১০০ দিনে প্রধানমন্ত্রী: দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও অনুপ্রেরণার বার্তা

রাজধানীর যানজট নিরসন নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানছবি: প্রেস উইং

১৭ বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের বিদায়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জাগরণ, আবারও প্রাণবন্ত সংসদ—সব মিলিয়ে এক নতুন দিনের যাত্রায় বাংলাদেশ। নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নতুন হলেও রাজনীতিবিদ হিসেবে নতুন নন, কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণের কালেই তিনি হেঁটে বেড়িয়েছেন এ দেশের মাঠঘাট, জনতার সঙ্গে মিলিয়েছেন হাত।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান তাঁর ১০০ দিনের যাত্রায় কাজের বার্তা দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য তিনি রাতদিন পরিশ্রম করছেন। প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাঁর যুগান্তকারী পদক্ষেপ ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড শুধু তা–ই নয়, তিনি একজন দূরদর্শী ও সংবেদনশীল নেতা হিসেবেও কাজ করছেন।

খাল খনন, বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু জলবায়ু মোকাবিলায়। আমাদের মতো ছোট কিন্তু বিশাল জনঘনত্বের দেশে জলবায়ু ও পরিবেশকে এড়িয়ে কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না।

তিনি পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়েও তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি একজন সংবেদনশীল নেতা, এই অর্থে যে একজন সাধারণ নাগরিকের উদ্বেগকেও তিনি আমলে নিচ্ছেন। নিয়মিত পত্রিকা পড়ছেন। পত্রিকার রিপোর্ট দেখে প্রতিবেদককে ডেকে এনে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি একটি দেশ গড়তে চান, যে দেশটা সবার।

লি কুয়ান ইউ উপনিবেশ-পরবর্তী অনিশ্চয়তা ও দারিদ্র্য থেকে সিঙ্গাপুরকে অর্থনৈতিকভাবে দাঁড় করাতে পুরো জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। নেলসন ম্যান্ডেলা বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিশোধের বদলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে নিয়ে কাজ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিগেরু ইয়োশিদা জাপানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতির এক ক্রান্তিকালে দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশের অর্থনীতি ও শিল্পনীতির ভিত্তি স্থাপন করেন, পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং অনুপ্রেরণা তৈরি করেন।

এভাবে নেতারা জাতিকে অনুপ্রাণিত করেন। তারেক রহমান নিজে যেমন দিনরাত পরিশ্রম করছেন, তেমনি ঘরে-বাইরে, সরকারে, সংসদে, স্কুল-কলেজে এবং তরুণদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করছেন। প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন, প্রতিবন্ধী ছেলের উদ্ভাবনকে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা সবাই সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা ভেবে ফ্ল্যাট বা জমি কিনি। আসুন না, সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য একটি নিরাপদ দেশের কথাও ভাবি।’ দেশ নিরাপদ হয়ে গেলে সবার সন্তানের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়। তিনি দেশটিকে একটি বৃহত্তর পরিবারের ধারণায় দেখতে চান।

সরকারি অফিসগুলোতে সময়মতো কর্মকর্তাদের না পাওয়ার অভিযোগ বহু পুরোনো। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়ে নিজে সকাল ৯টায় অফিসে আসছেন। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে গোটা দেশের সরকারি অফিসগুলোতে। তিনি ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন। যা নাগরিকদের ট্রাফিক আইন মানতে উৎসাহিত করছে। ট্রাফিক বিভাগকে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারের নানা বিভাগে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার একটি জোরালো বার্তাও দিচ্ছে।

তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরিতে তিনি বেশ জোর দিচ্ছেন। তিনি তরুণদের কথা শোনেন, তাঁদের কথা ভাবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছিলেন। তিনি শুরুতেই বলেছিলেন, ‘আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সামনে বসে আছি।’ এটাই হলো তরুণদের প্রতি তাঁর মূল্যায়ন।

তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তর ছিল আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই আর চব্বিশ ছিল আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই।’ তিনি জাতিকে আবার অহেতুক বিভক্তি ও কুতর্ক থেকে মুক্তি দিয়ে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিলেন, গণতন্ত্রে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়।

আমরা ভয়ের সংস্কৃতি পার করে এসেছি। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী সবার কথা শুনতে চান, প্রশ্নও শুনতে চান; স্ক্রিপ্টেড প্রশ্ন নয়। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে একজন ভালো শ্রোতা হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী সম্পাদক ও প্রকাশকদের সঙ্গে বসেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এখানে কার কী রাজনৈতিক মতাদর্শ, সেটা কোনো বিবেচ্য বিষয় ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, আমাদের দ্বিমত হওয়ার জন্য একমত হওয়া জরুরি, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দীর্ঘদিন আমাদের জাতি হিসেবে নানা ইস্যুতে বিভক্ত করে রাখা হয়েছিল। জাতিগত ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান ঘটলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে অনেকেই একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছিল। এখানে তারেক রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন

তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তর ছিল আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই আর চব্বিশ ছিল আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই।’ তিনি জাতিকে আবার অহেতুক বিভক্তি ও কুতর্ক থেকে মুক্তি দিয়ে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিলেন, গণতন্ত্রে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়। নির্বাচনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়েছিলেন।

একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী সংসদ জরুরি। বিএনপি সরকার সংসদকে প্রাণবন্ত রাখতে এবং রাষ্ট্রের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে জোর দিচ্ছে। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দলকে দিতে চেয়েছিল বিএনপি। জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারি দল ও বিরোধী দল থেকে পাঁচজন করে সদস্যের সমন্বয়ে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্য অসুস্থ হলে প্রধানমন্ত্রী খোঁজ নিতে ছুটে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক সহমর্মিতার অংশ হিসেবে তিনি বিরোধী দলের ইফতারেও অংশ নিয়েছেন।

তিনি আমাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মূল্যবোধের গুরুত্ব মনে করিয়ে দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী যখন স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে দেখা করছেন, তখন তিনি শুধু পাঠ্যবই নয়, তাদের খেলাধুলা করতে বলছেন, ফোন ব্যবহার কম করে গল্পের বই পড়তে বলছেন। বই পড়ায় উৎসাহ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, রুচিশীল সংস্কৃতিচর্চা, দেশপ্রেম, নিয়মানুবর্তিতা, সমন্বয়, নিষ্ঠা—জাতি গঠনে এসব আমাদের তৈরি করতে হবে। তবেই প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন পূর্ণতা পাবে।

  • শাহাদাৎ স্বাধীন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব

    মতামত লেখকের নিজস্ব