জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্প কি স্বচ্ছতা হারাচ্ছে

বিশ্বের ২২টি দেশে পুরোনো জাহাজ ভাঙা হয়। এসব দেশের মধ্যে কয়েক বছর ধরে শীর্ষ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।ফাইল ছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বা শিপ রিসাইক্লিং শিল্প বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়েই গভীর নজরদারির মধ্যে রয়েছে। একদিকে এই খাত দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের ইস্পাতের বড় একটি অংশ এই শিল্প থেকেই আসে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এর ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকের নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রকব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে এই শিল্প। বাংলাদেশ যখন বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাজারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে, তখন কেবল প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূরণ করাই যথেষ্ট নয়, বরং সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি ও স্বাধীনতা।

২০১৮ সালের শিপ রিসাইক্লিং অ্যাক্ট অনুযায়ী, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের লাইসেন্স প্রদান, তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও আইন প্রয়োগের জন্য বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসআরবি) গঠন করা হয়। একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে শিল্প আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ ছিল।

তবে আইনের একটি কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ক্রমেই শাসনব্যবস্থাগত উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। তা হলো, নিয়ন্ত্রিত শিল্পের প্রতিনিধিদেরই নিয়ন্ত্রক বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যখন জাহাজভাঙা ইয়ার্ডের মালিকেরা লাইসেন্সিং, পরিদর্শন, মানদণ্ড নির্ধারণ বা আইন প্রয়োগ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশ নেন, যা সরাসরি তাদের নিজস্ব ব্যবসা বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তখন স্বার্থের সংঘাতটি ব্যক্তিগত নয়, বরং কাঠামোগত হয়ে দাঁড়ায়।

আইন অনুযায়ী, মোট ১৪ সদস্যের বোর্ডে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডের মালিকদের পক্ষ থেকে তিনজন প্রতিনিধি থাকেন। সেখানে শিপ রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিও অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে বোর্ড সভার জন্য কোরাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র চার সদস্য। এই কাঠামো সাংবিধানিক নীতি, প্রশাসনিক আইন, আন্তর্জাতিক শাসনমান এবং বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের প্রত্যাশার আলোকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দেয়।

কোরাম–সংক্রান্ত বিধানটি একটি সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। যেহেতু বৈধ সভার জন্য মাত্র চারজন সদস্য প্রয়োজন, তাত্ত্বিকভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে তিনজন শিল্প প্রতিনিধি এবং আরও একজন সদস্য মিলে বোর্ডের বৈঠক সম্পন্ন করতে পারেন এবং সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন। বাস্তবে এমনটি কখনো ঘটুক বা না ঘটুক, কাঠামোগতভাবে এই সম্ভাবনা থেকেই যায় যে নিয়ন্ত্রিত শিল্পের প্রতিনিধিরা নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তে অসম প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

এ পরিস্থিতিকে শাসনব্যবস্থা–বিষয়ক গবেষণায় প্রায়ই রেগুলেটরি ক্যাপচার বলা হয়। এর অর্থ এই নয় যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে অনিয়ম করছে। বরং এটি এমন এক অবস্থা, যেখানে নিয়ন্ত্রক ও নিয়ন্ত্রিত পক্ষের মধ্যকার সীমানা অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রকের ওপর শিল্পের প্রভাব বেড়ে যায়।

এতে জনসাধারণের আস্থা দুর্বল হতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণের অগ্রাধিকার বৃহত্তর জনস্বার্থ থেকে সরে গিয়ে নির্দিষ্ট স্বার্থগোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকতে পারে। বিশেষ করে পরিবেশ সুরক্ষা ও শ্রমিকের নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রকের দৃশ্যমান নিরপেক্ষতা বাস্তব প্রয়োগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

