অভিমত–বিশ্লেষণ
ভাষা নদীর মতো, তবে বুড়িগঙ্গার মতো নয়
ভাষা নদীর মতোই বটে; নদীকে শাসন, সংস্কার ও ব্যবহার করার এমন ভারসাম্যময় নীতি ও পদ্ধতি আমাদের হাতে নিতে হবে, যাতে নদী না মরে, নদীর সম্পদ ধ্বংস না হয় এবং এর ব্যবহার সবার জন্য সুগম থাকে। বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের ব্যবহার নিয়ে লিখেছেন আহমেদ শামীম
‘ভাষা নদীর মতো’ কথাটা ভাষার পরিবর্তনশীলতাকে স্বাভাবিক মনে করে সাদরে গ্রহণ করার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে বিদেশি ভাষা থেকে নেওয়া ঋণশব্দের ব্যবহারের ব্যাপারে। কিন্তু কথাটার ব্যাপ্তি আরও বেশি। নদীর মতোই ভাষা মরে যায়, যেমন লাতিন; আবার গতিপথ পাল্টে ফেলে নতুন ভাষা হয়, যেমন প্রাচীন গ্রিক থেকে আধুনিক গ্রিক। কিন্তু ভাষা কি বুড়িগঙ্গার মতো দূষিত হয়? বিশেষ করে যখন অল্প সময়ের মধ্যে বিদেশি শব্দের ঋণ বেড়ে যায়?
এ প্রশ্নে পরস্পরবিরোধী মতামত পাওয়া যায়। কেউ বলেন তাতে দোষ তো নয়ই, বরং ভাষার প্রকাশক্ষমতা বেড়েছে। এ পক্ষের মাধ্যমে শব্দগুলোর আমদানি হয়। অন্য পক্ষের মত হলো, কোনো বস্তু বা ভাব নির্দেশ করতে দেশি শব্দ না থাকলে তা ঋণ করা যেতে পারে। কিন্তু দেশি শব্দ প্রচলিত থাকার পরও বিদেশি শব্দ এনে তাদের প্রতিস্থাপন করা ভাষাদূষণই বটে। নদীর পানি দূষিত হলে ব্যবহারে অসুবিধা হয়, তেমনি নির্বিচার বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেড়ে গেলে সেই দুই পক্ষের ভাব আদান–প্রদানে সমস্যা দেখা দেয়।
অনুমেয় যে পক্ষদ্বয়ের নিজের মধ্যে ভাব বিনিময়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সে বাবদে বলা যায়, উপরিউক্ত তর্কটি আদতে প্রমিত ভাষায় বা আনুষ্ঠানিক ভাষায় নতুন শব্দযোগের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। অর্থাৎ তর্কটি বিদেশি ভাষার শব্দ জাতীয়করণ কিংবা রাষ্ট্রীয়করণ নিয়ে হয়ে থাকে, যেখানে বিভিন্ন পক্ষের একটি সাধারণ উপভাষার প্রয়োজন হয়।
বিভিন্ন ভাষার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, বিদেশি ভাষার শব্দগুলোকে সামাজিক ও বৈয়াকরণিক বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে এবং যোগ্যতা প্রমাণ করে তবেই একটি স্থানীয় ভাষায় জায়গা করে নিতে হয়। এই যোগ্যতা প্রমাণের প্রক্রিয়ার মধ্যে ভাষাভাষীদের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে একটা দর–কষাকষির ব্যাপার থাকে।
এই দর–কষাকষির কারণে শব্দগুলো সবার মধ্যে পরিচিতি লাভ করে এবং মানস অভিধানে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সেই সুযোগে স্থানীয় ভাষায় জায়গা করে নেওয়া শব্দগুলোর মধ্যে একাংশ দীর্ঘ জীবন লাভ করে, অন্যরা হারিয়ে যায়। যারা টিকে যায়, তাদের মধ্যে একটা অংশ বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, সার্বিকভাবে ব্যবহৃত হয় না।
অবশ্য বিশেষ ক্ষেত্রে তেমন দর–কষাকষির সুযোগ থাকে না, নির্বিচার ঋণ নিতে হয়, ফলে দূষণও ঘটে। যেমন কিছু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার ক্ষেত্রে ঘটেছে, আধিপত্যশালী প্রতিবেশী ভাষার দাপটে কয়েক প্রজন্মের মধ্যেই আদি ভাষার রূপ এমন পাল্টে যায় যে দাদার ভাষা নাতনি বোঝে না।
কিন্তু বাংলার বিভিন্ন যুগের রচনা দেখলে বোঝা যায়, বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের ঋণ নেওয়ার ব্যাপারটি তেমন নির্বিচার ঘটেনি। বিদেশি শব্দ বলে যে বর্গটি রয়েছে, তার একটি বড় অংশ ছাড়া বাংলা ভাষাকে আজ কেবল শ্রীহীন মনে হবে; তা–ই শুধু নয়, প্রকাশের ক্ষমতাও হারাবে।
এ অংশ বিভিন্ন পক্ষের সাধারণ যোগাযোগের ভাষায় আত্তীকৃত হয়ে গেছে। সব পক্ষের সাধারণ যোগাযোগের মাধ্যম এখন প্রমিত বাংলা। প্রমিত বাংলার শব্দভান্ডারের দ্বারে আরও অনেক নতুন বিদেশি শব্দ ঢোকার অপেক্ষায় আছে। ভাষাভাষীদের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে একটা দর–কষাকষিও চলমান।
২.
সম্প্রতি এমন একটি দর–কষাকষিতে জড়িয়েছে বাংলাদেশের সরকার, বিরোধী দল এবং সঙ্গে সচেতন নাগরিকেরা। সরকারপক্ষের একজন মন্ত্রীর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না বলার মধ্য দিয়ে এ তর্কের সূচনা হয়েছে। সবাই অবগত আছেন, স্লোগানটি গত ছাত্র-জনতার গণ–আন্দোলনে ব্যবহৃত জনপ্রিয় একটি স্লোগান।
চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ রাজনৈতিক পরিচয় পেছনে রেখে একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করেছে, ফলে তাদের দরকার ছিল একটি স্লোগান, যা সবাই ব্যবহার করতে পারে। সেই বিবেচনায় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ সবার কাছে জায়গা করে নিতে পেরেছিল।
একদিকে এর ঐতিহাসিক আবেদনও যেমন আছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে—বিশেষ করে হিন্দি-উর্দুভাষীদের মধ্যে—এখনো এর ব্যবহারযোগ্যতা রয়েছে; অন্যদিকে তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই স্লোগান বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি কোনো দল তাদের দলীয় স্লোগান হিসেবে আত্মসাৎ করেনি।
ফলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ জাতীয় রাজনীতিতে যোগ্যতার বলেই ঢুকতে পেরেছিল। কিন্তু টেকার যোগ্য আছে কি না, সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। টিকলেও তার ব্যবহার সার্বিক হবে, নাকি সীমিত ক্ষেত্রে আটকে থাকবে, তা–ও একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।
লক্ষণের দিকে থেকে বলা যায়, স্লোগানটি বাংলাদেশ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত ‘জয় বাংলা’র মতো সর্বজনীন হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত বলা দরকার, জয় বাংলার বিরোধিতা করেই ইনকিলাব জিন্দাবাদ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
কিন্তু জয় বাংলাও যেমন পরে একটি দলের পরিচয়বাহী স্লোগানে পরিণত হয়, ইনকিলাব জিন্দাবাদের ভাগ্যেও তা–ই ঘটতে শুরু করেছে। মাঝে ইনকিলাব মঞ্চ নামের একটি রাজনৈতিক মঞ্চের স্লোগান হয়ে ওঠে ইনকিলাব জিন্দাবাদ। এ ছাড়া গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিরও (এনসিপি) রাজনৈতিক স্লোগান হয়ে ওঠে ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
আবার আন্দোলনের একটি উল্লেখযোগ্য শরিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, তাদের দলের পরিচয়বাহী স্লোগান বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, তারা এখন ক্ষমতায়, তাদের পরিচয়কে তুলে ধরার তাগিদেই তাদের স্লোগানকে আবার সামনে আনছে। বাম দলগুলোর নিজ নিজ স্লোগান আছে, তাদের অনেকেই ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’-এ ফিরে গেছে। কেউ কেউ ইনকিলাব জিন্দাবাদকেও স্লোগানভান্ডারে জায়গা দিতে চাইছে এবং দিয়েছে।
ফলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ যদি টেকে, তাহলে দু–একটি রাজনৈতিক দলের স্লোগান হিসেবেই টিকবে। গত আন্দোলনে এর যে সর্বজনীনতা ছিল, সেটা থাকছে না। স্লোগানের ভাগ্যে এমনটা হওয়াই নিয়তি; কবীর সুমনের গানে এই সত্য ধরা পড়ে: ‘এভাবে স্লোগান বদলে হয়ে যায় ফিসফাস।’
৩.
তাহলে এখানে ভাষার বিদেশি শব্দ ঋণের প্রশ্ন এল কোত্থেকে? উত্তর হলো, ‘বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না’—এ বক্তব্যের বক্তা বিএনপি সরকারের একজন মন্ত্রী। এখানে অনেক জটিল বিষয় জড়িয়ে আছে।
প্রথমত, তিনি একজন নীতিনির্ধারক। ফলে আনুষ্ঠানিক বাংলা ভাষার রক্ষণাবেক্ষণ কেমন হবে, এর একটা ইঙ্গিত আসে তাঁর বক্তব্য থেকে। অন্যদিকে গত আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিরা এনসিপি গঠন করেছে এবং এই দল এখন বিরোধী দলের অন্যতম শরিক। ফলে নীতিনির্ধারণে তাদের দর–কষাকষির সুযোগ আছে।
অনুমেয় যে মন্ত্রী ইনকিলাব শব্দটিকে বাংলার সঙ্গে বেমানান বলে দাবি করছেন (জিন্দাবাদ তাঁর নিজের দলের স্লোগানেই আছে)। এ বক্তব্যের আবেদনে সাড়া পড়েছে সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে। একে তো কার্যত (মূলত আরবি) এটা উর্দু শব্দ, তার ওপর বলা হয়েছে ভাষা আন্দোলনের মাসে।
ফলে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা বনাম উর্দুর একটি অনুভূতি জাগানো গেছে। তার ওপর সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইদানীং জনপরিসরে উক্ত এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য কিংবা রচনায় নতুন নতুন আরবি–ফারসি শব্দের আমদানি নিয়ে অসন্তুষ্ট। সে অংশও এই ডাকে সরব হয়ে উঠেছে।
সেই সঙ্গে ‘আজাদি’, ‘নয়া বন্দোবস্ত’—এসব রাজনৈতিক পরিভাষাকে মূলধারায় কিংবা সাধারণ বাংলায় প্রবর্তন করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ‘ইনকিলাব’, ‘আজাদি’, ‘নয়া বন্দোবস্ত’–এর পক্ষের যুক্তি হলো, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এই শব্দগুলোকে বাংলা ভাষার সম্পদে পরিণত করেছে।
৪.
এখন প্রশ্ন হলো, ‘ইনকিলাব’, ‘আজাদি’, ‘নয়া বন্দোবস্ত’ ইত্যাদি কি বাংলার ভাষার সম্পদ নয়? অবশ্যই সম্পদ, কিন্তু এর ব্যবহার এখনো সীমিত এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রযোজ্য। ভবিষ্যতে সেই সীমা পেরিয়ে সার্বিকভাবে ব্যবহার্য হয়ে উঠবে কি না, তা আগাম বলা যায় না। শুধু বলা যায়, কাজটি কঠিন। এখানে শব্দের পরিবারের প্রতিরোধ আছে, শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের সংযোগে যে শব্দগুচ্ছ তৈরি হয়ে আছে, তাদের প্রতিরোধ আছে, সর্বোপরি রাজনৈতিক প্রতিরোধও আছে।
ধরা যাক ইনকিলাবের কথা। এর বাংলা প্রতিশব্দ ‘বিপ্লব’। এখন ‘বিপ্লব’ তো একা নয়, এর পরিবার নিয়ে বাংলা ভাষায় জায়গা করে নিয়েছে। যেমন বিপ্লবী, বৈপ্লবিক, বিপ্লবাত্মক, অতিবিপ্লবী, প্রতিবিপ্লবী ইত্যাদি। আবার বিপ্লব শব্দের নানা ব্যবহার আছে, যেমন কৃষিবিপ্লব, নীরব বিপ্লব, বেহাত বিপ্লব ইত্যাদি।
এখানে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ থেকে বেরিয়ে ইনকিলাব বিপ্লবকে কতটা প্রতিস্থাপন করতে পারবে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। অর্থাৎ ‘কৃষি ইনকিলাব’, ‘নীরব ইনকিলাব’ কিংবা ‘বেহাত ইনকিলাব’, একইভাবে অর্থনৈতিক মুক্তি বা দায়মুক্তির জায়গায় ‘অর্থনৈতিক আজাদি’ এবং ‘দায়-আজাদি’ কথাগুলো কতটা জনপ্রিয়তা পাবে, তা আগাম বলা যায় না। আবার একই শব্দের বিভিন্ন রূপের বিভিন্ন অর্থ তৈরি হয়।
প্রমিত বাংলায় ‘নতুন’ শব্দটির ব্যবহার সার্বিক এবং ‘নয়া’ শব্দটির ব্যবহার পরিপ্রেক্ষিতগত বা বিশেষ। তাই মান বাংলার লেখালেখিতে কিংবা বলাবলিতে ‘নতুন দিগন্ত’ যেমন সর্বক্ষেত্রে ব্যবহার হতে দেখা যায়, যেমন ‘নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা’ একটা শব্দগুচ্ছ বেশ ব্যবহার হয়; একই অর্থে ‘নয়া দিগন্ত’–এর ব্যবহার তেমনটা দেখা যায় না।
দিগন্তের মতো বন্দোবস্ত শব্দের বেশ ব্যবহার আছে; কিন্তু ‘নতুন বন্দোবস্ত’ স্থলে ‘নয়া বন্দোবস্ত’ ব্যবহার করায় তা দুটি কারণে তর্কিত হয়ে গেছে। একটি কারণ রাজনৈতিক। যেহেতু এটা ‘রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’, ফলে সেই বন্দোবস্তে কী আছে, তা নিয়ে বিরোধিতা হবে; আরেকটি ভাষিক, ‘নয়া’–এর স্থলে ‘নতুন’ বন্দোবস্ত বললে তর্কটি কেবল রাজনৈতিক পরিসরেই থাকত বলে মনে হয়।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ওই সব শব্দ প্রতিস্থাপন করতে গেলে বিশেষ বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যেগুলোর শিকড় বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে প্রোথিত। এর মানে এই নয় যে এই প্রতিরোধ সর্বস্তরে দুর্ভেদ্য করে তোলা বাংলা ভাষা ও ভাষীদের জন্য লাভজনক হবে। এটা সত্য যে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলা ভাষায় বহু আরবি-ফারসি শব্দ ঢুকে ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক রূপগুলোয় আত্তীকৃত হয়েছে। বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্য ফেরত বাংলাভাষীরা বাংলা ভাষায় নতুন আরবি শব্দ আনছে।
আরবি-ফারসি-উর্দুতে দক্ষ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের লেখালেখি-বলাবলিতে সংগতভাবেই সেসব ভাষার শব্দ আমদানি করছে বাংলা ভাষায়। ওয়াজ মাহফিলের মাধমে অনেক নতুন আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দ বাংলা ভাষায় প্রবেশ করছে।
এই শব্দগুলোর ব্যবহারকারীর সংখ্যা যত বাড়ছে, ততই ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে প্রমিত বাংলায় তাদের ক্রম অন্তর্ভুক্তির। সেই বিষয়েও উদার থাকতে হবে। কেননা, ভাষা নদীর মতোই বটে; নদীকে শাসন, সংস্কার ও ব্যবহার করার এমন ভারসাম্যময় নীতি ও পদ্ধতি আমাদের হাতে নিতে হবে, যাতে নদী না মরে, নদীর সম্পদ না ধ্বংস হয় এবং এর ব্যবহার সবার জন্য সুগম থাকে।
ড. আহমেদ শামীম ভাষাবিদ ও ভাষাশিক্ষক
মতামত লেখকের নিজস্ব