ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি চালু রাখতে সরকার যে ১২ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে এই প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়। আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ প্রতিষ্ঠিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র জনগণের মধ্যে পাঠাভ্যাস বাড়াতে বহু বছর ধরে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু এই প্রকল্পের বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সহায়তার মেয়াদ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হচ্ছে।
ফলে, প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সংশয় দেখা দিয়েছিল, সরকারের সিদ্ধান্তে তা কেটে যাবে আশা করি। আনন্দের খবর হলো, সংস্থাটি নিজেই ১৯ কোটি চার লাখ টাকার এই প্রকল্পে ছয় কোটি ৫৩ লাখ টাকার জোগান দিচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একটি মহৎ উদ্যোগে সরকার ও বেসরকারি সংস্থার অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি চালু রাখতে টাকা দেবে সরকার দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সর্বস্তরে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস ব্যাপকভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে জন-উদ্যোগে পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হতো, এখন আর তেমনটি দেখা যায় না। বিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠ্যক্রমের বাইরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগও লক্ষ করা যায় না। সে ক্ষেত্রে সেরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরি বা ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিই ভরসা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কেবল তরুণদের পাঠাভ্যাস বাড়ানোর উদ্যোগই নেয়নি, শিল্প-সাহিত্য ও ললিতকলার সব শাখায় তরুণ প্রজন্মকে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্প্রসারিত কর্মসূচিতে পাঠক যাতে ঘরে বসে বই পড়তে পারেন, সে জন্য ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের বইগুলোর ই-সংস্করণ করা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বইয়ের সংস্করণ চালু করেছে, যাতে মুদ্রিত বইয়ের চেয়ে কম মূল্যে পাঠক বই পড়তে পারেন। আমরা এই প্রকল্পের সাফল্য কামনা করি এবং সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।