এ দফায় আগুন নিয়ে খেলার পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ, প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ) স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের সম্ভাবনা নিয়ে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মার্কিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ক্রমে তিন নম্বর ব্যক্তি। এই কলাম যখন লিখছি, তখন পেলোসি এশিয়ার চারটি দেশ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানে তাঁর সফর শুরু করেছেন। পেলোসির দিক থেকে আগে ইঙ্গিত ছিল, এ সফরে তিনি তাইওয়ানে যাত্রাবিরতি করতে পারেন।

তিনি সেটা করলে ১৯৯৭ সালে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নিউট গিংরিচের ২৫ বছর পর আমেরিকার এত উঁচু পর্যায়ের কারও তাইওয়ান সফর হবে। অবশ্য পেলোসির এবারের সফরে তিনি তাইওয়ান যাবেন কি না, সেটা তাঁর অফিশিয়াল বিবৃতিতে নেই।

পেলোসির সফরকে ঘিরে চীন তাইওয়ানের কাছে বিশাল সামরিক মহড়া দিয়েছে। চীনের মূল ভূখণ্ড ও তাইওয়ানের মধ্যে শক্তি প্রদর্শন করেছে চীনা নৌবাহিনী। বিমানবাহিনী তাইওয়ানের কাছে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। তাইওয়ান একটা খুব বড় সামরিক মহড়া চালিয়েছে, যাতে সত্যিকারের গোলাবারুদ ব্যবহৃত হয়েছে।

চীন-আমেরিকার সম্পর্কের মিথস্ক্রিয়া আলোচনায় গ্রাহাম এলিসনের ‘ডেস্টিনড ফর ওয়ার: ক্যান আমেরিকা অ্যান্ড চায়না এসকেপ থুসিডাইডিস’স ট্র্যাপ’ বইটি সাম্প্রতিককালে খুবই আলোচিত। এ বইয়ে গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিসের বয়ানে একটি প্রাচীন ঘটনা তুলে আনেন এলিসন। সম্পদে ও রাজনৈতিক শক্তিতে বেশি শক্তিশালী স্পার্টার সামনে যখন এথেন্স মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছিল, তখন উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, শেষে এটি যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়। প্রতিষ্ঠিত শক্তি আর উদীয়মান শক্তির মধ্যকার এ সংঘাতের ইতিহাস অতি প্রাচীন

আমেরিকাও গত সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগরে ‘ইউএসএস রোনান্ড রেগান’ নামের রণতরি পাঠিয়েছে, যদিও ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপকে পূর্বপরিকল্পিত বলছে।

সি এবং বাইডেনের ফোনালাপের আগেই চীন আনুষ্ঠানিকভাবে পেলোসির সফর নিয়ে আমেরিকাকে চিঠি দিয়েছে। এমন চিঠির কথা স্বীকার করেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। পশ্চিমা নানা মিডিয়া সূত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, চিঠিটিতে নাকি তাইওয়ানে পেলোসির সফরকে কেন্দ্র করে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটা তো নিশ্চিত ১৯৯৭ সালের চীনের তুলনায় আজকের চীন একেবারেই আলাদা সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে।

এ মুহূর্তে পেলোসির তাইওয়ানে এ সফর সঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলে প্রকাশ্যেই বলেছেন বাইডেন। তবে দলগত পরিচয়ে ডেমোক্র্যাট হলেও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টকে এড়িয়ে স্বাধীনভাবেই নিতে পারেন। চীনের নানা আচরণ ও নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভীষণ কঠোর অবস্থান নেওয়া পেলোসি এ যাত্রায় তাইওয়ান যাবেন, এ সম্ভাবনা কম থাকলেও সবশেষে দেখা গেল উল্টোটা। তবুও সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত।

এখনকার আগুন নিয়ে খেলার আলাপ তাইওয়ান নিয়ে হলেও দক্ষিণ চীন সাগরে আগুন লেগে আছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে জ্বলা প্রধান আগুনটি নিয়ে আমি একাধিক কলামে আলোচনা করেছি, তাই সেই আলোচনা আজ আর করছি না। বরং আজ কথা হোক দক্ষিণ চীন সাগরে আরও যেসব ‘আগুন লাগিয়েছে’ চীন।

