উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জেলা শহরের যানজট নিরসনে চার লেনের সড়ক হচ্ছে, এটি নিঃসন্দেহে আনন্দের কথা। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর দশম জাতীয় সংসদের হুইপ ও গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সাংসদ মাহাবুব আরা বেগম সড়কের কাজ উদ্বোধন করেন। সে সময় বলা হয়েছিল, ২০১৯ সালের জুন মাস নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ হবে। এখন ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের শেষার্ধ। অর্থাৎ দুই বছর পার হতে চললেও সড়কের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র আধা কিলোমিটারের। ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের বাকি কাজ কবে শেষ হবে?

প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, অধিগ্রহণ করা জমি নিয়ে মামলা থাকায় সময়মতো কাজ শেষ করা যায়নি। পরিবর্তিত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২১ সালের জুন মাস। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্পের (রংপুর জোন) আওতায় চার লেন সড়কের কাজ করা হচ্ছে। চার লেন সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজতর এবং তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, পলাশবাড়ী উপজেলা থেকে গাইবান্ধা পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং গাইবান্ধা শহরের ডিসি অফিস থেকে পূর্ব পাড়া পর্যন্ত ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেন করা হচ্ছে। এসপির কার্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত মাত্র আধা কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ শেষ হয়েছে। বাস টার্মিনাল থেকে ১ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটারের নির্মাণ মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় বন্ধ রয়েছে। ১ নম্বর রেলগেট থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশে অধিগ্রহণ করা জায়গা থেকে বেশির ভাগ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য দেশে জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করেই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। আমাদের এখানে প্রকল্প হাতে নিয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ফলে প্রকল্প ঝুলতে থাকে বছরের পর বছর। এ কর্মসংস্কৃতির অবসান হওয়া প্রয়োজন। গাইবান্ধা চার লেন সড়ক প্রকল্পে দ্বিতীয় যে সমস্যাটি দেখা দিয়েছে, তা হলো সড়কের সীমানা দেয়াল ঘেঁষে দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা সরানো হয়নি। যদিও নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের সড়কের সীমানা দেয়ালের ৫ ফুট ফাঁকা রাখতে হয়। সেখানে কোনো স্থাপনা থাকলে ভেঙে দিতে হবে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাঁদের কেউ স্থাপনা সরানোর কথা বলেনি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলেছে, সীমানা দেয়ালের বাইরের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পৌরসভার, তাদের নয়।

যেহেতু সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে, সেহেতু তাদেরই এ বিষয়ে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। প্রয়োজনে তারা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেবে। সীমানা দেয়াল ঘেঁষে স্থাপনা থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকবে। সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টিও ভাবতে হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0