মহাসড়কে ডাকাতি

ডাকাতিপ্রতীকী ছবি

একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হলো উন্নত ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা। অথচ বাংলাদেশের মহাসড়কগুলো আজ সাধারণ যাত্রীদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের পর হাইওয়েগুলোয় নেমে আসে অন্ধকার ও ভয়ের এক অদৃশ্য রাজত্ব। সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতির নতুন কৌশল হিসেবে যুক্ত হয়েছে তথাকথিত ‘পাথর–আতঙ্ক’। চলন্ত গাড়ির উইন্ডশিল্ড লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে চালককে অপ্রস্তুত করা, এরপর গাড়ি থামলেই সর্বস্ব লুটে নেওয়ার ঘটনা যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পাথর নিক্ষেপ কিংবা রাস্তায় গাছ ফেলে গাড়ি থামানোর মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চালক ও যাত্রীরা শুধু ছিনতাই বা ডাকাতির শিকার হচ্ছেন তা নয়; অনেক ক্ষেত্রে পাথরের আঘাতে চালক গুরুতর আহত হচ্ছেন, এমনকি প্রাণ হারাচ্ছেন।

এসব ঘটনা অনিবার্যভাবেই এক গভীর প্রশ্নের জন্ম দেয়—এই দীর্ঘ, জনশূন্য মহাসড়কগুলোয় মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? ফলে জনমনে হাইওয়ে পুলিশের টহল ও নজরদারি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মহাসড়কের বহু গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর অভাবে ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরার উপস্থিতি কল্পনাও করা যায় না। অপরাধীরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্বিঘ্নে তাদের অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সমস্যা সমাধানে পুলিশি টহল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যকর গোয়েন্দা নজরদারি।

ফাহমিদা ইয়াসমিন

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়