সমন্বিত স্কুলবাস সার্ভিস: শহরের যানজট কমাতে পারে বহুলাংশে

স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিসছবি: সংগৃহীত

শহরে শিক্ষার্থী পরিবহন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর জন্য অভিভাবকেরা সব সময় উদ্বিগ্ন থাকেন। এতে অভিভাবকদের যেমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, তেমনি রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থী পরিবহন একটি শৃঙ্খলায় আনা গেলে রাস্তার বিশৃঙ্খলা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। অনেকে বলেন, স্কুলগুলোর শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা উচিত। কিন্তু এতেও সমস্যা আছে। একটা স্কুল কয়টা বাস দিতে পারে? সব জায়গার শিক্ষার্থীকে তো তারা আনতে পারবে না।

দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনব্যবস্থা নেই। তাই শিক্ষার্থীদের গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের প্রথম পছন্দ অবৈধ অটোরিকশা। এসব অটোরিকশার যান্ত্রিক ঝুঁকি বাদই দিলাম, অপ্রশিক্ষিত চালকেরা সড়ক–মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করে। এর ফলে ছোট শহরগুলোও দিন দিন যানজটের চাপে নাকাল হয়ে পড়ছে।

এর একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে সমন্বিত স্কুলবাস সার্ভিস। এটি প্রথাগত স্কুলবাস সার্ভিস থেকে একটু ভিন্নতর। ইদানীং পৃথিবীর অনেক দেশ এ ধারণা গ্রহণ করে সুফল পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ চীনের জিয়াংনিং জেলার কথা বলা যায়। একই ডিজাইনের শত শত বাস সারা শহর চষে বেড়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে। সেখানে ৩১২টি স্কুলবাস শহরের ২৭২টি লাইনে চলে। এতে শহরের ৩৪টি স্কুলের সব শিক্ষার্থী পরিবহনসেবা পায়।

বাংলাদেশে বড় শহরগুলোকে কয়েকটি জোনে বিভক্ত করে এমন বাস সার্ভিস চালু করা যায়। সেই জোনের স্কুলগুলোর প্রতিনিধি, পৌর–সুবিধা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি স্কুলবাস সার্ভিস পরিচালনা করবে। তারা চাইলে নিজেরা বাস সংগ্রহ করে অথবা কোনো বাস কোম্পানি থেকে বাস ভাড়া করে এ সার্ভিস চালাবে।

এ বাসে টিকিট কেটে চড়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। ওই জোনের যেসব শিক্ষার্থী ষাণ্মাসিক ফি জমা দেবে, তারাই পরবর্তী মাস থেকে এ সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। মাসে পাঁচ দিনের কম ক্লাস হলে অর্ধমাসের, অন্য ক্ষেত্রে পূর্ণ মাসের ফি দিতে হবে। অর্থ গ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের রুটের তথ্য নিজ নিজ স্কুল সংগ্রহ করে কমিটির কাছে দেবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ডিজিটাল পাস ইস্যু হবে।

এই সার্ভিসের জন্য স্বল্প শুল্কে গাড়ি কেনার ব্যবস্থা থাকতে পারে। শিক্ষার্থী পরিবহনের ফাঁকে এ বাসগুলো স্টাফ বাস সার্ভিস চালাতে পারবে। আবার স্কুল বন্ধের সময় সুনির্দিষ্ট রুটে গণপরিবহন হিসেবে চলতে পারবে৷ এতে লম্বা বন্ধের সময় সড়কে যে পরিবহনের সংকট হয়, তা লাঘব হবে।

জয়দীপ দে

সহকারী অধ্যাপক

সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ‍কুমিল্লা