default-image

সেদিন আমার এক চাচাতো বোনকে দেখতে এল পাত্রপক্ষ। সে ঘোমটা সরাতে না সরাতেই শুরু হলো ডজনখানেক প্রশ্ন। সাধারণ জ্ঞান থেকে শুরু করে প্রশ্নের কোনো অন্ত নেই। সবার সামনে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিল মেয়েটা। একপর্যায়ে ভয়ে কেঁদে ফেলল। তারপরে একটু শান্ত হলেই আবার শুরু হলো লাগাতর প্রশ্ন। এ যেন চলছে বিসিএস ভাইভা!

বিজ্ঞাপন

এমন ঘটনা আমাদের সমাজে নতুন নয়। বিশেষ করে গ্রামে বেশি দৃশ্যমান। একটা মেয়েকে যখন পাত্রপক্ষ দেখতে আসে, সে এমনিতেই দারুণ লজ্জা ও ভয়ে থাকে। পাত্রী সম্পর্কে যদি একান্তই বিস্তারিত জানতে ইচ্ছা করে, আলাদা করে কথা বলা বা অন্যের মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে পাত্রী ও তার পরিবারকে অন্যের সামনে লজ্জায় পড়তে হয় না।

যাঁরা আজ অন্যের বোনের সঙ্গে এমন করছেন, আগামী দিনে আপনার কোন আপনজনের সঙ্গেও এমন হতে পারে। তা ছাড়া পাত্রপাত্রীর সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের চেয়ে জমিজমা-অর্থকড়ি ও দালানকোঠার হিসাব কষতেই অনেকে ব্যস্ত থাকেন। এ প্রথা থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে, না হলে এ সংস্কৃতির মূল উৎপাটন করা সম্ভব নয়।

মো. আশিকুর রহমান

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ashikuriu22@gmail.com

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0