default-image

রেলওয়ে হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহন। কিন্তু স্বাধীনতার পর প্রতিটি সরকার গরিববান্ধব এই পরিবহনের ওপর ক্রমাগত অবহেলা দেখিয়ে আসছে। একপর্যায়ে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় তুলে দিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একীভূত করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রেলওয়ে নামে আলাদা মন্ত্রণালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। রেলওয়ের ‘কালো বিড়ালও’ মারা যায়নি।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের পরিবহনব্যবস্থা মোটামুটি স্বাভাবিক হলেও এখনো ৯২টি মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চালু হয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনাগ্রহের কারণে। করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় দুই মাস যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকা, পরে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে ট্রেন পরিচালনা এবং লোকালসহ কিছু ট্রেন চালু না করায় আয়ও কমেছে। গত পাঁচ মাসে রেলের আয় কমেছে ৫২ শতাংশ। যাত্রী কমেছে ৬২ শতাংশ।

রেলওয়ের সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৩৫৯টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে আন্তনগর ট্রেনের সংখ্যা ১০৪টি। ঢাকা-কলকাতা পথে চলে চারটি ট্রেন। বাকি সব কটি মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন হিসেবে চলাচল করে। করোনার সংক্রমণ শুরু হলে মার্চের শেষের দিকে সব যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ আন্তনগরসহ বেশির ভাগ ট্রেন চালু হলেও লোকাল ট্রেনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির আগে ময়মনসিংহ-ভৈরব পথে চারটি লোকাল ট্রেন চলাচল করত। মার্চে বন্ধ হওয়ার পর সেগুলো আর চালু হয়নি। অথচ ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার ২২টি স্টেশনের মাধ্যমে এসব লোকাল ও মেইল ট্রেনে যাতায়াত করত লাখো মানুষ। একই অবস্থা ময়মনসিংহ-জামালপুর, ভৈরব-আখাউড়া, চট্টগ্রাম-চাঁদপুরসহ আরও কিছু পথে।

বিজ্ঞাপন

গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রেল যাত্রী পরিবহন করেছে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ। গত বছর একই সময়ে যাত্রী পরিবহন করে ৩ কোটি ৬৬ লাখের বেশি। লোকসানের অজুহাতে লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখার কোনো যুক্তি নেই। রেলওয়ে বছরে দুই হাজার কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে, যার খুব সামান্যই লোকাল ট্রেনে। ট্রেন বন্ধ করে লোকসান কমানো যাবে না। বরং ট্রেনের সেবার পরিধি বাড়ালে আয়ও বাড়বে। অভিযোগ আছে, লোকাল ট্রেনের অনেক যাত্রী টিকিট ছাড়া চলাচল করেন। এর প্রতিকারে কর্তৃপক্ষ আগাম ও মেয়াদি টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারে

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ার কারণ হিসেবে লোকবল ও ইঞ্জিন ঘাটতির কথা বলেছেন। এত বছর পরও কেন রেলওয়েতে লোকবল ও ইঞ্জিন ঘাটতি? রেলওয়ের সমস্যা লোকাল ও কমিউটার ট্রেন নয়, সমস্যা হলো ব্যবস্থাপনার। রেলওয়ের দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করতে পারলে রাষ্ট্রীয় এই পরিবহনটিকে লোকসানের বোঝা বইতে হবে না।

অবিলম্বে রেলওয়ের বন্ধ থাকা লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন চালু করা হোক।

মন্তব্য করুন