।

জনগণ ধরেই নিয়েছিল যে ব্রেক্সিট রেফারেন্ডাম প্রশ্নে সিভিল সার্ভিস তথা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পক্ষপাতদুষ্ট। এমনকি ৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে সরকারের তরফ থেকে বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিতরণ করার ব্যাপারটিকেও এই রিপোর্টে সমালোচনা করা হয়েছিল।

ইলেকটোরাল রিফর্ম সোসাইটির জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, সরকারের এমন কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারকে বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের উৎস হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে জনআস্থা ১০ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশ হয়েছিল। বাংলাদেশের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষের সরকারি প্রচারণায় কোন খাত থেকে কত ব্যয় করা হচ্ছে, তা এখনো সুস্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন

৬.

পরিশেষে বলতে হয়, গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার একটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব আছে। সরকার যেহেতু কোনো রাজনৈতিক দল নয়, সেহেতু তার জন্য কোনো পক্ষ নেওয়া বেমানান। সরকারের কোনো কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেছেন, নিজের তৈরি করা ‘প্রোডাক্ট’ অর্থাৎ সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে তাঁদের বাধা কোথায়?

প্রশ্ন হলো, এই প্রোডাক্ট বা সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পরও যদি ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী শাসন ফিরে আসে, তাহলে এর প্রস্তুতকারক হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা ব্যক্তিরা কি কোনো দায়দায়িত্ব নেবে?

এটা সাধারণভাবে অনুমেয় যে অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ ভবিষ্যতে দলীয় সরকারে অন্তর্ভুক্ত হবেন না। এই সরকারের কেউই আসলে প্রচলিত অর্থে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। রাজনৈতিক দলগুলোকে নানাভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়। অথচ যাঁরা রাজনৈতিক দলের সদস্য নন, কিন্তু এখন সরকারে থেকে নানা সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন, তাঁরা কি জবাবদিহির বাইরেই থেকে যাবেন?

  • ইমরান আজাদ লেখক ও আইনের গবেষক

    *মতামত লেখকের নিজস্ব