সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে বারবার সচেতনতার কথা বলা হয়েছে। মাস্ক না পরার অপরাধে জরিমানা গুনতেও হয় অনেক মানুষকে। এত কিছুর পরও সচেতনতা রয়ে গেছে উপেক্ষিত। মাস্ক পরা থেকে বিরত বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ। রাস্তাঘাটে মানুষের চলাফেরা দেখলে মনে হয় না যে বাংলাদেশে মহামারি চলছে। করোনার ডেলটা ধরন কাটিয়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলো খোলার সময় বলা হয়েছিল, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কিন্তু কোথায় গেল সেই স্বাস্থ্যবিধি? ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজারের অবস্থা দেখলে মনে হবে, করোনা কাটিয়ে স্বাধীন আমরা। কিছুদিন আগেও কক্সবাজারে অভিযানে নামেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যায় পুরো চিত্র। তখন সবার মুখে দেখা যায় মাস্ক। যদি সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে হয়ে থাকে, তাহলে এ সচেতনতার মূল্য কোথায়?

মাস্ক পরা নিয়ে অজুহাতের শেষ নেই। কারও সমস্যা নিশ্বাস নিতে, কারও সমস্যা গরম লাগা। আরও কত কী! একজন অসচেতন মানুষ মাস্ক না পরে শুধু নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলছে না, ঝুঁকিতে ফেলছে তার পরিবার ও গোটা দেশকে। মাস্ক যে শুধু করোনা থেকে রক্ষা করে তা নয়, ধুলাবালু, নানারকম জীবাণু ও ভাইরাস থেকে রক্ষা করে। এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ মাস্ক পরে শুধু করোনাভাইরাস পরাস্ত করতে পারবে না, তার সঙ্গে লকডাউন–পরবর্তী সময়ে ভাইরাসটির বিপক্ষে লড়ার কার্যকর ও শক্তিশালী অস্ত্র হলো মাস্ক। গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তা টের পাওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আক্রান্ত হলেও কোনো উপসর্গ নেই। এ জন্যই বেড়েছে মাস্কের গুরুত্ব। হাঁচি, কাশি এমনকি কথা বলার সময় মুখ থেকে বের হওয়া ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলকণায় ভর করে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো সরাসরি চোখ, নাক ও মুখের মাধ্যমে দেহে ঢুকতে পারে। আবার ভাইরাসগুলো কোনো পৃষ্ঠতলে পড়লে তা স্পর্শের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শরীরে ঢুকতে পারে। তাই তো ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি হিসেবে মাস্ক পরার বিকল্প নেই। সরকারও ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নিয়ম চালু করে বলে, মাস্ক না পরলে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে কোনোরকম সেবা মিলবে না। তখন মানুষ স্বাভাবিকভাবে মাস্ক না পরলেও কাজকর্ম কিংবা সেবা পাওয়ার জন্য মাস্ক পরতে শুরু করে। ব্যবস্থাটি ছিল যথেষ্ট সুন্দর। তাই করোনার এ দুঃসময়ে আবারও ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি কার্যকর করা উচিত।

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ বিবেচনা করে অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। কিন্তু সেগুলো কার্যকরে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। সেই সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে সভা–সমাবেশসহ নানান কর্মকাণ্ড।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দেশের সব জেলা প্রশাসককে কঠোর হতে নির্দেশ দিয়েছেন। সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে বলেছেন তিনি। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, গতবার করোনার মহামারি চলার সময় মাস্ক পরার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে রাজধানীসহ দেশের অনেক জেলা–উপজেলায়। সচেতন করা হয়েছে জনগণকে, বিতরণ করা হয়েছে মাস্ক। কিন্তু এতে কতটাইবা সচেতন হয়েছিল মানুষ। কতটাইবা সচেতন হয়েছিল মানুষের বিবেক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যতক্ষণ অভিযান পরিচালনা করত, ঠিক ততক্ষণ সচেতন ছিল মানুষ। এরপর ঠিক আগের অবস্থা বিদ্যমান। তাহলে এটাকে কি সচেতনতা বলা যায় নাকি ভয়! মানুষ সামান্য জরিমানার ভয়ে মাস্ক পরছে, কিন্তু তাকে তো বোঝানো যাচ্ছে না করোনার ভয়াবহতা। মানুষ সচেতন না হলে এমন আইনি অভিযানে কতটা সুফল আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন, আমরা টিকা নিয়েছি, তাই আমরা মাস্ক না পরলেও নিরাপদ। কিন্তু দুই ডোজ টিকা নিয়ে মৃত্যু হয়েছে এমন রেকর্ড রয়েছে। যদিও টিকা নিলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে আসে। সর্বোপরি করোনার এ যুদ্ধজয়ের একমাত্র হাতিয়ার জনসচেতনতা।

মোহাম্মদ নাদের হোসেন ভূঁইয়া

শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, প্রথম বর্ষ

ফেনী সরকারি কলেজ

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন