সাক্ষাৎকার: তাসনিম আফরোজ

ডাকসুর নারী প্রার্থীদের জন্য ভালো পরিবেশ নেই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বামপন্থী সাতটি ছাত্রসংগঠন মিলে গঠন করেছে প্রতিরোধ পর্ষদ। প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলে শেখ তাসনিম আফরোজ (ইমি)–কে ভিপি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি সরাসরি কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তিনি শামসুন নাহার হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাহমিদ সাকিব

প্রথম আলো:

নির্বাচনী প্রচারে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

তাসনিম আফরোজ: আমাদের অনলাইন প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে যে একটা গোষ্ঠী আমাদের প্যানেলকে, বিশেষ করে নারী প্রার্থীদের নানাভাবে বুলিং (হেনস্তা) করার চেষ্টা করছে। ফেসবুকে আমাদের পোস্টগুলোতে ‘হা হা’ (হাসির প্রতিক্রিয়া) দেওয়া হয়। একটা ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয় যে আমাদের কোনো সমর্থন নেই। কিন্তু আমরা যখন ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন (দরজায় দরজায় গিয়ে প্রচার) করছি, স্টুডেন্টদের (শিক্ষার্থী) কাছে যাচ্ছি, তাঁরা আমাদের খুব আন্তরিকভাবে গ্রহণ করছেন।

প্রথম আলো:

আপনি তো বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন না। কিন্তু এবার বামপন্থী সাতটি ছাত্রসংগঠনের প্যানেলে এসেছেন। এটার পেছনে কোনো চিন্তা বা কৌশল ছিল?

তাসনিম আফরোজ: যে পরিস্থিতিতে আমার এখানে আসা সেটা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মুখোমুখি দাঁড় করার চেষ্টা বিগত এক বছরে দেখেছি। দেশের নারীদের যে অবস্থা, নারী নিপীড়নের ঘটনা এবং টিএসসিতে রাজাকারদের ছবি স্থাপন—এগুলো নিয়ে আমার প্যানেলের সহযোদ্ধারা ছাড়া কাউকে সেভাবে কথা বলতে দেখিনি। আমার মনে হয়েছে, মানবাধিকার ও অধিকারের প্রশ্নে আমার প্যানেলের প্রার্থীরা ৫ আগস্ট (২০২৪) পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময় একই রকম নৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। এসব কারণেই আমি এই প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছি।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

বামপন্থীরা তো সব সময় প্রতিবাদী ভূমিকায় থাকে। এই ভূমিকা ভোটের ক্ষেত্রে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে?

তাসনিম আফরোজ: একটা সময় বামপন্থীরাই ডাকসুতে সবচেয়ে ভালো ফল করত। আমার মনে হয়, একেকটা সময় একেকটা শক্তি প্রভাবশালী থাকে। আমরা স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রশ্নে সবাই আপসহীন ছিলাম, এক হতে পেরেছিলাম; এখন বিভেদটা বেশি হয়ে গেছে। আমরা ছোট ছোট ব্যাপারে কাউকে ছাড় দিতে চাই না। আপনি যদি লক্ষ করে দেখেন, ডাকসু নির্বাচনে প্রগতিশীল ঘরানার প্যানেল আছে তিনটি। বামপন্থী ধারার ছাত্রসংগঠনগুলো দুটি প্যানেল দিয়েছে। এই যে কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের যে অভাব, এটা শুধু বামপন্থীদের না; বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির একটা বড় সংকট।

প্রথম আলো:

প্রচারণায় কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন কি?

তাসনিম আফরোজ: ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইনে কোনো বাধার সম্মুখীন হইনি। কিন্তু অনলাইনে প্রচুর হ্যারাসমেন্ট (হয়রানির শিকার) হচ্ছি। আজেবাজে গালাগালি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডানপন্থী কিছু সংগঠন খুব বাজেভাবে আক্রমণ করে, শাহবাগি ট্যাগ (অভিহিত করা) দেয়। সবকিছু মিলিয়ে আমি বলব, আসলে কোনো সংগঠনের নারী প্রার্থীদের জন্যই ভালো পরিবেশ নেই।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

এবারের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের আশঙ্কার জায়গা দেখছেন কি না?

তাসনিম আফরোজ: নির্বাচন অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল। আবার সেই স্থগিতের আদেশ স্থগিত হলো। এইভাবে তো আমাদের সঙ্গে প্রহসন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষতার জায়গা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভোটের সময় এক সপ্তাহ যদি ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকে, তাহলে তো অধিকাংশ শিক্ষার্থী চলে যাবেন। ইতিমধ্যে অনেক হল থেকে শিক্ষার্থীরা চলে গেছেন। আমরা কিন্তু শুরু থেকেই বলে আসছিলাম, ক্লাস চলমান থাকুক। শুধু ভোট গ্রহণের দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকুক। আমার মনে হয়, একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই তাঁরা শুরু থেকে নানা রকম মেকানিজম (কৌশল) করছেন।

প্রথম আলো:

আপনি ও আপনাদের প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?

তাসনিম আফরোজ: ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইনে আমরা আসলেই খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। সে ক্ষেত্রে আমরা তো আশাবাদী। কিন্তু সংকটের কথাও তো বললাম। শিক্ষার্থীরা হল ছাড়া শুরু করেছেন। এত লম্বা সময় বন্ধ থাকলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ডাকসু নিয়ে উদ্দীপনায় ভাটা পড়বে।