তখনকার তুলনায় এখন অনেক পণ্যের দাম ১০০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণেই নিত্যপণ্যের বাজার দর বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে: আমাদের বেতন ভাতা না বাড়লে আমরা এই বর্ধিত মূল্যের বর্ধিত টাকা কোথায় পাব? সরকার যদি এখন আমাদের বেতন ভাতা বাড়িয়ে না দেয় তাহলে আমরা কীভাবে দৈনন্দিনের প্রয়োজন মিটাব?

সবকিছুরই দাম বাড়ে শুধুমাত্র জাতি গড়ার কারিগর প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনের গ্রেড বাড়ে না। একটা বড় ধরনের গ্রেড বৈষম্যের শিকার হয়ে আছেন স্নাতকধারী প্রাথমিক শিক্ষকেরা। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও প্রাথমিক শিক্ষকদের দাম যে বাড়েনি, সে বিষয়ে সামান্য আলোকপাত করছি।

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক সমমান (২য় বিভাগ) ‌বেতনগ্রেড ১৩তম। পাশাপাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক সমমান, বেতন গ্রেড ১০ম। পুলিশের সাবইন্স‌পেক্টরের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান, বেতন গ্রেড ১০ম। হাসপাতালের নার্সদের নিয়োগ যোগ্যতা এইচএসসি (ডিপ্লোমা ইন না‌র্সিং), বেতন গ্রেড ১০ম। উপসহকারী কৃ‌ষি অফিসারের নিয়োগ যোগ্যতা এসএসসি (কৃষি ডিপ্লোমা), বেতন গ্রেড ১০ম। ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক, বেতন গ্রেড ১০ম।

এ ছাড়া ‌পিএস‌সি কর্তৃক প্রকাশিত সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞ‌প্তিতে পরীক্ষণ বিদ্যাল‌য়ের শিক্ষক প‌দে নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক (দ্বিতীয় শ্রেণি), সাথে দেড় বছরের ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন (ডি‌পিএড), বেতন গ্রেড ১০ম। অথচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের স্নাতক যোগ্যতা নিয়ে এসেও সেই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ১৩তম গ্রেডের বেতনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। অতএব দুঃখ করেই আজ বলতে হচ্ছে, সকল কিছুরই দাম বাড়ছে শুধু দাম বাড়ছে না প্রাথমিকের শিক্ষকদের।

মো. জামিল বাসার
সহকারী শিক্ষক,বওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল

চিঠি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন