বানভাসি নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে নজর দিন

বন্যা থেকে রেহাই পেতে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছে মানুষ। কোম্পানীগঞ্জের বর্ণি এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

আজকের একটি মেয়ে আগামী দিনের মা। তাই প্রতিটি নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কথা বলতে গেলে শুরুতেই আসে পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের বিষয়টি। প্রতিটি নারীর জন্য পিরিয়ড খুবই সাধারণ একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। প্রতি মাসেই একটি নির্দিষ্ট সময় নারীরা এর মধ্য দিয়ে যায়। আর পিরিয়ডের সময় সবচেয়ে দরকারি হচ্ছে যথাযথ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা। কেননা জন্মগতভাবে নারীদের শরীর কিছুটা সংবেদনশীল এবং প্রাকৃতিক নিয়মেই নারীদের শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে, তার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা খুবই জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশে ২০১৪ সালে সরকার এবং আইসিডিডিআরবির চালানো ন্যাশনাল হাইজিন সার্ভেতে বলা হয়েছে, পিরিয়ডের সময়কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রায় কোনো ধারণাই নেই দেশের বেশির ভাগ নারীর।

বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ অনেক জেলার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে আছে। চারদিকে পানি, নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই সঠিক আবাসন ব্যবস্থা, বন্যায় হারিয়েছে নিজের শেষ সম্বলটুকু। এ বিপর্যয়ের সময় তারা মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে। এত সমস্যার মধ্যে নারীদের জন্য বাড়তি একটি সমস্যা হলো পিরিয়ড। সরকারসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বানভাসি মানুষের সহায়তায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাদের নিয়মিত খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করছে। কিন্তু এসবের পাশাপাশি নারী স্বাস্থ্যের বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।

বেশির ভাগ নারী পিরিয়ডের সঙ্গে বেশ কিছু শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হন। পেশিতে ব্যথাভাব দেখা দেওয়া, জ্বর জ্বর ভাব, তলপেটে ব্যথা, মুড সুইংসহ নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। এগুলোর পাশাপাশি যদি পিরিয়ডের সময় তাঁরা স্যানিটারি ন্যাপকিনের সংকটে ভোগেন, তাহলে তাঁদের জন্য এ বিপর্যয় মোকাবিলা করা আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। পিরিয়ডের সময় কেবল পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার অভাবে নারীর প্রজননস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে নারী স্বাস্থ্য, বিশেষ করে নারীর প্রজননস্বাস্থ্য এবং পিরিয়ড বা মাসিকের সময় পরিচ্ছন্নতা বা নিরাপদ ব্যবস্থাপনা না থাকার কারণে নানা রকম অসুখবিসুখও হচ্ছে।

বানভাসি নারীরা এমনিতেই সংকটময় সময় পার করছেন। বর্তমানে তাঁরা যে পরিবেশে থেকে জীবনযুদ্ধ করছেন, তা অকল্পনীয়। এসবের মধ্যে তাঁদের প্রজননস্বাস্থ্য অনেকটাই হুমকির মুখে। তাই খাদ্য ও পানির পাশাপাশি বানভাসি নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হলেই ভবিষ্যতে একজন শিশু সুস্বাস্থ্য নিয়ে পৃথিবীতে আসবে। তাই বানভাসিদের খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির মতোই বানভাসি নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

সিরাজুম মনিরা
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