দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী কিশোর-তরুণ। ইউএনডিপির এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের ৪৯ শতাংশ মানুষের বয়স ২৬ বা এর নিচে; অর্থাৎ দেশের জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর একটি অংশ যুবক, তরুণ, শিশু ও কিশোর। এই তরুণ ও কিশোরেরা ভবিষ্যতে এই দেশকে নেতৃত্ব দেবে। উন্নত, সুখী, সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় রূপ দিতে তৎপর হবে। এই প্রত্যাশা আমাদের সবার।
পরিসংখ্যান, গবেষণাপত্র কিংবা সমীক্ষায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে শঙ্কিত হতে হয়। দেশে বর্তমানে দেড় কোটি মানুষ মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত। মাদকসেবীদের প্রায় ৮০ শতাংশই তরুণ-কিশোর (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর)। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ধূমপান মাদক নামক ‘নীরব ঘাতক’-এর প্রবেশপথ। পরবর্তী সময়ে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, কোকেনসহ দেশি-বিদেশি নাম জানা-অজানা নিত্যনতুন মাদকে আসক্ত হয় মানুষ।
নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের এই সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েই কোমলমতি শিক্ষার্থীর দোরগোড়ায় মাদক হানা দিচ্ছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাদক আশঙ্কাজনকভাবে বিস্তার লাভ করছে। এই মাদক আমাদের নবীন, কিশোর, তরুণ প্রজন্মের প্রাণশক্তি ও মেধাকে শুধুই ধ্বংস করছে না, পাশাপাশি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অপরাধ ও অপকর্ম ছড়িয়ে পড়ছে।
বলা বাহুল্য, বেশির ভাগ মাদকই ব্যয়বহুল। এই মাদকের টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে মাদকসেবনকারীর হিংস্রতা জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বভাবতই, শিশু-কিশোররা অনুকরণপ্রিয়। তারা বন্ধুবান্ধব কর্তৃক বেশি প্রভাবিত হয়। সন্তানদের বন্ধু নির্বাচনে বাবা-মায়ের খেয়াল রাখা উচিত। নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক মূল্যবোধেও সন্তানদের মধ্যে জাগ্রত করতে হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে, সেটা প্রশংসাযোগ্য। তবে এ ক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা কথিত বন্দুকযুদ্ধ পরিহার করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আরোপ করায় অধিকতর যুক্তিসংগত। আগামীর বাংলাদেশ হোক মাদকমুক্ত।
আনোয়ার ইব্রাহিম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়