বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভেবেছিলাম বাড়িতে গিয়ে পড়ব কিন্তু অভাবের সংসারে চোখের সামনে মা-বাবার কষ্ট দেখে দেখে আরও হতাশ হয়ে পড়ি। এরপরও কিছুটা পড়েছি। কিন্তু ৪০তম বিসিএস রিটেন দেওয়ার পর ৪১তম প্রিলির প্রস্তুতি নেব, সেই সঙ্গে রিটেনের প্রস্তুতিটা আরও শক্তভাবে নেব, এমন পরিকল্পনা করি। দেখতে দেখতে বাড়িতে দেড়টি বছর কেটে যায়। করোনার মধ্যে হঠাৎ করে ৪১তম বিসিএস প্রিলির তারিখ ঘোষণা করা হয়। স্বাভাবিকভাবে আমি অনুত্তীর্ণ হই। আরও হতাশ হয়ে পড়ি। তারপরও আশায় বুক বেঁধে ছিলাম, আমার ৫৩টি চাকরিতে আবেদন করা আছে। এখান থেকে একটা না একটা জব পাব।

কিন্তু অভাগা যেদিকে চায়, সাগরও শুকিয়ে যায়। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো এক দিনে ১০-২৪টি করে পরীক্ষা নিতে থাকে, একই সময়ে অনেকগুলো। ফলে আমি মাত্র সাতটি পরীক্ষা দিতে পেরেছি। তিনটি ভাইবা দিয়েছি। একটিতেও নিয়োগ পাইনি। আমার আবেদনের বয়স অক্টোবরের ১২ তারিখ শেষ হয়েছে, ফলে আমি ৪৪তম বিসিএসে আবেদন করতে পারব না। সরকার ২১ মাস ব্যাকডেট দিলেও সে ফল আমি পাইনি।

বর্তমান সরকার ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বয়স বৃদ্ধি বিষয়টি যুক্ত করলেও আজ তিন বছর পরও তা বাস্তবায়ন করেনি। আমাদের দেশে অবসরের বয়সসীমা এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি পেলেও চাকরিতে প্রবেশের সময় বাড়েনি। যেখানে পৃথিবীর প্রায় ১৫৫টির মতো দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও ৩৫ বছর। সরকারের খোঁড়া যুক্তি, বয়স বাড়িয়ে দিলে নাকি বেকারত্ব বাড়বে।

আমি উন্নয়নের রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিকভাবে জানাতে চাই, বয়স বাড়লে বরং বেকারত্ব কমবে। এখন স্নাতক শেষ করে দু–তিন বছরের মধ্যে বিসিএসের মতো পরীক্ষার এত বড় সিলেবাস শেষ করে একটি চাকরি পাওয়ার আশায় আর অন্য কোনো পরীক্ষার দিকে মন দেওয়া সম্ভব হয় না। আবার শুধু বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েও পড়ে থাকা যায় না। কারণ, সেটি অনিশ্চিত এক গন্তব্যে যাত্রার মতো। কিন্তু যখন হাতে অসীম সময় থাকবে, তখন পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি বা ছোটখাটো কোনো কাজ করা যায়।

এখন চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বয়স বাড়ানোর দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। সরকারের বিভিন্ন মহল এতে মৌন সমর্থন জানালেও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের অভাবে সরকারের উচ্চ মহলের কাছে এ দাবি পৌঁছাচ্ছে না। আমি আপনাদের মাধ্যমে অনুরোধ জানাচ্ছি, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে আমাদের দাবিটি অবিলম্বে মেনে নেওয়া হোক।

মো. রফিকুল ইসলাম
নাগেশ্বর, কুড়িগ্রাম

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন