বাঁচতে হলে সাপ চিনতে হবে

শঙ্খচূড় বা রাজগোখরা

আসছে বর্ষা, বাড়ছে সাপের আতঙ্ক। সম্প্রতি বাংলাদেশের নদী ও সমুদ্রবেষ্টিত অঞ্চলগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। কতিপয় এলাকায় সাপের উপদ্রবে কৃষক ঘরে ফসল তুলতে পারছেন না। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত হওয়ায় অনেকেই সাপের দংশনের শিকার হলেও সাপের নাম বলতে পারেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৯১৯ জন সাপের কামড়ের শিকার হন। তাঁদের মধ্যে বছরে মারা যান ৬ হাজার ৪১ জন।

আশঙ্কার বিষয় হলো এর মধ্যে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে অধিকাংশ রোগীই সাপের নাম বলতে না পারায় চিকিৎসকেরা সঠিক অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করতে পারেন না, যার ফলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে।

আমরা যেমন সাঁতার শেখার ওপর গুরুত্ব দিই, তেমনি সাপ চেনার ওপরেও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। ছোট থেকেই আমাদের সন্তানকে সাপ চেনাতে হবে। কেননা, এই দুই শিক্ষাই আমাদের আকস্মিক বিপর্যয় হতে মুক্তি দেয়। আমরা দংশন করা সাপকে চিহ্নিত করতে পারলে চিকিৎসকের চিকিৎসা দিতে ও সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়।

অতএব এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও সচেতন নাগরিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কোন সাপগুলো বিষধর, কোনগুলো বিষধর নয়; বিষধর সাপের আকার, আকৃতি, রং, বৈশিষ্ট্য—ইত্যাদিসংবলিত লিফলেট বিতরণ, সভা, সেমিনারের আয়োজন করে স্থানীয় পর্যায়ের মানুষদের সচেতন করে তোলা হোক। সম্ভব হলে প্রাথমিক শিক্ষায় এটি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

ফজলে রাব্বি

শিক্ষার্থী, তৃতীয় বর্ষ

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

সরকারি তিতুমীর কলেজ