প্রতিশ্রুতি নয়, প্রস্তাবনা: এনসিপির ইশতেহার নিয়ে বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে, ৩০ জানুয়ারিছবি: তানভীর আহাম্মেদ

প্রথম আলোতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কলামে মাহতাব উদ্দীন আহমেদ এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে যে প্রশ্ন ও সমালোচনা উত্থাপন করেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার মতো। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সমালোচনা প্রয়োজনীয় এবং আমরা বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, তিনি পুরো ইশতেহারটি পড়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে। এই লেখার উদ্দেশ্য কাউকে আক্রমণ করা নয়; বরং এনসিপির ইশতেহার নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার একটি প্রয়াস। নতুন বাংলাদেশে আমরা যে পলিসিভিত্তিক রাজনীতির স্বপ্ন দেখি, এই আলোচনা সে পথেই একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

লেখকের প্রথম প্রশ্ন হলো, কেন আওয়ামী মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশন, হাশেম ফুডস বা চকবাজারের মতো তাঁর ভাষায় ‘কাঠামোগত গণহত্যা’র আলোচনা ইশতেহারে নেই। আমাদের ইশতেহারের প্রথম অধ্যায় রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে; সে কারণেই সেখানে সাংবিধানিক ও নির্বাহী কাঠামোর সংস্কার–সংক্রান্ত প্রস্তাবনাই স্থান পেয়েছে। নগর পরিকল্পনার দুর্বলতার সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আদর্শের সরাসরি সম্পর্ক আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।

ফলে এ বিষয়গুলো আমরা ‘পরিবেশ, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক দশম অধ্যায়ে আলোচনা করেছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঘটে যাওয়া মব ও রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে এনসিপি বরাবরই সোচ্চার ছিল। গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক সহিংসতার প্রায় ৯২ শতাংশ বিএনপির হাতে এবং মাত্র ১ শতাংশ এনসিপির হাতে সংঘটিত হয়েছে বলে গবেষণায় এসেছে। ফলে এনসিপিকেই এ বিষয়ে প্রধান প্রশ্নবিদ্ধ করা কিছুটা বিস্ময়কর। জাতিগত সহিংসতা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কেও আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ইশতেহারেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন

এরপর লেখক সরকারি খাতের পে স্কেল নিয়ে কথা বললেও বেসরকারি খাতের পে স্কেল নিয়ে কেন বলা হয়নি সে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা বেতনকাঠামো কর্মীদের সঙ্গে সমঝোতা ও বাজার বাস্তবতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ফলে সেখানে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ এনসিপির অর্থনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সরকারের দায়িত্ব ন্যূনতম মজুরি, ছুটি ও মৌলিক চাকরি-সুবিধা নির্ধারণ করা এবং ইশতেহারে আমরা ঠিক সেটাই প্রস্তাব করেছি।

লেখক প্রশ্ন করেছেন শাস্তিপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজদের কেন সব ক্ষেত্রেই স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না। পেনাল কোড অনুসারে সব অপরাধের শাস্তি কিন্তু মৃত্যুদণ্ড না। অপরাধের মাত্রা অনুসারে শাস্তি দেওয়া একটি খুবই মৌলিক ধারণা এবং আমরা সেই ধারণাতেই বিশ্বাস করি। এ ছাড়া আমরা সব মসজিদের জন্য নয়, কেবল সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পে স্কেলের আওতায় আনার কথা বলেছি। আমাদের জানা মতে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত মন্দির, গির্জা বা প্যাগোডা নেই। যদি থেকে থাকে, তবে সেগুলোকেও একই কাঠামোর আওতায় আনা অবশ্যই যুক্তিসংগত হবে।

নাগরিক সেবাকেন্দ্রে যাওয়া সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। এগুলো সরকারি ওয়েবসাইটের বিনা মূল্যের সেবা বা অফিসের ফ্রি হেল্প ডেস্ককে প্রতিস্থাপন করবে না। যেহেতু এখানে কঠোর অ্যান্টি-মনোপলি নীতি (একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ) প্রযোজ্য, বড় করপোরেট লবির মাধ্যমে সরকারি সেবা দুর্বল করার সুযোগ নেই।

