বিশেষ সাক্ষাৎকার: রণবীর সমাদ্দার

পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন সাম্প্রদায়িক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে

রণবীর সমাদ্দার ভারতের খ্যাতনামা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন–পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে তাঁর এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয় ৩ জুন। এতে এসেছে বহুল আলোচিত ককরোচ পার্টির প্রসঙ্গও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলতাফ পারভেজ, স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্যমাজহার জীবন

প্রথম আলো:

পশ্চিমবঙ্গের ভোট বাংলাদেশকে বেশ নাড়া দিয়েছে। এই ফল কি এই রাজ্যে সমাজজীবনের বড় কোনো মোড়বদল, নাকি গতানুগতিক এক দলের বদলে আরেক দলের আসা?

রণবীর সমাদ্দার: ফলাফলে একটা বিস্ময় নিশ্চয়ই তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এ রকমই হওয়ার কথা ছিল। তবে এঁরা কেউ আগে সেটা বলেননি, এখন বলছেন। সমাজে অবশ্যই বিস্ময় ও আকস্মিকতা আছে ফল নিয়ে। লোকে এর উত্তর খুঁজছেন। পরিবর্তনের গভীরতা বুঝতে চাইছেন।

আসলে সমাজের ভেতর যেসব পরিবর্তন আগে থেকে হচ্ছিল, তার একটা যুক্তিসংগত পরিণতিই বোধ হয় হলো। এটা সমাজের ভেতরে অনেক দিন ধরে চলমান কিছু মৌলিক পরিবর্তনের ফল। সংঘবদ্ধ কৃষিসমাজ ও শিল্পব্যবস্থার ভাঙনেরও ফল এটা।

ভাসমান শ্রমিকেরা এখন বড় এক জনগোষ্ঠী। কৃষি ও শিল্পে পুরোনো কাঠামোগত ধরন আর নেই। বিপুলসংখ্যায় অসংগঠিত আধা সর্বহারাদের রাজ্য এখন পশ্চিমবঙ্গ। এই পরিবর্তন কেবল মতাদর্শ দিয়ে ধরা যাচ্ছে না।

নতুন শাসকেরা নতুন এই সামাজিক বিন্যাসে কর্তৃত্ববাদ, জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করছে। সঙ্গে ব্যাপকভাবে জুড়ে নেওয়া হয়েছে ধর্ম। ক্ষমতা শেষমেশ এদের হাতে চলে এল। ফলে এর মধ্যে আকস্মিকতা আছে, আবার নেইও। এর সঙ্গে নির্বাচনে আমলতন্ত্র, বিভিন্ন বাহিনী, এসআইআর, নির্বাচন কমিশনের প্রবল ভূমিকা তো ছিলই।

প্রথম আলো:

নির্বাচনে সাম্প্রদায়িকতার ভূমিকা কতটা ছিল?

রণবীর সমাদ্দার: সাম্প্রদায়িকতার ভূমিকা আছে। ‘সনাতনী জাতীয়তাবাদ’–এর একটা চাপ তো ছিলই। তবে সেটা অন্য প্রবণতাগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে, যেসব প্রবণতার কথা আগে বললাম।

ধর্মীয় মেরুকরণ একটা ঘটেছে, কিন্তু অনেকগুলো ফ্যাক্টর একসঙ্গে মিশে পরিবর্তনটা হলো। সেসব সম্মিলিত শক্তি ও উপাদানের মোকাবিলায় অন্যরা ছিল দুর্বল। শুধু সাম্প্রদায়িকতায় পরিবর্তন হলে আগের নির্বাচনেই হতো। এবার অনেকগুলো উপাদানের সঙ্গে বিজেপির প্রচারের জোরও ছিল অনেক শক্তিশালী।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

এবারের নির্বাচনে কর্তৃত্ববাদী ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের বিস্তারের কথা বললেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন এঁদেরও রাজ্য। তাহলে এটাকে একটা মোড়বদল বলতেই পারি আমরা।

রণবীর সমাদ্দার: আমরা এখন দেখছি রাজনৈতিক পরিবর্তনটা; কিন্তু সামাজিক পরিবর্তন তো ঘটছিলই। সেটা শুরুতে বলেছি। তা ছাড়া বাংলা কিংবা যুক্ত বাংলার ইতিহাস যদি দেখি, এটা সমন্বয়বাদীদের পাশাপাশি বহু দাঙ্গারও জায়গা। কলকাতায় কি ভয়াবহ দাঙ্গা হয়নি?

