default-image

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে নিম্নমানের সার সরবরাহ করার প্রতিবাদে আন্দোলন চলছে প্রায় ছয় মাস ধরে। সর্বশেষ গত রোববার পাঁচ শতাধিক মানুষ কারখানাটির প্রধান ফটক দুই ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রেখেছিলেন। প্রতিবাদকারীরা কৃষক নন, তাঁরা ওই কারখানার সারের পরিবেশক বা ডিলার ও পরিবহনশ্রমিক। পরিবেশকেরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন এ কারণে যে তাঁরা নিম্নমানের সার কৃষকদের কাছে বিক্রি করতে পারেন না। আর তাঁরা কারখানা থেকে সার না নিলে ট্রাকচালকসহ পরিবহনশ্রমিকদের জীবিকার সমস্যা সৃষ্টি হয়।

আসলে ‘নিম্নমান’ বললে কম বলা হয়; জমাট বেঁধে পাথরের মতো শক্ত হয়ে যাওয়া সার ডিলারদের নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিন্তু কেন? সরকারি সার কারখানা কেন এ ক্ষতিকর কাজ করছে? ভেজাল ও নিম্নমানের সার বিক্রি করা তো ফৌজদারি অপরাধ।

যমুনা সার কারখানা ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ছিল। তখন প্রায় পাঁচ লাখ টন সার বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এত দিন ধরে সেই সার সরবরাহ চলে আসছে। এখন ২১ হাজার টন সার অবশিষ্ট আছে, কিন্তু তা জমাট বেঁধে গেছে। বস্তুত, এ সার আর জমিতে ব্যবহারের উপযোগী নেই। কৃষকেরা জানেন, এ সারে ফসলের উপকার তো হবেই না, বরং জমির উর্বরতা শক্তির ক্ষতি হবে। ছয় মাসের বেশি সময় আগে এ সার নষ্ট হয়ে গেছে; কিন্তু যমুনা সার কারখানার কর্তৃপক্ষ নিজেদের উৎপাদিত সারের সঙ্গে আমদানি করা এ নষ্ট সারও ডিলারদের নিতে বাধ্য করছে। ডিলাররা আমদানি করা সার না নিলে ওই কারখানায় উৎপাদিত সার তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না।

সর্বশেষ গত রোববার অবরোধ কর্মসূচির ফল হলো, প্রত্যেক ডিলারকে আগে ২০ বস্তা করে আমদানি করা সার নিতে হতো, এখন নিতে হবে ১৫ বস্তা করে। অর্থাৎ জমাট বাঁধা সার নেওয়া থেকে ডিলারদের মুক্তি ঘটল না। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলেছে, ওই সার শোধন করে সরবরাহ করা হবে। অর্থাৎ জমাট বাঁধা সার ভেঙে গুঁড়ো করে দেওয়া হবে। কিন্তু সরিষাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো জমাট বাঁধা সার ভেঙে গুঁড়ো করলে তার গুণগত মান ফেরে না, বরং ওই সার জমির উর্বরতা শক্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

জমির জন্য ক্ষতিকর সার ডিলারদের নিতে বাধ্য করা উচিত নয়, এটা অনৈতিক। আমরা মনে করি, মেয়াদোত্তীর্ণ জমাট বাঁধা সার যেটুকু অবশিষ্ট আছে, তা বিক্রির অযোগ্য ও পরিত্যক্ত হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন