সুরুজ মিয়া পেশায় কৃষক। তিনি যখন কথা বলছিলেন, আগুন পোহানোর জটলায় থাকা অন্যরাও বলেন, ‘চাচা হাছা (সত্য) কথাই কইছইন।’

সুরুজ মিয়ার সঙ্গে তাঁর নিজ উপজেলা তাহিরপুর ছাড়াও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন আগুন পোহাচ্ছিলেন। তাঁদের অনেকেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পদধারী নেতা। কেউ কেউ বিএনপির সমর্থক।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বাধাবিপত্তি পেরিয়ে অনেক কষ্টে তাঁরা গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট শহরে পৌঁছেছেন। পরে পুরো রাত সমাবেশস্থলেই নির্ঘুম কাটিয়েছেন।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আজিজুর রহমান (২৯) উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী রেজা কিবরিয়াকে সমর্থন দেওয়ার কারণে তিনিসহ তাঁর আরও রাজনৈতিক সহকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল।

এ মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। পরে গত অক্টোবর মাসে মামলা থেকে খালাস পান। কোনো ধরনের অন্যায় না করা সত্ত্বেও মামলা দিয়ে তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে। এসব ক্ষোভ তাঁর মনের ভেতরে জমা আছে। ভোটের অধিকার ফিরে পেতেই তিনি গণসমাবেশে এসে একাত্মতা জানিয়েছেন।

সমাবেশ মঞ্চের ঠিক সামনে এসে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই অবস্থান নিয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কয়েক শ নেতা-কর্মী। তাঁরা বলেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকে খাবার, পানিসহ তাঁরা এখানে অবস্থান নিয়েছেন। এসব নেতা-কর্মীর অনেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তবে তাঁরা এসেছেন তাঁদের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির ‘নিখোঁজ’ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর ‘গুম’ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে।

বিশ্বনাথ পৌর যুবদলের সদস্য মো. নাজমুল হোসেন (২৯) বলেন, বিশ্বনাথ উপজেলা থেকে ২৫–৩০ হাজার মানুষ এ সমাবেশে যোগ দেবেন। অনেকেই সমাবেশস্থলে গতকাল রাত কাটিয়েছেন।

একই উপজেলার রামপাশা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. চুনু মিয়া (৪১) বলেন, গত কয়েকটা দিন পুলিশ নানাভাবে তাঁদের হয়রানি করেছে। সমাবেশে যেন প্রচুরসংখ্যক মানুষ না আসতে পারেন, সে জন্যই এমন হয়রানি করা হয়েছে। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদীর গাড়িতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ হামলাও করেছে কয়েক দিন আগে। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতেই সমাবেশে এসেছেন।