বাস্তবে বর্তমানে যে কাজটি এলাকার ছোট কম্পিউটার দোকানগুলো করছে, সেটিকেই আমরা একটি স্বচ্ছ ও কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যে আনছি। লেখক জানতে চেয়েছেন, মুদিদোকান টিসিবির পণ্য বেশি দামে বিক্রি করবে না তার নিশ্চয়তা কী? আমরা স্পষ্টভাবেই বলেছি, এই বিক্রয় হবে ডিজিটাল পেমেন্টে এবং গ্রহীতার এনআইডির সঙ্গে লিংকড। এই ভর্তুকি মুদিদোকানির হাত হয়ে যাবে না, বরং সরাসরি ক্রেতার কার্ডের লিমিট অনুসারে নির্ধারণ হচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ও ট্র্যাকিং এবং দামের স্বচ্ছতাই মনিটরিং মেকানিজম।

এনসিপির ইশতেহার কোনো অলীক প্রতিশ্রুতির দলিল নয়, বরং এটি একটি বাস্তববাদী রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা। এই প্রস্তাবনা প্রণয়ন করা হয়েছে রাষ্ট্রের ভূমিকা ও অর্থনীতি বিষয়ে এনসিপির দর্শনের ভিত্তিতে। ইশতেহারের প্রতিটি নীতি নিয়ে ভিন্নমত, সমালোচনা ও বিতর্ক হতে পারে এবং সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে সমালোচনা যেন অসম্পূর্ণ পাঠ বা পূর্বধারণার ওপর দাঁড়িয়ে না থাকে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে লেখকের প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট চুক্তির ধারার ওপর। ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট না করলে আমাদের ডব্লিউটিওর মৌলিক চুক্তির আওতাতেই বাণিজ্য করতে হবে, লেখক কি সেটিই প্রত্যাশা করেন? লেখক দাবি করেছেন আমরা কোন কোন খাতে নতুন শিল্প গড়ব, তা বলিনি। অথচ ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় সুস্পষ্টভাবে বাণিজ্য বৈচিত্র্যের জন্য ১০টি অগ্রাধিকার শিল্প খাত ও সংশ্লিষ্ট কৌশলের কথা উল্লেখ আছে। ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি বাংলাদেশের আইন ও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত পরিভাষা। আমরা ইশতেহারে এই শব্দগুলোকে আইনি পরিভাষাতেই ব্যবহার করেছি, চলতি অর্থে নয়।

মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে নামানোর প্রসঙ্গে ৩৬ নম্বর পৃষ্ঠায় ফ্লোটিং কারেন্সি, ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেটের স্বচ্ছতা, রিজার্ভ পুনর্গঠন ও সরকারি বিনিয়োগ নীতি সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাবগুলো যথেষ্ট কি না সে নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু কোনো নীতির উল্লেখই নেই এমন দাবি বিস্ময়কর। আর্থিক শিক্ষা প্রসঙ্গে আমরা কখনোই বলিনি এটি একমাত্র শর্ত; বরং এটিকে প্রয়োজনীয় একটি শর্ত হিসেবে দেখেছি, মুদ্রানীতি ও বিনিয়োগ নীতি সংস্কারের পাশাপাশি। পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ৪৮ থেকে ৫০ নম্বর পৃষ্ঠায় খাতভিত্তিক বিস্তারিত প্রস্তাবনা রয়েছে। দ্বিমত থাকা স্বাভাবিক, তবে প্রক্রিয়ার বিবরণ নেই—এ দাবি সঠিক নয়।

আরও পড়ুন

শিক্ষা অধ্যায়ে শিক্ষা কমিশনের মাধ্যমে সমন্বয়ের প্রশ্নে আমরা স্পষ্টভাবেই বলেছি—এই যৌক্তিকতা নির্ধারণ করবে সেই কমিশনই। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণকে আমরা পুরোনো রাজনীতি নয়, বরং মানোন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখি। বিদ্যমান সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দৈনন্দিন চিকিৎসাব্যবস্থাকে জনবান্ধব করার বিষয়টি আমাদের নীতিগত প্রস্তাবনার কয়েকটিতে এলেও এটিকে দেখতে হবে আমাদের ১০ বছর মেয়াদি ন্যাশনাল হেলথ ইনস্যুরেন্স প্রকল্পের অধীন। সেখানে আমরা বলেছি ই-হেলথ রেকর্ড, রেফারেল সিস্টেম, সিনক্রোনাইজেশন, প্রাইমারি স্বাস্থ্যসেবার খরচ ইত্যাদি বিষয়ের কথা। কোন ধাপে কতটুকু অর্জন আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় সেটিরও উল্লেখ আছে।

ডে-কেয়ার সুবিধা দেওয়াকে আমরা সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক করতে চাই এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ডে-কেয়ার ভর্তুকি দেওয়ার কথা বলেছি—এটিকে লেখক ন্যক্কারজনক বলেছেন। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মানে তো কেবল বড় করপোরেশন না, তিনজন কর্মচারীর একটি দোকানও। সে রকম ক্ষুদ্র ও ব্যবসায়ীর জন্য ডে-কেয়ার সুবিধা দেওয়া বাধ্যতামূলক করলে কি তার ব্যবসা টিকবে? এই অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকেই আমরা আমাদের প্রস্তাবনা দিয়েছি।

আমাদের প্রস্তাবিত পিরিয়ড লিভের কাঠামোর নিন্দা করে লেখক আমাদের প্রশ্ন করেছেন আমরা আদৌ কি ভেবে দেখেছি, পিরিয়ড লিভ কেন দরকার। আমরা মনে করি আমরা ভেবে দেখেছি বলেই একমাত্র দল হিসেবে এই প্রস্তাব দিয়েছি। বাংলাদেশে পিরিয়ড লিভ নেই, এবং কেউ ছুটি নিলে সেটা তার ঐচ্ছিক ছুটি থেকে কাটা যায়। যদি বাংলাদেশ সরকারের সেই আর্থিক সামর্থ্য থাকত, আমরা মাসে দুই দিন পূর্ণ ছুটির প্রতিশ্রুতি দিতাম। ফলে আমরা এই প্রচলন শুরু করতে চাচ্ছি, যা রাজস্ব বৃদ্ধি ও কর্মসংস্কৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে আরও বেশি নারীবান্ধব হবে বলে আমরা আশা করি।

নারীকে উত্তরাধিকার সম্পত্তির ক্ষেত্রে ধর্মীয় আইন ও সমান অধিকারের মধ্যে বেছে নেওয়ার আইনি সুযোগ না দেওয়ায় লেখক আমাদের সমালোচনা করেছেন। উত্তরাধিকার সম্পত্তির ক্ষেত্রে আমরা মনে করি, যেহেতু সম্পত্তির মালিক পিতা/মাতা, তাঁর সম্পত্তি কে কতটুকু কোন নিয়মে পাবে সেটাও তাঁদেরই সিদ্ধান্ত। সম্পত্তির অধিকারের (right of property) মৌলিক ধারণার জায়গা থেকে একজন ব্যক্তির সম্পত্তি তিনি কাকে দেবেন, সেটি কেন আরেকজন (হোক সে সন্তান) নির্ধারণ করার অধিকার পাবেন, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়।

বর্তমানে সমাজের অধিকাংশই ধর্মীয় নিয়মে তাঁদের সম্পত্তি সন্তানদের দিতে চান। ফলে বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়াতে এটিই ডিফল্ট সিস্টেম হওয়া উচিত। সমাজে যদি কখনো অধিকাংশ মানুষ সমান বণ্টনের পক্ষে যান, তখন সেই নিয়মই ডিফল্ট হওয়া যুক্তিযুক্ত হবে। কিন্তু যার সম্পত্তি, তার কাছেই থাকবে বণ্টনের নিয়ম নির্ধারণের অধিকার।

সবুজ ও টেকসই শক্তি কাঠামোর দিকে যাওয়ার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডই হলো কয়লা থেকে প্রথমে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পরে সম্পূর্ণই ফসিল ফুয়েল থেকে দূরে সরে যাওয়া। ফলে আমরা কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করা নিয়ে আলাদা করে বলিনি। পারমাণবিক বিদ্যুৎকে একতরফাভাবে জননিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখার আগে বিভিন্ন শক্তি উৎসের টেরা-ওয়াট ঘণ্টা প্রতি মৃত্যুহারের তুলনামূলক পরিসংখ্যান দেখা জরুরি।

