আমরা সাধারণ শ্রমিক। এখানকার বিভিন্ন দোকানে কাজ করি। কিন্তু আমাদের সাপ্তাহিক কোনো ছুটি নেই। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, পাঁচরুখীতে এমনটি হয়ে আসছে ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে, বান্টিতে ২০ বছর ধরে। মানে বছরের পর বছর এখানকার শ্রমিকেরা কোনো সাপ্তাহিক ছুটি পান না।

আরও দুঃখজনক হচ্ছে, ব্যক্তিগত জরুরি প্রয়োজনে এক দিন কাজে না এলে দুই দিনের হাজিরা কর্তন করা হয়। কারও বেলায় আবার এক দিনের। বছর দু-এক আগে সাপ্তাহিক ছুটির জন্য আওয়াজ তুললে শতাধিক শ্রমিক চাকরিচ্যুত হন। বিশেষ করে যাঁরা সামনে থেকেছেন, তাঁদের ভাগ্যে জুটেছে রাজনৈতিক চাপ, হুমকি ও চাকরিচ্যুত হওয়া। শ্রমিক ইউনিয়ন করতে চাইলে নির্যাতনের শেষ থাকে না। শারীরিকভাবেও অনেকে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এমনকি ঈদের ছুটিতেও এখানে হাজিরা কর্তনের নজির আছে।

সরকারি কোনো ছুটি বা উৎসবের ছুটিও পাই না আমরা। ১৬ ডিসেম্বর, ১ মে, পূজা, শবে বরাত কিংবা শবে কদর—কোনো দিনের ছুটিই দেওয়া হয় না আমাদের। ন্যূনতম বোনাসও জোটে না কারও কারও। কিছুদিন আগে প্রশাসন থেকে বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্য মার্কেট (বিশেষ করে বান্টি বাজারের মার্কেট) সাপ্তাহিক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে আশার আলো দেখতে পান সবাই। ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট এবং ৫, ১০ ও ১৭ সেপ্টেম্বর আমরা সাপ্তাহিক বন্ধ পাই। তারপর বান্টি বাজারের কিছু মার্কেটের অসাধু মালিক স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারও শ্রমিকদের ছুটি বাতিল করেন।

এ ব্যাপারে আওয়াজ তুললে চাকরি থাকে না। রাজনৈতিক মাস্তানেরা এসে হুমকি দেয়, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। রাজনৈতিক নেতাদের কাছে বললে শুধু আশ্বাস মেলে, কাজের কাজ কিছুই হয় না। শ্রমিক হিসেবে ন্যূনতম অধিকারও কি আমরা পাব না?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
পাঁচরুখী ও বান্টির দোকান কর্মচারীর পক্ষ থেকে