‘আওয়ামী স্টাইলে’ দেশ পরিচালনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে: সংসদে জামায়াতের রফিকুল ইসলাম
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকারের বয়স দুই মাসের বেশি হয়নি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় দলীয়করণ শুরু হয়েছে। সব জায়গায় ‘আওয়ামী স্টাইলে’ দেশ পরিচালনার একটা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ অভিযোগ করেন রফিকুল ইসলাম।
বৈষম্য ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদে, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। সচিবালয়ে যেসব কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী আমলে ওএসডি ছিলেন, এখন আবার তাঁদের ওএসডি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগে এটি বেশি হচ্ছে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির ছিল। এখন গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, দেশে আর কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা হলো বিরোধী দল। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেলের মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি—এসব বিষয়ে তাদের কোনো কথা নেই।
১৯৯৭ সাল থেকে একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের কথা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর এই সদস্য বলেন, ‘এই নির্বাচনের পরেই আমরা জামায়াত এত খারাপ হয়ে গেলাম।’ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ২০১৩ সালেই হওয়ার কথা ছিল। সে বছরের ২৯ ডিসেম্বর লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ছিল। সবাই ভেবেছিল, সেদিন পতন হবে।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা গুলশানে একটি বাসায় বৈঠক করেছিলেন উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সেখানে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সারা বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ সেদিন ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু কর্মসূচির দিন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বিএনপির নেতাদের সবার ফোন বন্ধ ছিল।
রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত। তিনি শেখ হাসিনার কোনো কাজকে অপছন্দও করেননি, নিষেধও করেননি, বরং নির্বিঘ্নে সহযোগিতা করেছেন। তাই তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে পারেন না। একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কেন রাষ্ট্রপতি রাখা হয়েছে, এটা বিএনপি ভালো বলতে পারবে।