রাকসুতে শিবিরের ভিপি প্রার্থী

শিবির নিয়ে ‘মিথ’ ভেঙে গেছে 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে লড়বেন মোস্তাকুর রহমান। শিবিরের প্যানেলসহ নানা প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন শফিকুল ইসলাম সাজিদ হোসেন।

প্রথম আলো:

নিজেদের প্যানেলকে ‘ইনক্লুসিভ’ বলছেন কেন? আপনাদের প্যানেলে বিশেষ কী আছে?

মোস্তাকুর রহমান: শীর্ষ তিন পদে বৈচিত্র্য। ভিপি হিসেবে আমি; জিএস সাবেক একজন সমন্বয়ক এবং এজিএস প্রার্থী এমন একজন, যিনি ক্লাব অ্যাকটিভিস্ট আবার শিবিরেরও জনশক্তি। এ ছাড়া জুলাই যোদ্ধা ও আহত, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মী, সনাতন শিক্ষার্থী ও তিন নারীকে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

আপনাদের প্যানেলে বাধ্যতামূলক দুটি পদসহ মাত্র তিনজন নারীকে রাখা হয়েছে। এটা কি নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করতে যথেষ্ট? নারীদের ভোট টানতে কী পরিকল্পনা করছেন?

মোস্তাকুর রহমান: আমরা প্যানেলে তিনজন বোনকে রেখেছি। ভোটার লিস্ট অনুযায়ী ৩৮ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আছেন। ডাকসু, জাকসুর চেয়ে নারী শিক্ষার্থীদের বেশি সাড়া পাচ্ছি। শীর্ষ পদে কারও আগ্রহ না থাকায় নারী শিক্ষার্থীদের রাখতে পারিনি।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

শিক্ষার্থীরা কেন আপনাদের ভোট দেবেন?

মোস্তাকুর রহমান: আমাদের প্যানেলের শক্তি ‘ইনক্লুসিভিটি’ (অন্তর্ভুক্তিমূলক)। আমরা যাকে-তাকে বা শুধু শিবির করার কারণে রাখিনি। শিবির করুক বা না করুক, একজনের যেন দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকে, লিডারশিপ কোয়ালিটি (নেতৃত্বগুণ) দেখেই প্যানেলে জায়গা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

প্রচার শুরুর আগেই আপনারা শিক্ষার্থীদের নানা ‘উপঢৌকন’ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে কী বলবেন?

মোস্তাকুর রহমান: এগুলো আমরা নতুন করছি না। এখন যেমন আতর বিতরণ করছি, আগেও কোরআন, ইসলামি বই দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা কোনো রকম হেজিটেশন (দ্বিধা) ছাড়াই গ্রহণ করেছেন। অন্যরা দিতে পারছে না বলে সমালোচনা করে। আমরা আচরণবিধি মেনেই এটি করছি।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

অন্য সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী?

মোস্তাকুর রহমান: আমরাও যদি স্পেসিফিক (সুনির্দিষ্ট করে) বলি যে প্রশাসন ছাত্রদলকে সহযোগিতা করছে এবং ছাত্রদলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, এটা কাদা–ছোড়াছুড়ি হবে। নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমরা কোনো সংগঠনকে দোষ দিতে চাই না। আমরা চাই একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

’৭১ ও ’২৪ নিয়ে মাঝেমধ্যেই যে তর্কবিতর্ক হয়, এ বিষয়ে কিছু বলবেন?

মোস্তাকুর রহমান: পেছনের কোনো একটা বিষয় নিয়ে বারবার একে অপরকে যে সমালোচনা বা পর্যালোচনা করি, এটা নিয়ে পড়ে থাকার চেয়ে আমাদের সামনে এগোনো দরকার। আমাদের সংগঠন তো ’৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত, ’৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে আমাদের তো কোনো কথা নাই। কিন্তু আমরা একাত্তরকেও ধারণ করি, চব্বিশকেও ধারণ করি।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

জয়ের ব্যাপারে আপনারা কতটা আত্মবিশ্বাসী?

মোস্তাকুর রহমান: এখানকার শিক্ষার্থীরা ইসলামকে ভালোবাসে। তবে আমরা আদর্শ চাপিয়ে দিতে চাই না। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা ট্যাগিং না করে অন্তত আমাদের ভালো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলুক। তারা প্রথম থেকেই তো দেখে আসতেছে। এত দিন যে মিথ (প্রচলিত বিশ্বাস) চালু ছিল, তা ভেঙে দিয়ে শিক্ষার্থীরা আমাদের ভালোবাসছে।