নদীর পাশে শিপিং লাইন ডকে এভাবেই চলে জাহাজ মেরামতের কাজ। টুংটুং, ঠকঠক শব্দের তালে নৌযানের ত্রুটি মেরামত, নতুন রঙে চকচকে হয়ে আবার ফিরে আসে নদী কিংবা সাগরে। বুড়িগঙ্গা নদীসংলগ্ন শিপিং লাইন ডক। ছবিটি সম্প্রতি তোলা
ছবি: মো. আল-আমিন মাসুদ

বাংলাদেশের সংবিধানিক কাঠামোয় আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ন্যায়বিচার ও জনজবাবদিহির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ আইনের দৃষ্টিতে সমতার নিশ্চয়তা দেয় এবং ৩১ অনুচ্ছেদ নাগরিকদের আইনগত ও ন্যায্য আচরণের অধিকার নিশ্চিত করে। যখন কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যেই নিয়ন্ত্রিত শিল্পের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা পান, তখন সব অংশগ্রহণকারী সমানভাবে তদারকির আওতায় থাকছেন কি না, সে প্রশ্ন ওঠে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ হলো ২১, যেখানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগকারী ব্যক্তিদের দায়িত্ব হলো প্রজাতন্ত্র ও জনগণের সেবা করা। একটি আইনগত নিয়ন্ত্রক বোর্ডের সদস্যরা নিঃসন্দেহে জনক্ষমতা প্রয়োগ করেন। ফলে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক স্বার্থসম্পন্ন ব্যক্তিদের এমন প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ব্যক্তিগত প্রণোদনা এবং জনস্বার্থের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশের প্রশাসনিক আইন যা মূলত কমন ল ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তা এই উদ্বেগকে আরও জোরদার করে। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হলো ‘নেমো জুডেক্স ইন কসা সুয়া’ অর্থাৎ কেউ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হতে পারেন না। এখানে প্রকৃত পক্ষপাত প্রমাণ করার প্রয়োজন হয় না, বরং পক্ষপাতের যৌক্তিক আশঙ্কাই একটি সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যথেষ্ট।

যখন জাহাজভাঙা ইয়ার্ডের মালিকেরা লাইসেন্সিং, পরিদর্শন, মানদণ্ড নির্ধারণ বা আইন প্রয়োগ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশ নেন, যা সরাসরি তাদের নিজস্ব ব্যবসা বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তখন স্বার্থের সংঘাতটি ব্যক্তিগত নয়, বরং কাঠামোগত হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন

সমস্যাটি আরও বাড়ে, কারণ আইনে স্পষ্টভাবে আর্থিক স্বার্থ প্রকাশ, বাধ্যতামূলক বিরত থাকা বা প্রত্যক্ষ আর্থিক স্বার্থযুক্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার মতো সুস্পষ্ট বিধান নেই। আধুনিক নিয়ন্ত্রক শাসনব্যবস্থায় এই ধরনের ঘাটতিকে সাধারণত কাঠামোগত দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়।

সরকারি মহল প্রায়ই যুক্তি দেয় যে বাংলাদেশে অনেক আইনগত প্রতিষ্ঠানে স্টেকহোল্ডার প্রতিনিধিত্ব একটি সাধারণ বিষয়। উদাহরণ হিসেবে ওয়াসা বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়। তবে এই তুলনা পুরোপুরি যথার্থ নয়।

ওয়াসায় ভোক্তা প্রতিনিধিরা সাধারণত ট্যারিফ সিদ্ধান্ত থেকে সরাসরি আর্থিক লাভ করেন না এবং ইউজিসিতে থাকা শিক্ষাবিদদেরও নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত থেকে তাৎক্ষণিক বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকে না। কিন্তু জাহাজ পুনর্ব্যবহারের শিল্পে সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িয়ে থাকতে পারে।

বাংলাদেশের এ শিল্প তুলনামূলকভাবে ছোট এবং অর্থনৈতিকভাবে বেশ ঘনীভূত। মালিকানার সংখ্যা সীমিত এবং নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এমন পরিস্থিতিতে শিল্পের মালিকদেরই নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রভাবের মাত্রা অনেক বেশি হয়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও এই পার্থক্যকে সমর্থন করে। ভারতের আলাং অঞ্চলে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম গুজরাট মেরিটাইম বোর্ডের অধীন পরিচালিত হয়। সেখানে শিল্পের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও জাহাজভাঙা ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার আনুষ্ঠানিক সদস্য নন।

