বর্তমান প্রজন্মের এ সমস্যার মূল কারণটিই হচ্ছে মুঠোফোনে আসক্তি। তরুণ প্রজন্ম ঘুম থেকে বেশি প্রয়োজনীয় মনে করে এই মুঠোফোনের ব্যবহারকে। ঘুমের প্রধান দুটি সমস্যা হলো- ইনসমনিয়া অর্থাৎ নিদ্রাহীনতা এবং হাইপারসমনিয়া অর্থাৎ অতিরিক্ত ঘুম। এসব সমস্যার ফলে দেখা দিচ্ছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, উদ্বিগ্নতা, অবসাদ, বাইপোলার ডিসঅর্ডারসহ নানা রকম রোগ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন নাগরিক কোনো না কোনো ধরনের ঘুমের রোগে ভুগছেন এবং প্রায় ৩৫ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্করা প্রতি রাতে প্রয়োজনীয় সাত ঘণ্টার চেয়ে কম ঘুমায়। অপর্যাপ্ত ঘুমে সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং জটিল রোগের ঝুঁকিগুলোও দেখা যায়। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা ব্যক্তিদের চেয়ে রাতজাগা মানুষের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি।

এই ঘুমের সমস্যার সাথে যোগসূত্র আছে আত্মহত্যার ও। অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাবে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং দ্রুত মুড পরিবর্তন হয়। ঘুমের সমস্যা বর্তমানে এক মহামারির মতো সকলের কাঁধ ঝেঁকে বসেছে। বয়স্ক থেকে শুরু করে ছোট শিশুরাও বর্তমানে এ সমস্যা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাব আমাদের মস্তিষ্কের ওপর সরাসরি পড়ে।

হার্ভার্ড মেডিকেলের গবেষণায় দেখা গেছে যারা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি শতকরা ১৫ ভাগ বৃদ্ধি পায়। তবে ছয় থেকে সাত ঘণ্টার পরিবর্তে আরও বেশি ঘণ্টা ঘুমালেই যে তা ভালো ঘুম তা কিন্তু নয় বরং ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ঘুম হতে হবে ভালোভাবে। আগত ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে হলে সকলকেই এই সমস্যার প্রতি সতর্ক হতে হবে। নীরব ঘাতক হিসেবে সকলের সুন্দর জীবনের চলমান প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এটি। এর ফলাফল দৃশ্যমান নয় কিন্তু সহজেই নষ্ট করতে পারে সুন্দর জীবনযাত্রা এবং বয়ে আনতে পারে অদমনীয় ফলাফল।

সাফা আক্তার নোলক

শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন