ঢাকা–১৫ আসনের একটি কেন্দ্র: ‘ভোট দিতে ২–৩ মিনিট সময় লাগছে’
ঢাকা–১৫ আসনের মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের একটি কেন্দ্রে ভোট শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় প্রায় ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে। পুরুষ ভোটারদের এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৪১৮ জন। এর মধ্যে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩৩ জন ভোট দিয়েছেন। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
কেন্দ্রটি থেকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে সকাল ৯টার দিকে শামসুল ইসলাম নামের এক ভোটার প্রথম আলোকে বললেন, ‘ভোট দিতে দু–তিন মিনিট সময় লাগছে।’
শামসুল ইসলাম ছয় বছর আগে ভোটার হয়েছেন। তবে তিনি এবারই প্রথম ভোট দিলেন। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে কেন্দ্রে এসে দেখেছিলাম, আমার ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়ে দিয়েছে। এবার কোনো সমস্যা ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছি।’
সকাল ৮টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রবেশমুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়ে আছেন। ভোটার, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক বাদে কাউকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রের সামনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের লোকজন আছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির আরেকটি পুরুষ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাকির হোসাইন। সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় তাঁর কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২০৪টি। তাঁর কেন্দ্রের মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৭১ জন।
সব প্রার্থীর এজেন্টরা এসেছেন কি না—এমন প্রশ্নে জাকির হোসাইন বলেন, দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের সব এজেন্ট এসেছেন।
সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ভোট শুরুর পরপর ভোটারদের চাপ ছিল বলে জানান জাকির হোসাইন। তিনি বলেন, এখন চাপ একটু কমে এসেছে।
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে দুটি নারী ভোটকেন্দ্র আছে। এর মধ্যে একটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ১৫৫ জন। সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ১৫০ জন। তাঁর কেন্দ্রে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার এজেন্টরা আছেন। অন্য দলের এজেন্টরা আসেননি।
নারীদের আরেকটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ১৮২ জন। প্রথম দেড় ঘণ্টায় ভোট দিয়েছেন ১২৭ জন। তাঁর কেন্দ্রে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও প্রজাপতি প্রতীকের এজেন্ট আছেন।
ঢাকা–১৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন। এ আসনে তৃতীয় লিঙ্গের চারজন ভোটার আছেন।
আটজন প্রার্থী এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন শফিকুল ইসলাম খান (ধানের শীষ), শফিকুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), সামসুল হক (লাঙ্গল), আহাম্মদ সাজেদুল হক (কাস্তে), খান শোয়েব আমান উল্লাহ (কলম), মোবারক হোসেন (একতারা), আশফাকুর রহমান (মোটরগাড়ি) ও নিলাভ পারভেজ (প্রজাপতি)।