ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, কার কোথায় কত বাড়িঘর আছে। কত টাকা সরিয়েছেন। কীভাবে সরিয়েছেন। কীভাবে নিয়ে গেছেন। সব এই দেশের মানুষ জানে এবং তা প্রকাশিত হবে।

বিএনপি নেতা আরও বলেন, ‘আমরা নিজের উপার্জনের টাকা পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে রাজনীতি করি। দ্য ইজ ভেরি আনফরচুনেট। আমরা এমনটা আশা করি না যে এত বড় রাজনৈতিক দলের একজন সাধারণ সম্পাদক তাঁর মুখ থেকে এ ধরনের অশালীন বক্তব্য আসবে।’

সব রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে ওবায়দুল কাদের এমন মন্তব্য করেছেন বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। সে আক্রমণে তিনি বলেছেন আমরা নাকি দুবাই থেকে টাকা পাই। আর আমি নাকি টাকার ওপর শুয়ে আছি। আমি ওবায়দুল কাদেরকে এটুকু বলতে চাই অযথা বেশি ঘাটাবেন না। ঘাটাতে গেলে কেঁচো বের হয়ে আসবে। আপনারা কী করেন, না করেন, গোটা বাংলাদেশের মানুষ জানে। কীভাবে অর্থ উপার্জন করেন সবাই জানে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে রাজনীতি করি। আমরা কারও পয়সায় রাজনীতি করি না। আমাদের দলের নেতা–কর্মীরা চাঁদা দিয়ে প্রতিটি সমাবেশ করছে। এটাই হচ্ছে আমাদের বৈশিষ্ট্য। আমরা কারও কাছ থেকে টাকাপয়সা নিয়ে রাজনীতি করি না। আপনারা কী করেন, এটা বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে সবাই জানে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা কে কোথায় হাজার হাজার কোটি টাকার বাড়ি করছেন। কে কোথায় ব্যাংকের লোন নিয়ে পাচার করে দিচ্ছেন। আপনারা কানাডাতে বেগমপাড়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করলেন সব খবর রাখি। কে কয়টা ব্যাংকের মালিক হলেন, কারা আমেরিকাতে কতগুলো বাড়ি করেছেন, আর দেশের মানুষের ৪৩ কোটি টাকা দিয়ে সচিবদের জন্য বাড়ি করছেন। এগুলো মানুষের টাকা। এগুলো মানুষের করের টাকা। আপনাদের চেহারার দিকে তাকানো যায় না।’

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কত লোক হয়েছে, তা দেখতে মির্জা ফখরুলকে আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা সরকারি গাড়ি–ঘোড়ার সঙ্গে টাকা ব্যবহার করে যে লোকজন নিয়ে এলেন বিশাল নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে, সরকারি জায়গার মধ্যে, সেখানে চেয়ার পর্যন্ত পূরণ করতে পারেননি। ২২ হাজার চেয়ার যদি পূর্ণ না হয়, তাহলে কত লোক হয়েছে, আপনারা রিপোর্ট করুন।’

সংবাদ সম্মেলনের আগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যৌথ সভায় বসে বিএনপি। ওই সভার সিদ্ধান্তও জানান মির্জা ফখরুল। বিএনপির মহাসচিব বলেন,  মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর বেলা ২টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সকাল ছয়টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

ওই দিন বেলা ১১টায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতিহা পাঠ করবেন। এ ছাড়া জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইতিমধ্যে সারা দেশে জেলা ও মহানগরের পোস্টার পাঠানো হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান, দলের যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।