লেখক কারখানায় ইটিপি স্থাপন নিশ্চিত করতে আমাদের প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। ইটিপি স্থাপন বর্তমানেও বাধ্যতামূলকই, তাহলে হচ্ছে না কেন? আমরা মনে করি কেবল কঠোর আইনই জনগণকে তা মানাতে যথেষ্ট না, হয়তো কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে তা সম্ভব। ফলে আইন ও প্রণোদনার সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ ও ব্যবসাবান্ধব সরকার তৈরি করতে চাই। লেখক দাবি করেছেন আমরা দূষণ বন্ধ, নদী খাল পরিবেশ রক্ষা নিয়ে ‘পরিষ্কার’ আলাপ করিনি। আমাদের ৬৯-৭১ এই আড়াই পৃষ্ঠাব্যাপী দূষণ প্রতিরোধে প্রস্তাবনা যথেষ্ট ‘পরিষ্কার’ কি না, তার বিবেচনা ব্যক্তিভেদে আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক।

সশস্ত্র বাহিনী প্রসঙ্গে আমরা স্পষ্ট: বাংলাদেশকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করতেই চাই। ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তি পুনর্বিবেচনা করার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকলেও লেখক চুক্তি বাতিলের কথা না থাকায় সমালোচনা করেছেন। এ রকম রাষ্ট্রীয় চুক্তিসমূহ রাষ্ট্রের নিরাপদ সার্বভৌমত্বের অধীন এবং কোনো রাষ্ট্র চুক্তি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশন আদালতের মুখোমুখি করা যায়।

বাংলাদেশ আগেও এ রকম আরবিট্রেশন আদালতে জরিমানা দিয়েছে। এ রকম রাষ্ট্রীয় চুক্তি দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া ভঙ্গ করলে সেই রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যাওয়ায় পরবর্তী আন্তর্জাতিক চুক্তি করা হয়ে যায় কঠিন ও খরচসাপেক্ষ। যেহেতু আমরা অ্যাকটিভিজম করতে না, বরং সরকার গঠনে আগ্রহী, তাই এসব আন্তর্জাতিক বিধিমালা ও বাস্তবতা মেনেই আমাদের প্রস্তাবনাগুলো লেখা হয়েছে।

লেখক বলেছেন, গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ, হস্তক্ষেপ বন্ধ করার কথা আমরা বলি। অথচ ৫৩ নম্বর পৃষ্ঠায় দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ পুরোটাই দেশের গবেষণা কাঠামোর সংস্কার নিয়ে। লেখক দাবি করেছেন, এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধেই পত্রিকাতে চাঁদাবাজির অভিযোগের অভাব নেই, তাই তিনি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এনসিপির জিরো টলারেন্স বিশ্বাস করেন না।

হাসিনা–পরবর্তী সময়ে (৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত) প্রথম আলোতে প্রকাশিত নিউজ অনুসারে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, হুমকি, দখলসহ মৌখিক ও আর্থিক সহিংসতার খবর এসেছে ৭৪৫টি, জামায়াতের ক্ষেত্রে ৩৮টি এবং এনসিপির ক্ষেত্রে ১২টি। এনসিপির ১২টি নিউজের কোনোটিই চাঁদাবাজির নয়। ফলে পত্রিকা রিপোর্টের সংখ্যাকে রেফারেন্স ধরলে বরং এনসিপির ও তার জোটেরই চাঁদাবাজি বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বলার সক্ষমতা আছে।

এনসিপির ইশতেহার কোনো অলীক প্রতিশ্রুতির দলিল নয়, বরং এটি একটি বাস্তববাদী রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা। এই প্রস্তাবনা প্রণয়ন করা হয়েছে রাষ্ট্রের ভূমিকা ও অর্থনীতি বিষয়ে এনসিপির দর্শনের ভিত্তিতে। ইশতেহারের প্রতিটি নীতি নিয়ে ভিন্নমত, সমালোচনা ও বিতর্ক হতে পারে এবং সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে সমালোচনা যেন অসম্পূর্ণ পাঠ বা পূর্বধারণার ওপর দাঁড়িয়ে না থাকে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ আজ যে সংকটে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে প্রয়োজন স্লোগানভিত্তিক রাজনীতি নয় বরং নীতিভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর আলোচনার। এনসিপি সেই আলোচনার পথ খুলতে চায় এবং এই বিতর্ককে আমরা সে পথেরই একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখি।

  • ইশতিয়াক আকিব সেক্রেটারি, ইশতেহার বিষয়ক উপকমিটি, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি

*মতামত লেখকের নিজস্ব