দেশভাগের সেই কুখ্যাত দাঙ্গায় সরকারি হিসাবেই তো প্রায় ৫ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এখনো কি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা হয় না? সবই তো আমাদের ‘ঐতিহ্য’। আমরা বাংলায় এসব পরম্পরার মধ্যেই আছি। আমরা অনেক সময় চোখ বুজে থাকি। রাজনীতির একটা ভদ্রলোকি চেহারা গেঁথেছিল আমাদের মধ্যে।

রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, রামকৃষ্ণ—সবই নিশ্চয়ই আমাদের। হ্যাঁ, অন্য ধর্মকে হয়তো ধাক্কা মেরে সরানো হয়নি এখানে, কিন্তু উল্টোটাও তো ছিল এবং আছে। গত শতাব্দীগুলোর বাংলার জ্ঞানালোকের প্রতীকদের সামনে বাঁ পাশে রাখলেও ‘ভদ্রলোক সমাজ’ সেটাকে গণসংস্কৃতি করতে পারল বলে মনে হচ্ছে না। তারও প্রকাশ এই ফল।

আগে বাংলার জাতীয়তাবাদ উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী যে চরিত্রের ছিল, এখনকার জাতীয়তাবাদ তার চেয়ে ভিন্ন। এটা অনেক বেশি জাতিবাদী, রাষ্ট্রবাদী এবং ধর্মমিশ্রিত এই জাতীয়তাবাদ। নিচুতলার মানুষ এই ‘পরিচয়’কে ধারণ করে নিচ্ছে। খেয়াল করে দেখুন, সমাজের মধ্যে দরিদ্র সমাজের চাওয়া-পাওয়াকে ধর্মীয় আবরণ পরানো হচ্ছে কতটা। এই নতুন রাজনীতির পদাতিক বাহিনী কিন্তু নিচুতলার মানুষও।

প্রথম আলো:

এই নির্বাচনের ভবিষ্যৎ সামাজিক ফলাফল কী হতে পারে?

রণবীর সমাদ্দার: অসংগঠিত বিপুল মানুষের নতুন এক মতাদর্শের দিকে যাত্রা ঘটছে বলতে পারেন। এর বাইরে পশ্চিমবঙ্গকে কাঠামোগতভাবে পুনর্গঠিত করার একটা আয়োজনও হতে পারে। আইন, শাসন, বড় শিল্প ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে সেসব চেষ্টা হতে পারে।

নতুন শাসকগোষ্ঠী সেসব বিষয়ে কতটা সফল হবে, সেটা এখনই বলা যাবে না। নতুন শাসকেরা যেটা বারবার বলছে, পশ্চিমবঙ্গের অসংগঠিত চেহারা পাল্টাতে হবে, সেটায় তারা কিছু তো করতে চাইবে। একটা কর্তৃত্ববাদী পরিবেশ, একচেটিয়াত্ব, কেন্দ্রীভূত আমলাতান্ত্রিকতা—এসব আসবে।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

পশ্চিমবঙ্গসহ বিশের অধিক রাজ্যে বিজেপি বা তাদের জোট ক্ষমতায়। তাহলে কি বলা যায়, ২০২৯–এর লোকসভা নির্বাচনেও তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি। ২০৩৫ পর্যন্ত তারাই থাকছে?

রণবীর সমাদ্দার: তাদের যে জোর দেখা যাচ্ছে, তাতে আপনারা সে রকম ভাবতে পারেন। অসংগত ভাবনা নয় এটা। তবে সব পরিবর্তন জানিয়ে হয় না। অনুমান করা পথে হয় না। পরিবর্তনের কাছাকাছি শক্তি বিজেপিবিরোধীদেরও আছে।

সামনে একসঙ্গে প্রাদেশিক ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের কথা উঠছে। বিরোধীরা সেসব কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা দেখা দরকার। তবে এখনকার শক্তির সমীকরণে আজকের শাসকদের পরাস্ত করা কঠিন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ছবি: রয়টার্স
প্রথম আলো:

পশ্চিমবঙ্গের এই যে নির্বাচনী ফল, এটা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব রাখবে বলে আপনার অনুমান? সীমান্তে ইতিমধ্যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে।

রণবীর সমাদ্দার: প্রভাব-প্রতিক্রিয়া তো হবেই। বড় আকারে হবে। প্রতিটি দেশের নির্বাচনের প্রভাব পাশের দেশে পড়ে। বাংলাদেশের ২০২৪–এর পরিবর্তনের প্রভাবও পড়েছে এখানে।

বড় দেশ হিসেবে ভারতে পরিবর্তনের প্রভাব হয়তো আশপাশে বেশি পড়ে। এ রকম প্রভাব শুধু পররাষ্ট্রনীতি নয়, আরও নানান ক্ষেত্রে পড়ে ও পড়বে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রদায়িক সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়বে বৈকি।

খারাপ যেটা ঘটবে, সব জায়গায় সংখ্যালঘুদের নিজেদের প্রমাণ করতে হবে তারা দেশকে ভালোবাসে, তারাও সমান জাতীয়তাবাদী। সংখ্যালঘুদের এই যে ক্রমাগত পরীক্ষা দিয়ে যাওয়া—এটা শেষ হবে না, বাড়বে। এ ধরনের ‘গণতন্ত্রে’ সংখ্যালঘুকে এভাবে পরীক্ষায় থাকতে হয়।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর একটা অভিনব বিষয় দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আরেক খবরে দেখা গেল, যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্তাব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গ সফর করবেন। এসব কি এই রাজ্যের বিশেষ গুরুত্বের কথা জানাচ্ছে?

রণবীর সমাদ্দার: এগুলো আওয়াজধর্মী ব্যাপারও হতে পারে। এখানে কি ওরা বাড়তি পুঁজি বিনিয়োগ করবে? এখানকার বন্দরের ভূমিকা কি আরও বাড়বে? দেখা যাক। এসব সম্ভাবনাকে সন্দেহের সঙ্গেই গ্রহণ করি। ডিজিটাল সেক্টর ছাড়া অন্য খাতে বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বাড়তি পুঁজি আছে কি আর? তারা সারা বিশ্ব থেকে নিচ্ছে কেবল।

খেয়াল রাখতে হবে, ভারতের একটা দায় আছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার। ঘরের কাছে যে হাতি আছে আমাদের, সেই গণচীনের কারণে সেটা ঘটে। চীন-রাশিয়ার মৈত্রীও একটা বড় ব্যাপার। ফলে ভারত সব উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায়।

এই ‘ভালো সম্পর্ক’–এর সূত্রে অর্থনীতি কীভাবে লাভবান হবে, সে ব্যাপারে স্বচ্ছ কোনো ধারণা মিলছে না; বরং অর্থনীতির নিয়মে চীনের দিক থেকে বিনিয়োগ আসতে পারত। ভারত কি তার জন্য সম্মত?

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো ভূরাজনৈতিক ভূমিকা এই অঞ্চলে আপনি দেখেন কি না?

রণবীর সমাদ্দার: বঙ্গোপসাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগর—পুরো এলাকা এখন ভূরাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসছে। কিন্তু তাতে ভারতের পূর্বাঞ্চলে কি আর্থিক উন্নতি হচ্ছে? সামরিক ও কূটনীতিক গুরুত্ব ও আসা-যাওয়া হয়তো বাড়ছে। সেসব দেখতে অনেক বড় মনে হয়। জনগণের অর্থনীতির স্বার্থের জায়গায় এসবের সারবস্তু কি উল্লেখযোগ্য কিছু?

প্রথম আলো:

পশ্চিমবঙ্গ, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সর্বত্র নির্বাচনী ফলে ও সমাজে নতুন যেসব শক্তির উত্থান ঘটছে, এর মধ্যে বাড়তি কী বার্তা আছে?

রণবীর সমাদ্দার: সমাজের গভীরে অনেক পরিবর্তন ঘটছে এই পুরো অঞ্চলে। বাংলাদেশের কথাই ধরুন। যে বাংলাদেশে একসময় ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মতো দল শক্তিশালী ছিল, কৃষক জাতীয়তাবাদের যে গৌরবোজ্জ্বল উত্থান ছিল, এখন তো সে রকম শক্তিগুলো নেই। পশ্চিম বাংলা তখন বাংলাদেশের কৃষক জাতীয়তাবাদের বিষয়গুলো থেকে শিখত।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়কার জাতীয়তাবাদী উত্থান পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মনোযোগ কেড়ে নিয়েছিল। সেসব তো শেষ হয়ে গেছে। পশ্চিমবাংলার বামপন্থী ও বৈপ্লবিক ঐতিহ্যই–বা গেল কই? পাকিস্তানেও একসময় রুটি-কাপড়া-মাকান ছিল জনপ্রিয় স্লোগান। এখন কি আর আছে তা?

আসলে ওই যে বৈপ্লবিক ও প্রগতিশীল তরঙ্গ, যারা সমাজকে বদলাতে চেয়েছিল, সেটা যখন ব্যর্থ হলো, তখন প্রতিবিপ্লব ও প্রতিক্রিয়ার শক্তির উত্থান ঘটল। আপাতত এটাকে আকস্মিক ব্যর্থতা ও মোড়বদল মনে হচ্ছে। কিন্তু বেশ অনেক সময় ধরে এটা হচ্ছিল।

এর মোকাবিলায় একটা নতুন রাজনীতির প্রয়োজন। কোথাও কোথাও চর্চা হচ্ছেও। শ্রীলঙ্কায় দেখছি এখনকার শাসকেরা তামিল ও সিংহলি সমস্যার সমাধানে নতুন করে ভাবছে। অন্যান্য দেশেও হয়তো অনেকে চেষ্টা করবে। কী দাঁড়ায় দেখতে হবে।

প্রথম আলো:

পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন ওখানকার বাঙালির জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো পরিবর্তন আনবে কি?

রণবীর সমাদ্দার: বাঙালির জীবনে এর বড় প্রভাব পড়বে অবশ্যই। বাঙালি ভদ্রলোক সমাজের যে উদারনৈতিক আবহ, তার যে বুদ্ধিজীবিতা, ঊনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণকে ধারণ করার ভাবভঙ্গি, ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে বাইরের জীবনে ধর্মবিশ্বাস ও সেক্যুলারিজমের অদ্ভুল মিশেল, ছেলেমেয়েদের বিদেশে পাঠিয়ে এখানে সমাজবদলের সক্রিয়তা—এ রকম একটা মডেলের ইতি ঘটছে।

শহুরে মধ্যবিত্তের ওই মডেলে ভেজাল ছিল। সবাইকে নিয়েও থাকব, আবার আমি নিজে নিজের মতোও থাকব—এই জীবনধারা বড় এক ধাক্কা খেল। তাদের এই ‘সবাইকে নিয়ে থাকা’র মধ্যে প্রচ্ছদতুল্য ব্যাপার ছিল—মরিয়া চেষ্টা ছিল না। সংখ্যালঘু হয়তো শান্তিতে ছিল, কিন্তু তাকে সংখ্যালঘুর মতোই রেখে দেওয়া হতো। তাদের ঠিকঠাক নাগরিক করা হয়নি।

বাংলার লোকায়ত জীবন অবশ্য সে রকম ছিল না। যদিও শহুরে মধ্যবিত্তের আসন্ন পরিবর্তন লোকায়ত জীবনেও পড়বে। সেখানে পকেটে পকেটে গোষ্ঠীগত ও সাম্প্রদায়িক পরিচয় হয়তো মুখ্য হয়ে উঠবে। নানান জনজাতি তার ধর্ম ও জাতি পরিচয়কে আরও জোরে আঁকড়ে ধরবে। বিহার, উত্তর প্রদেশেও পুরোনো সমাজবাদী আন্দোলনের ইতি ঘটার পর এ রকম ঘটেছে।

পশ্চিমবঙ্গ এত দিন ওই সব অঞ্চলের চেয়ে নিজের স্বাতন্ত্র্য ধরে রেখেছিল। সেটা আর থাকছে না। শহর-গ্রাম উভয় পরিসরে এই নতুন ধারার পরিবর্তনে এখানে বাজার-সম্পর্ক আরও জাঁকিয়ে বসবে, মুখ্য হয়ে উঠবে। নিম্নবর্গের আয়তন হয়তো আরও বড় হবে। তাদের জীবনযাত্রায় অনেক পুনর্বিন্যাস ঘটবে।

প্রথম আলো:

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর হঠাৎ ভারতজুড়ে ককরোচ পার্টির উত্থান দেখা গেল। এটা কি নতুন সময়ের কোনো রাজনৈতিক ইঙ্গিত দেয়?

রণবীর সমাদ্দার: নেপাল, বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার মতো এ দেশেও কি তরুণদের আন্দোলন শুরু হলো? এখনই বলা কঠিন। তবে সামাজিক অসন্তোষের একটা বহিঃপ্রকাশ তো বটেই।

এই শ্লেষাত্মক ভঙ্গিও নজরকাড়ার মতো। দেশজুড়ে শিক্ষায় অসাম্য এবং অব্যবস্থা নিয়ে বলার তো রয়েছেই। এ নিয়ে সমাজের ভেতর থেকে কথা ওঠা উচিত। সেদিক থেকে ওঁদের এই উদ্যোগ স্বাগত। তবে পরে কোন দিকে যাবে, এখনই বলা যায় না।

প্রথম আলো:

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রণবীর সমাদ্দার: আপনাদেরও ধন্যবাদ।