এই মডেল একটি সুপরিচিত নীতির প্রতিফলন, অর্থাৎ শিল্পের অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা অবশ্যই স্বাধীন থাকতে হবে। বাংলাদেশ হংকং কনভেনশনের পক্ষভুক্ত।

দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য শাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এখন একটি বাজারগত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পের অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণকে বাস্তবসম্মত করে এবং কার্যকারিতা বাড়ায়। তবে অংশগ্রহণের কাঠামো এমন হওয়া উচিত, যাতে নিয়ন্ত্রকের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকে।

এই কনভেনশন অনুযায়ী প্রতিটি রাষ্ট্রকে এমন একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হয়, যা নিরপেক্ষভাবে অনুমোদন, পরিদর্শন ও আইন প্রয়োগ করতে সক্ষম। বিশ্বব্যাপী শাসনমানও একই ধরনের প্রত্যাশা তুলে ধরে। ওইসিডির মতে কাঠামোগত স্বার্থসংঘাত শাসনব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিগুলোর একটি। কারণ, এটি প্রাতিষ্ঠানিক নকশার মধ্য থেকেই সৃষ্টি হয়।

সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা দিতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ–সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, বিশ্বের যেকোনো স্থাপনাকে ইউরোপীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হলে কঠোর পরিবেশ, নিরাপত্তা ও শাসনমান পূরণ করতে হয়। এই অনুমোদন কেবল অবকাঠামো বা প্রযুক্তিগত মানের ওপর নির্ভর করে না, বরং নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচিত হয়।

ইউরোপীয় কমিশন মূল্যায়নের সময় বিশেষভাবে দেখে যে তদারকি ও আইন প্রয়োগের কাঠামোয় কোনো স্বার্থসংঘাত আছে কি না। ইউরোপীয় প্রশাসনিক আইনেও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর অত্যন্ত জোর দেওয়া হয়। ইউরোপীয় বিচার আদালতের বিভিন্ন রায়ে বলা হয়েছে যে পক্ষপাতের ধারণাও কোনো প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

ইউরোপীয় করপোরেট গভর্ন্যান্স নীতিতেও একই ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে। এই কাঠামোগত স্বার্থসংঘাত যদি সমাধান না করা হয়, তবে এর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের ইয়ার্ডগুলো ইউরোপীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে পারে যা ইউরোপীয় পতাকাবাহী জাহাজ পুনর্ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করবে।

আরও পড়ুন

দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য শাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এখন একটি বাজারগত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্পের অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণকে বাস্তবসম্মত করে এবং কার্যকারিতা বাড়ায়। তবে অংশগ্রহণের কাঠামো এমন হওয়া উচিত, যাতে নিয়ন্ত্রকের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকে।

এ ক্ষেত্রে পরামর্শ পরিষদ, শিল্পের পরামর্শ ফোরাম বা প্রযুক্তিগত কমিটির মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্পের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব, যেখানে তারা মতামত দিতে পারবে, কিন্তু চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে না। পাশাপাশি স্বার্থসংঘাত–সংক্রান্ত স্পষ্ট নিয়ম যুক্ত করা হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে।

বিএসআরবি কোনো বাণিজ্য সংগঠন নয়, বরং এটি একটি আইনগত নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যা জনক্ষমতা প্রয়োগ করে। তাই এর বৈধতা নির্ভর করে স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার ওপর। বোর্ডের গঠন পুনর্বিবেচনা করা এবং একই সঙ্গে কাঠামোবদ্ধ শিল্পের পরামর্শব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে বাংলাদেশের জাহাজ পুনর্ব্যবহারের শিল্প বৈশ্বিক মানের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

  • ড. ইশতিয়াক আহমেদ অধ্যাপক বাংলাদেশের আইন বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
    *মতামত লেখকের নিজস্ব