বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবিধানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা আছে, যেখানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। সেই গণতন্ত্রের বাস্তবায়নে আজ ভোট অনুষ্ঠিত হয় ঠিকই, কিন্তু এসবের মধ্যে আজ স্থান করে নিয়েছে সহিংস মানসিকতা। এই সহিংসতা দেখা দিয়েছিল ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে। তবে সেটা ছিল জাতিকে শোষণ, শাসন ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত করা। বাঙালি জাতিকে পৃথিবীর বুকে একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আর আজ সহিংসতা হচ্ছে আধিপত্য বিস্তারের।

নিজেকে বা নিজের দলকে বিজয়ীর আসনে অধিষ্ঠিত করাই যেখানে মূল লক্ষ্য। এতে রাজনীতির মূল বিষয়ের অবক্ষয় ঘটছে। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো জনগণের মুখে হাসি ফোটানো, জনগণের দুঃখে নেতার মন কাঁদবে। কিন্তু আজ ইউপি নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার আগেই নেতারা জনগণের মনে দাগ কেটে ফেলছেন। নেতায় নেতায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কর্মীদের লেলিয়ে দিচ্ছেন যেভাবে হোক সোনার হরিণ ছিনিয়ে নিতেই হবে। কর্মীরাও সে অনুযায়ী কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ কি আমাদের এটাই শিক্ষা দেয়?

বঙ্গবন্ধুর জীবন-দর্শন, নীতি, আদর্শ, কর্ম ও নেতৃত্বের বহুমাত্রিক গুণাবলির মধ্যে নিহিত রয়েছে আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হওয়ার সব উপাদান। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে ছিল সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সেই শান্তিপূর্ণ আদর্শে বলীয়ান বাঙালি জাতির মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে এত অশান্তি কেন? আজকে যে আমরা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কর্মী হিসেবে দাবি করি, সেটা কতটা যুক্তিযুক্ত? বঙ্গবন্ধু তো আমাদের শিখিয়ে যাননি মানুষ মেরে, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখল করতে। তাহলে আজ আমরা বঙ্গবন্ধুকে কতটা সম্মান দিচ্ছি? তাঁর আদর্শকে নিজের মধ্যে কতটা লালন করতে পারছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিজেদের মধ্যে লালন করলে আজ এই সামান্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হতো না। মানুষে মানুষে মারামারি–হানাহানি হতো না, ভোট জালিয়াতির অভিযোগও উঠত না।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে যেখানে আমাদের পথ চলার কথা, সেখানে ঘটছে বিপরীত। মুখে আদর্শকে ধারণ করা হচ্ছে, কিন্তু সেটা কাজে প্রকাশ পাচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। বঙ্গবন্ধু হাতে গড়া সংগঠনকে রক্তাক্ত করা হচ্ছে নানাভাবে, যা কখনো কাম্য নয়। এমন বাংলাদেশ তিনি চাননি। ক্ষমতার লোভে মারামারি–হানাহানি তাঁর সংবিধানে ছিল না। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারকেও সমালোচিত করে তুলছে দেশজুড়ে। তাই এ ধরনের ঘটনা নিরসন করতে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।

মো. আল-মামুন
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন