বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রতিদিন কোনো না কোনো দেশ থেকে প্রবাসীদের মৃত্যুর খবর আসে, সেই সঙ্গে তাঁদের পরিবারের হাহাকার ও আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নিজ সন্তানকে শেষবার দেখতে কতটা ব্যাকুল হয়ে ওঠে মায়ের মন, তা একজন মা হয়ে আপনি অবশ্যই উপলব্ধি করতে পারেন। যে প্রবাসীকে আপনি রেমিট্যান্সযোদ্ধা বলেন, সেই রেমিট্যান্সযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকে হাসপাতালের মর্গে। মহামারির মধ্যেও দেশের রিজার্ভ যখন প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ভরে ওঠে, মৃত্যুর পর সেই প্রবাসীর মৃতদেহ দেশে পাঠাতে অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়।

মরুর বুকে বছরের পর বছর ঘাম ঝরিয়ে মৃত্যুর পর তাঁদের পড়ে থাকতে হয় হিমশীতল ঠান্ডা ঘরে। মাসের পর মাস পড়ে থাকেন তাঁরা। এদিকে পরিবারের কান্নার রেশ কেটে চোখের জল যেন শুকিয়ে যায়, তার পরও প্রিয়জনের লাশ দেশে পৌঁছায় না। কারণ, দেশে লাশ পাঠাতে হলে গুনতে হবে তিন থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা। একটি পরিবারের মূল উপার্জনক্ষম মানুষটিই যখন হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পরিবার কীভাবে এতগুলা টাকার ব্যবস্থা একসঙ্গে করবে?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসীরা দেশের জন্য বিদেশের মাটিতে দিনরাত কাজ করে দেশকে রেমিট্যান্স দিচ্ছেন। সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। আর রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের এ করুণ দশা কখনো সমীচীন নয়। তাই আপনার কাছে একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধা হিসেবে দাবি জানাচ্ছি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেকোনো বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা, হোক তিনি বৈধ কিংবা অবৈধ, তাঁর মরদেহ যেন সরকারি খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একজন নাগরিকের মৃত্যুর পর তাঁর প্রতি রাষ্ট্র ও সরকার ন্যূনতম এই দায়িত্বটুকু কি পালন করবে না?

সিফাত নুর
কুয়েতপ্রবাসী

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন