১২ তারিখ নির্বাচন, ১৩ তারিখ থেকে দেশ গঠনের যুদ্ধ: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন হলে ১৩ তারিখ থেকে দেশ গঠনের যুদ্ধ শুরু হবে। সেই যুদ্ধে সবাইকে বিএনপির পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভোটদানে সঠিক ব্যক্তি নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রোববার রাতে রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুলের সানভ্যালি মাঠে ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এ কথা বলেন। দেশ পুনর্গঠনের ডাক দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশকে আমাদেরই পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে এই দেশের সন্তানেরা ভবিষ্যতে সঠিক শিক্ষা পায়। এই দেশের মানুষ যাতে সঠিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে, স্বাস্থ্যসেবা পায়। এই দেশের যুবকেরা যাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। এই দেশের মা–বোনেরা যাতে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।’
রাত ১১টার পর জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এর আগে সন্ধ্যা ছয়টায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। সভায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করা হয়। বিকেল থেকেই ঢাকা-১১ আসনের স্থানীয় ভোটার ও নেতা–কর্মীরা সভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন।
ভোটারদের সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি মহল কিন্তু ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, কীভাবে নির্বাচনকে বানচাল করা যায়, নির্বাচনকে বিতর্কিত করা যায়।’ তিনি বলেন, ‘পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় নজর রাখতে হবে, যাতে এই সব “গুপ্তরা” গিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।’
কেউ যাতে পকেটে করে নকল সিল ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘পত্রিকার পাতায় খবর দেখেছি, গুপ্ত বাহিনীর সদস্যরা ব্যালট পেপারে সিল দেওয়ার নকল সিল তৈরি করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে।’
ধানের শীষে ভোট চেয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিএনপি বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল, যাদের দেশ পরিচালনা করার মতো অভিজ্ঞতা রয়েছে, যাদের দেশ পরিচালনা করার মতো পরিকল্পনা রয়েছে, যাদের দেশ পরিচালনা করার কর্মসূচি রয়েছে।’
বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘কাজেই জনগণ যদি আমাদের সঙ্গে থাকে, জনগণ যদি আমাদের সমর্থন দেয়, জনগণ যদি ধানের শীষে ভোট দেয়, ইনশা আল্লাহ আপনাদের সামনে যে সকল প্রতিশ্রুতি আমরা রেখেছি, পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব।’
আগামী ১২ তারিখ সঠিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি শুরুর কথাও উঠে আসে বিএনপির চেয়ারম্যানের বক্তব্যে। তারেক রহমান বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে আপনারা যাবেন, দেশের আইন অনুযায়ী ভোট দেবেন। কিন্তু ভোট দিয়ে চলে এলে হবে না, হিসাব–নিকাশ বুঝে নেবেন।’
দীর্ঘ বক্তব্যে তারেক রহমান নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ঘরে বসে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তারেক রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে দেশের আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টিও। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম দায়িত্ব হবে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে, যাতে দিন-রাত যেকোনো সময় মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে তারেক রহমান বলেন, এ সময় দেশে প্রকৃত অর্থে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। নির্বাচনের নামে নাটক হয়েছে।
সমাবেশে ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী এম এ কাইয়ুমকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। এম এ কাইয়ুমের সভাপতিত্বে জনসভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
রোববার এর আগে তারেক রহমান রাজধানীর ইসিবি চত্বর, পল্লবী, মিরপুর, সেনপাড়া ও শ্যামলী ক্লাব মাঠে আয়োজিত পৃথক জনসভায় বক্তব্য দেন।