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের সঙ্গে ছয়টি দেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ আছে। ১৯৪০ সালের পর চীন ‘নাইন ড্যাশ লাইন’-এর মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সমুদ্রের যে মালিকানা দাবি করেছে, তাতে কার্যত পুরো (৯০ শতাংশ) সমুদ্র তাদের করায়ত্ত হয়। চীনের এ দাবি মানা হলে চীনের সমুদ্রসীমা তার মূল ভূমি থেকে দুই হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যায়। এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হচ্ছে চীনের সমুদ্রসীমা ঢুকে পড়ে অন্য দেশের দাবিকৃত সমুদ্রসীমার মধ্যেও। শুধু সেটাই নয়, এ সাগর পুরো নিজের কবজায় রাখতে চীন অনেকগুলো পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেগুলো এ সাগরে ‘আগুন লাগিয়ে’ দিয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরের স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জ থেকে চীনের দূরত্ব এর আশপাশের অন্য সব দেশের (ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম) চাইতে অনেক বেশি। কিন্তু ২০১৩ সালে চীন এ দ্বীপপুঞ্জে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই ভৌগোলিকভাবে এই দ্বীপপুঞ্জের অনেক কাছাকাছি থাকা ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম তার প্রতিবাদ করেছে। চীনের এ আচরণের গৌণ কারণ হচ্ছে এই দ্বীপপুঞ্জ এলাকা তেল-গ্যাস ও মৎস্যসম্পদে ভীষণ সমৃদ্ধ। চীনের মুখ্য উদ্দেশ্য, নিজের মূল ভূমি থেকে এতটা দূরে এসে কিছু ভূখণ্ডকে নিজের বলে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে চীনের পক্ষে দক্ষিণ চীন সাগরে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জে অনেকগুলো কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করার পর এটা নিয়ে সংকট তৈরি হয় এবং একরকম আমেরিকার চাপে তারা নতুন করে আর কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করেনি। চীন প্রতিজ্ঞা করেছিল, এসব দ্বীপকে তারা সামরিকায়ন করবে না। কিন্তু সে কথা রক্ষা করেনি তারা। তাদের কৃত্রিম দ্বীপগুলোতে সামরিক স্থাপনা, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, বিমানের রানওয়ে, নৌবাহিনীর ঘাঁটি তৈরি করার মতো বন্দর তৈরি করেছে চীন।

ভৌগোলিকভাবে বহু দূরের স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জই যে চীন কবজায় নিতে চায়, তারা তাদের ঘরের কাছে থাকা প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ চাইবে না কেন? এই দ্বীপপুঞ্জ থেকে একই দূরত্বে থাকা ভিয়েতনামের দাবিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে চীন এখানে বড় মাত্রায় সামরিকায়ন করছে। প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি দ্বীপেই চীনের সামরিক উপস্থিতি আছে। বিশেষ করে উডি দ্বীপে এয়ারস্ট্রিপসহ চীনের খুব বড় সামরিক ঘাঁটি আছে। শুধু সেটাই নয়, চীন এ দ্বীপকে কেন্দ্র করে বেসামরিক মানুষের বসবাস, পর্যটনসহ নানা বেসামরিক কার্যকলাপ চালাচ্ছে, যাতে এগুলোকে আত্মনির্ভরশীল দ্বীপ হিসেবে প্রমাণ করা যায়। এর মাধ্যমে এসব দ্বীপকে নিজের ভূখণ্ড দাবি করে সার্বভৌম এলাকা এবং নিরঙ্কুশ অর্থনৈতিক এলাকা (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) দাবি করতে পারবে চীন।

তবে ‘ল অব দ্য সি’র ভিত্তিতে জাতিসংঘের সালিসে স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জ, এমনকি প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত দ্বীপ উডি দ্বীপকে দ্বীপের আইনি সংজ্ঞায় প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি। এতে এগুলোকে চীনের ভূভাগ হিসেবে বিবেচনা না করার কারণে এর এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ভূমি থেকে ৩৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত সমুদ্র এলাকা) আইনগতভাবে চীন পাচ্ছে না। এটা পাওয়ার মানে হচ্ছে ওই এলাকায় সে দেশ খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মাছ ধরার একচ্ছত্র অধিকার পাবে।

২০১৬ সালে হেগের আদালত দক্ষিণ চীন সাগরের ওপরে চীনের একক কর্তৃত্বের দাবিকে নাকচ করে দেয়। আমরা নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছি, দক্ষিণ চীন সাগরের ওপরে চীনের আইনগত দাবি খারিজ হলেও চীন সেটা কেয়ার করছে না।

জাপানের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থান মনুষ্যবসতিহীন সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের। জাপানের নিয়ন্ত্রণাধীন এসব দ্বীপের মালিকানায় চীনেরও জোর দাবি আছে (চীনের ভাষায় ডাউইউ দ্বীপপুঞ্জ), জোর দাবি আছে তাইওয়ানেরও। জেনে রাখা ভালো, জাপানের সর্ব দক্ষিণ প্রান্ত ইশিগাকি দ্বীপ থেকে এর দূরত্ব ১৭০ কিলোমিটার, আর মেইনল্যান্ড চীন থেকে এর দূরত্ব ৩৩০ কিলোমিটার। মনুষ্যবসতি না থাকলেও এ দ্বীপপুঞ্জ যে দেশের অধিকারে যাবে, সে দেশ যে সমুদ্রসীমার অধিকারী হবে, মৎস্য ও খনিজ সম্পদে খুবই সমৃদ্ধ হবে। এই দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে চীন বারবার সংঘাতে জড়িয়েছে জাপানের সঙ্গে।

দক্ষিণ চীন সাগরের ‘স্কারবারো শোল’ জায়গাটি ফিলিপাইন থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে। ফিলিপাইনের চেয়ে তিন গুণের বেশি দূরত্বে থেকেও চীন এর মালিকানা দাবি করে। ২০১২ সালে ‘স্কারবারো শোলে’ চীনা মাছ ধরার জাহাজকে ফিলিপাইন নৌবাহিনী বাধা দেওয়ার জেরে দুই দেশ যুদ্ধাবস্থায় চলে যায়। এ ঘটনায় ফিলিপাইন প্রত্যাশা করলেও আমেরিকা ফিলিপাইনের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি কিছু নিন্দা জানানো ছাড়া। আমরা জেনে রাখব, ফিলিপাইন আক্রান্ত হলে তার পক্ষে সামরিকভাবে থাকার চুক্তি আছে আমেরিকার সঙ্গে।

চীনের হুমকি সত্ত্বেও পেলোসির তাইওয়ান সফর বেইজিংয়ের দিক থেকে একটা বড় বিজয় বলে প্রতিভাত হবে। এ বছরের শেষের দিকেই বাইডেন এবং সি দুজনেরই ‘ভাগ্যপরীক্ষা’ আছে। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরিস্থিতি নাজুক বলে মনে হচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে এবং আরও নানা কায়দায় দলের ভেতরে তাঁর মূল প্রতিপক্ষকে প্রায় নিঃশেষ করে দেওয়া সি আগামী সম্মেলনে আরেক টার্মের জন্য পার্টির সাধারণ সম্পাদক হয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখবেন, এটা প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিত। এ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে নেতাদের একজন জনগণের সামনে আর অপরজন পার্টির সামনে শক্তিশালী ভাবমূর্তি দেখাতে চাইবেন। এ কারণেই পেলোসি সত্যিই যদি তাইওয়ান চলে যান, তাহলে সির পক্ষ থেকে খুব আগ্রাসী বা আক্রমণাত্মক কিছু করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

দক্ষিণ চীন সাগরে নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে আগুন জ্বালিয়েছে চীন। আগুন নিয়ে দীর্ঘকাল খেলেছেও তারাই। বিশেষ করে সি চিন পিং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে চীন ভীষণ আগ্রাসীভাবে তার শক্তি প্রদর্শন করতে শুরু করেছে। ফিলিপাইনের ক্ষেত্রে বরং আমরা দেখতে পেয়েছি, আমেরিকাই চীনের আগুন নিয়ে খেলার জবাবে শান্ত থেকেছে। তার মানে এই না, আমেরিকা নিজেও এ খেলায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে না।

চীন-আমেরিকার সম্পর্কের মিথস্ক্রিয়া আলোচনায় গ্রাহাম এলিসনের ‘ডেস্টিনড ফর ওয়ার: ক্যান আমেরিকা অ্যান্ড চায়না এসকেপ থুসিডাইডিস’স ট্র্যাপ’ বইটি সাম্প্রতিককালে খুবই আলোচিত। এ বইয়ে গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিসের বয়ানে একটি প্রাচীন ঘটনা তুলে আনেন এলিসন। সম্পদে ও রাজনৈতিক শক্তিতে বেশি শক্তিশালী স্পার্টার সামনে যখন এথেন্স মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছিল, তখন উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, শেষে এটি যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়। প্রতিষ্ঠিত শক্তি আর উদীয়মান শক্তির মধ্যকার এ সংঘাতের ইতিহাস অতি প্রাচীন। লেখক উদাহরণ দিয়ে দেখান, প্রাচীনকাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে ১২টি ক্ষেত্রেই যুদ্ধ হয়েছে। তিনি যৌক্তিকভাবে আমেরিকা ও চীনের মধ্যে একটি ‘থুসিডাইডিসের ফাঁদ’ দেখতে পেয়েছেন। বলা বাহুল্য, চীন-আমেরিকার মধ্যকার এ ফাঁদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে নানাদিকে, ভবিষ্যতে যা আরও বাড়বে।

আমরা পছন্দ করি বা না করি, বৃহৎ শক্তিগুলো আগুন নিয়ে খেলে, খেলতে পছন্দ করে কিংবা খেলতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে কোনো দেশ যদি নিজের মতো করে বিশ্বব্যবস্থা গড়তে কিংবা টিকিয়ে রাখতে চায়, তাহলে তাদের আগুন নিয়ে খেলাটা অনিবার্য। এটা করা কতটা ভালো কিংবা কতটা খারাপ, সেটা ভিন্ন আলোচনা, তবে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় এটাই ঘটেছে, ঘটবে ভবিষ্যতেও।

ডা. জাহেদ উর রহমান ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন