বৈষম্যমূলক কোনো সিদ্ধান্ত কখনো একটি দেশ ও সমাজের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি ছাড়া আয়ের তেমন কোনো উৎস না থাকাতে নিজেদের বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ অনেক কঠিন হয়ে পড়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য। সরকার, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে গাড়িভাড়া হাফ পাস নিয়ে গাড়িচালকেরা মানতে চান না। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে টানা আন্দোলনের পর যদিও শুধু ঢাকাতে হাফ ভাড়া কার্যকরের বিষয়টি ঘোষণা এসেছে পরিবহন মালিকপক্ষের কাছ থেকে। কিন্তু সেটি কত দিন কার্যকর থাকে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। হাফ ভাড়ার বিষয়টি ৫৭ বছর আগে থেকে প্রথা হিসেবে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত আইনে পরিণত হয়নি। কিন্তু এত আন্দোলনের পরও কেন লিখিত আকারে আইন পাস হচ্ছে না, সেটাই বড় প্রশ্ন!

সরকারি প্রজ্ঞাপন বা ঘোষণা না থাকলেও স্বাধীনতার আগে পাকিস্তান আমল থেকে তারা এই অধিকার ভোগ করে এসেছে। সম্ভবত ১৯৬৪ সালে বিআরটিসি বাস দিয়ে হাফ পাস ভাড়া পদ্ধতি চালু হয়। ইতিহাস বলছে, আন্দোলন করে ছাত্ররা এই অধিকার অর্জন করেছে। ১৯৬৯ সালের জানুয়ারিতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা দাবির একটি ছিল ‘হাফ ভাড়া’ নির্ধারণ। আবার ২০১৮ সালেও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ঢাকা অবরোধ করা শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির ভেতরে অন্যতম ছিল, শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু এত আন্দোলনের পরও কোনো লিখিত আইন করা হচ্ছে না। শুধু মৌখিক নির্দেশনা। যার জন্য কোনো শক্তিশালী ভিত্তি নেই এই আইনের। তাই কর্তৃপক্ষের লিখিত আইন পাসের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

আসাদুজ্জামান বুলবুল
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মাজহারুল ইসলাম শামীম
শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ।

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন