কিন্তু তাই বলে কুড়িগ্রামের প্রতি এত অবহেলা কেন? এখানকার মানুষ কি মানুষ নয়, দেশের নাগরিক নয়, তারা কি ট্যাক্স দেয় না? এসব প্রশ্নের উত্তর আমি পাই না। প্রতিবছর এখানকার মানুষ বন্যায় ভাসে আর ডোবে। তাদের দেখতে সরকারপ্রধানের কি একবারও ইচ্ছা হয় না? মনের বেদনা থেকে এসব কথা বেরিয়ে এল।

প্রতিবছর দারিদ্র্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কি আমাদের জন্য আশীর্বাদ, নাকি বিধির লিখন? এখানে বন্যা হওয়া কি স্রষ্টার লেখা অবিনশ্বর বাণী, যেটা ভাঙানো যাবে না? সরকারের কাছে এ উত্তর জানতে ইচ্ছা করে। বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে এ জেলার জন্য? দারিদ্র্য বিমোচনে নেই বিশেষ বাজেট, নেই কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ। আমরা গরিব, তাই বলে কি সবকিছু থেকে বঞ্চিত?

আমি সিলেটের বন্যাকবলিত অঞ্চলে ত্রাণ দেওয়াকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু কুড়িগ্রামের বন্যাকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হবে না, এটাই আমি জানাতে চাইছি। মাথায় তেল নেই বলে কি সামান্য তেল পাওয়ার অধিকার আমাদের নেই, না এখানে জন্মটাই আমাদের পাপ। যুগের পর যুগ আমাদের এমনই থাকবে, আমাদের কথা বলার মতো কোনো লোক নেই। এখানকার মানুষ সহজ-সরল, এটাই কি একপ্রকার পুঁজি! আমাদের দারিদ্র্যের জন্য কি কখনো ভেবেছেন? প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙন, ক্ষুধার কাতরে আর্তনাদ, গৃহহীন হওয়া, অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া, শিশুশ্রম, বন্যার কবলে স্বজন হারিয়ে দিশেহারা হওয়া, এগুলো কি দারিদ্র্যের কারণ নয়?

দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন আমাদের জেলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা। কুড়িগ্রামের মানুষ কর্মসংস্থান চায়, তারা অনুদান চায় না। দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী—সবার কাছে আবেদন, আমাদের এই জেলা নিয়ে একটু ভাবুন। এ জেলার জন্য বিশেষ বাজেট দিন, বাজেটের সুষ্ঠু তদন্ত করুন, নদীতে বাঁধ দিন, নদী খনন করুন, দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন।

মো. আবদুস সালাম
অর্থনীতি বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন