কেন যেন মনে হচ্ছে, ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে: জিএস প্রার্থী তানভীর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম বলেছেন, কেন যেন মনে হচ্ছে, ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
আজ রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে শেখ তানভীর বারী হামিম এ মন্তব্য করেন।
শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, ‘আগে দেখতাম, জাতীয় নির্বাচনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ষড়যন্ত্র থাকে। কেন যেন মনে হচ্ছে, ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’
গণতন্ত্রের পথে ডাকসু নির্বাচনকে প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেন শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি বলেন, তাঁরা মনে করেন, গণতন্ত্রের পথে ডাকসু নির্বাচন প্রথম ধাপ। আর চূড়ান্ত ধাপ হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। অর্থাৎ ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে টালবাহানা করে জাতীয় নির্বাচন প্রলম্বিত করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। তাঁরা এমনটা আশা করেন না।
ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট হওয়ার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি বলেন, আজ ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা নিয়ে একটি রিট হয়েছে। তাঁরা বলতে চান, তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে যদি আপত্তি থাকে, তাহলে সেটি কেন নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে করা হলো। তিনি মনে করেন, প্রথম রিট করা উচিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। কারণ, এই ছাত্রসংগঠন যদি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন তাদের নির্বাচনের আওতামুক্ত করল না। নির্বাচনের সুযোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে। এত দিন না করে এখন কেন রিট করা হলো, এর ফলাফল কী হবে, সেটি তাঁর বোধগম্য হচ্ছে না।
ভোটের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ অনিশ্চিত বলে মন্তব্য করেন শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে একটি অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অনিশ্চিত। তাঁরা বারবার প্রশাসনকে বলছেন, কিন্তু প্রশাসন কর্ণপাত করছে না। কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখছেন না। বারবার বলা সত্ত্বেও প্রশাসন ‘দেখছি, দেখব’ বলে সময় কাটিয়ে দিচ্ছে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছে। এর আগে দুই দিন শুক্র ও শনিবার থাকায় টানা ছয় দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন প্রার্থীরা।
ছাত্রদলের এই জিএস প্রার্থী বলেন, তাঁরা দেখছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ভোটের প্রতি অনাগ্রহী করে তুলছে। কারণ, হঠাৎ করে ক্যাম্পাস বন্ধ করে দিয়েছে। ছয়-সাত দিন ক্যাম্পাসের বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবার বলা হয়েছে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের হল কার্ড নবায়ন করতে হবে। এসব সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ছিল, শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে ভোট দিতে পারেন, সেই সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু তাঁরা দেখছেন, নির্বাচনে ভোট দিতে শিক্ষার্থীদের যত রকম অনাগ্রহ তৈরি করা যায়, সেই কাজে যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খুব তোড়জোড় করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ তানভীর বারী বলেন, যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে শিক্ষার্থীদের ভোটের প্রতি আগ্রহী করে তোলা হয়। একইভাবে কিন্তু এই তরুণ প্রজন্মকে ১৭ বছর ধরে ভোটবিমুখ করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।