উন্নতির কথা ভাবতে ভাবতে পৃথিবীর মানুষ সৃষ্টির নেশায় প্রকৃতি ধ্বংসে লিপ্ত। যে জন্য পৃথিবীর জলভাগ, স্থলভাগের ভারসাম্য বজায় থাকছে না। জেনে বুঝেও মানুষ থামতে পারছে না প্রকৃতির রক্ষার দিকে। কে কত বড় ইমারত গড়বে, পাহাড়-পর্বত কেটে উন্নয়ন করবে—এই খেলায় মত্ত সবাই। ধনশালী দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে উন্নয়নকামী কিছু দেশ সেই দৌড়ে শামিল হচ্ছে। সমরাস্ত্র কিনছে কোটি কোটি ডলারের বিনিময়ে, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। কিন্তু কেউ থামতে চাইছে না।
উন্নয়ন বলতে বৈভবকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, বৌদ্ধিক চিন্তাভাবনাকে ভুলে। ব্যবসায় লিপ্ত একদল অতি ধনবান ব্যবসার ফাঁদ পেতেছে। তারা নানাভাবে বিশ্ববাসীকে প্রথমে আতঙ্কিত করছে। তারপর নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করছে। প্রযুক্তিগত উন্নতির ঠেলায় বিভ্রান্ত বিশ্বের যুব সমাজ। হাতের মুঠোয় বিশ্ব—এই ছলনায় ভুলিয়ে রাখা হয়েছে একাংশ যুব সম্প্রদায়কে, তারা মগ্ন রয়েছে অশ্লীলতার নানা রূপ দর্শনে, পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষা-দীক্ষায়। বাড়ছে আত্মহননের ঘটনা। নেশার টাকা না পেয়ে মাকে গুলি মেরে হত্যার মতো ঘৃণ্য কাজও হচ্ছে এ পৃথিবীতে। কে কার টাকা মেরে খাবে—আজ পৃথিবী জুড়ে এই ধান্ধাবাজদের প্রভাব-দাপট।

ধীরে ধীরে এই অসুস্থ মানসিকতা কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা অনুমান করা যায়। দেশ একদিকে যেমন অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে, নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে; অন্যদিকে এক শ্রেণির মানুষ অনৈতিক কাজকর্মের আবর্তে ঘোরপাক খাচ্ছেন, চারিত্রিক অবক্ষয় ঘটছে, খুন রাহাজানির মাত্রা বাড়ছে। পাসপোর্ট করতে দশ বছরের জন্য আট হাজার পঞ্চাশ টাকা ব্যাঙ্কে জমা দিলাম। আমার বয়স যে প্রায় সত্তর বছর তাই আমাকে দেওয়া হবে পাঁচ বছরের জন্য পাসপোর্ট করার অনুমতি। তাই আমার লাগবে ছয় হাজার টাকার একটু বেশি। কিন্তু টাকা নিল দশ বছরের হিসাবেই। এ কেমন ডিজিটালের উৎপীড়ন! যে ফর্মে বয়স উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও পুরো টাকাটা কীভাবে নিয়ে গেল? ফেরতও দিল না।

একটি কোম্পানির হলরুমে অনুষ্ঠান করার জন্য অগ্রিম ভাড়া নিল ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। টাকা জমা নিয়েই সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে জানিয়ে দেওয়া হল, থানা থেকে অনুমতি নিয়ে আসেন। থানা অনুমতি দিল না, কোম্পানিও টাকা ফেরত দিল না। অর্থাৎ যে যেভাবে পারে লুটপাট করে যাচ্ছে। কতিপয় মানুষ আজ অসভ্যতার শীর্ষে দাঁড়িয়ে লুটেপুটে খেয়ে যাচ্ছে, গিলে যাচ্ছে।

এ সবই অসুস্থ সমাজের লক্ষণ। এর শেষ কোথায়, কীভাবে, তা নিয়ে গভীর ভাবনা-চিন্তার সময় এসেছে। কিন্তু রাক্ষসদের গলায় দড়ি দেবে কে?

  • লিয়াকত হোসেন খোকন
    রূপনগর, ঢাকা

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন