দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ভিড় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এখনো খোলা হয়নি পৃথক ওয়ার্ড বা কর্নার, রোগীদের যথাযথ চিকিৎসায় গুরুতর অসুস্থদের জন্য নেই পৃথক আইসিইউর সুবিধা। ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মশারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হচ্ছে না।
ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেক রোগী মেঝে ও করিডরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি অন্য রোগীদেরও সেবা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু চিকিৎসায় এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এদিকে এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীদের স্বজন এবং সেবায় নিয়োজিত নার্স ও চিকিৎসকদের ঈদ আনন্দ বিবর্ণই ছিল বলা যায়।
সামান্য জ্বর নিয়েও ডেঙ্গু হচ্ছে। আগে বলা হতো যে পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলে এবং জ্বর সেরে যাওয়ার পরই কেবল জটিলতা শুরু হয়। এবার দেখা যাচ্ছে, জ্বরের শুরুতেই বা দ্বিতীয়, তৃতীয় দিনেও জটিলতা নিয়ে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। আকস্মিক রক্তচাপ কমে যাওয়া, ক্যাপিলারি লিকেজ, রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়া, হেমাটোক্রিট বেড়ে যাওয়া দেখে জটিলতা বোঝা যাচ্ছে।
শিশু ওয়ার্ডের একজন চিকিৎসক বলেন, ‘এবার শিশুদের শক সিনড্রোম বেশি হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে চারজন শক সিনড্রোমজনিত রোগী আসছে। তাদের মধ্যে একজনের আইসিইউ সাপোর্ট লাগছে।’
চলতি বছরের ১ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৭ হাজার ২৩৮ জন। তাঁদের মধ্যে রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন ৫ হাজার ৬১৯ জন। আর ঢাকার বাইরে ভর্তি হন ১ হাজার ৬১৯ জন। একই সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৯৫ জন। তাঁদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৪ হাজার ৪৬৭ জন ও ঢাকার বাইরে ১ হাজার ২২৮ জন। আর এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৫ জন।
এত কিছুর মধ্যে একটা ভালো খবর হলো, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রোগীদের জন্য ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করে। সকাল, দুপুর ও রাতে তিন বেলা ভালো খাবার দেওয়া হয়।
দেশের সবচেয়ে বড় এই সরকারি হাসপাতালে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে, তেমন কিছু অসুবিধা। অনেক সময় সার্ভার ডাউন হয়ে যায়, অনেকের রয়েছে এই বিষয়ে জ্ঞানস্বল্পতা। তাই তাঁদের কথা মাথায় নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের বাধ্যতামূলক মশারি ব্যবহার এবং মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা হোক। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হোক। গুরুতর অসুস্থদের জন্য পৃথক আইসিইউ সুবিধা দেওয়া হোক। দালালের দৌরাত্ম্য রোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। সবার জন্য নিশ্চিত করা হোক সমান ও সঠিক চিকিৎসাসেবা।
মোহাম্মদ আল তৌফিকী
ইন্টার্ন শিক্ষার্থী
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল