বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দলীয় প্রতীকে ভোট না হলে নির্বাচনে এতটা সহিংসতার ঘটনা ঘটত না। দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ার কারণে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোট গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও চাপে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারছেন না। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা অন্যদের ওপর ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেষ্টা করছেন। আবার বিদ্রোহী প্রার্থীরাও দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। কারণ, দলীয় প্রতীক না পেলেও দলীয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশও তাঁদের সঙ্গে কাজ করছে।

ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোটেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারছেন না। কারণ, তাঁরা দলীয় প্রভাব থেকে বের হয়ে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দলীয় সরকারের নির্দেশের বাইরে কাজ করার কোনো ক্ষমতা নেই। দলীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান-মেয়র এবং জেলা-উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অনেক পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে সাংসদ-নেতাদের কাছে ওসি-এসপিরাও অসহায় হয়ে পড়েন।

ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় অনেক কালোটাকার মালিক দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী মাঠে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করছেন। দলীয় প্রতীক থাকায় তাঁরা এতটাই ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন যে ভোটারের সমর্থন থাকার পরও নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো অনেকেই সাহস পাচ্ছেন না। চাপ দিয়ে তাঁদের ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ কেউ বিজয়ী হচ্ছেন।

ইউপি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও প্রভাবমুক্তভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন ছাড়া কখনোই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করার সরকারের জনগণের প্রতি অঙ্গীকার থাকতে হবে, স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া চলবে না। কে কোন দলের প্রার্থী, তা ভুলে যেতে হবে, জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে জনগণের রায় প্রদানে স্বাধীনতা দিতে হবে।


বজলুল করিম বাহার, কবি ও কথাসাহিত্যিক; সাবেক সভাপতি, সনাক, বগুড়া

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন