গুচ্ছ পদ্ধতিতে জেলাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা চাই

প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর ক্ষেত্রেই নিজেকে মেলে ধরার এবং জাতি গঠনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়জীবন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে প্রত্যেক মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র হওয়ার স্বপ্ন দেখে। বিশেষ করে বুয়েট, মেডিকেল কলেজ, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তারপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন সময়ে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ করে থাকে। কিন্তু এ বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের জন্য সময়মতো এইচএসসি পরীক্ষা হয়নি। পরবর্তীকালে ৭ অক্টোবর ২০২০ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বোর্ড হতে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এক ব্রিফিংয়ে জানান, এ বছর করোনা মহামারির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে মূল্যায়ন করা হবে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার গড় ফলাফলের ভিত্তিতে। ডিসেম্বরের মধ্যে রেজাল্ট শিট প্রণয়নের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ। এবার সবাই কৃতকার্য হয়েছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, রয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সিটের সংখ্যা ৪৬ হাজার। আর প্রত্যেক মেধাবী শিক্ষার্থীই একটি সিট পেতে চায়। সে জন্য অসম প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে প্রায় সব শিক্ষার্থী। করোনা মহামারির এই সময়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপাচার্যদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ’-এর ভার্চ্যুয়াল সভায় ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া প্রায় প্রত্যেক মেধাবী শিক্ষার্থী গ্রামের দরিদ্র অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন। তাঁদের নেই উন্নত ডিভাইস এবং সেখানে পৌঁছায়নি ভালো ইন্টারনেট সেবা। সে জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র বিভাগভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সব শিক্ষার্থীর সঠিক মেধার বিচার করা হবে।

বর্তমানে দেশে ৪৬টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও ৩৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ করে একটি ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হোক। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তিনটি গুচ্ছ করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে একটি, সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে একটি এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আরেকটি গুচ্ছ করে এই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

আর গুচ্ছ পদ্ধতিতে এবারের পরীক্ষা কেন্দ্র জেলাভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। প্রতিটি কেন্দ্র ও জেলাভিত্তিক আলাদা প্রশ্ন সেট তৈরি করে কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে নেওয়া হোক। আর প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে স্বাস্থ্য সচেতনতায় আরও কঠোর হতে হবে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে মাস্ক বাধ্যতামূলক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। দেশ ও জাতি গঠনে তাঁরা অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

* মো. তোফায়েল আহমেদ: বিবিএ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0