বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বর্তমানে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে যেন আলোকচিত্রীর ছড়াছড়ি। পর্যটকদের দেখলেই ছবি তুলে দিতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন তাঁরা। দেশের বিভিন্ন জেলা কিংবা অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকেরাও চান সৈকতের আনন্দকে ফ্রেমবন্দী করতে। সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের যাঁদের কাছে ভালো স্মার্টফোন কিংবা ক্যামেরা নেই, তাঁরা এসব আলোকচিত্রীর মাধ্যমে নিজেদের ফ্রেমবন্দী করেন। সমুদ্রসৈকতে অবস্থানরত আলোকচিত্রীরা ছবি প্রতি পাঁচ টাকা নেন পর্যটকদের কাছ থেকে। সৈকতে পর্যটকদের ছবি তুলতে বাধ্য করার জন্য অভিনব কৌশলও ব্যবহার করেন তাঁদের অনেকে। দূর থেকে জুম লেন্স ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া ছবি তুলে পর্যটককে সেই ছবি দেখিয়ে আরও ছবি তুলতে আকৃষ্ট করেন তাঁরা।

অধিকাংশ সময় পর্যটকেরা সেই ছবি দেখে আকৃষ্ট হয়ে আরও ছবি তুলতে বলেন আলোকচিত্রীকে। দেখা যায়, পর্যটক ১০টি ছবি তোলার কথা বললেও আলোকচিত্রী ইচ্ছা করে অনেক ছবি তুলে বসেন। প্রায় পর্যটক এত বেশি ছবি নিতে অপারগ হলে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এসব আলোকচিত্রী। এভাবে আলোকচিত্রীদের প্রতারণার ফলে অনেক পরিবার সৈকতে প্রায় বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী পর্যটকদের ফাঁদে ফেলতে মুখিয়ে থাকে এই আলোকচিত্রী সিন্ডিকেট। ছবি তোলার পর অতিরিক্ত ছবি নিতে না চাইলে অনেক ক্ষেত্রে নানা হুমকিও দেওয়া হয়।

অনেকে অজান্তেই প্রতিদিন আলোকচিত্রীদের ফাঁদে পড়ছেন। পরিবার, স্বামী-স্ত্রী, বন্ধু-বান্ধব, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে অনেকে সৈকতে গোসল করতে নামেন। এই সুযোগে সৈকতে বিশেষ করে তরুণীদের গোসলের দৃশ্য অনুমতি ছাড়া তুলে ফেলেন অনেক আলোকচিত্রী। বিভিন্ন যুগল ছবি কিংবা সৈকতে অবস্থানরত তরুণীদের আনন্দের মুহূর্ত ফ্রেমবন্দী করে নেন। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও সেসব ছবি ব্যবহার করা হয় বলে অনেক আলোকচিত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে।

প্রতারণা ও অপরাধ ঠেকাতে সৈকতের আলোকচিত্রীদের ডেটাবেইসের আওতায় আনা হলেও থামছে না পর্যটক হয়রানি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আলোকচিত্রীদের অপরাধ ঠেকাতে প্রশাসনের নেই কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ। তাই সৈকতে আলোকচিত্রীদের ফাঁদ থেকে পর্যটকদের সুরক্ষা দিতে প্রশাসন কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আরিফুল ইসলাম তামিম

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম।

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন