১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমাবেশের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ময়মনসিংহেও এভাবে তারা গাড়ি-ঘোড়াসহ পরিবহন বন্ধ করেছিল; ঠেকাতে পারেনি। আপনারাও ছিলেন সবাই। ওরা জনগণের ঢলকে প্রতিরোধ করতে পারেনি। খুলনাতেও সেটাই হবে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সমাবেশে এসবের (পরিবহন ধর্মঘট) এতটুকু প্রভাব পড়বে না। ময়মনসিংহে আপনারা দেখেছেন, কীভাবে মানুষ এসেছে। ট্রলারে করে, নৌকায় করে, বিভিন্নভাবে। একইভাবে রিকশায় করে। রিকশাওয়ালারা মানুষজন নিয়ে এসেছেন; তাঁরা ভাড়া পর্যন্ত নেননি। এটাই হচ্ছে জনগণের অংশগ্রহণ। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো প্রতিবন্ধকতা, কোনো হরতাল মানব না, আমরা কোনো কারফিউও মানব না, আমরা সেখানে (সমাবেশ) উপস্থিত হবই।’

২২ অক্টোবর খুলনার সোনালী ব্যাংক চত্বরে বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি। এই সমাবেশ সামনে রেখে পরিবহন মালিক–শ্রমিক সংগঠনগুলো ২১ ও ২২ অক্টোবর খুলনা থেকে সব বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আজ পর্যন্ত কি আওয়ামী লীগ তাদের কোনো কথা রাখতে পেরেছে? পারেনি। কারণ তারা বিশ্বাসই করে, যা বলব—তা করব না; ঠিক উল্টোটা করে। সুতরাং আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।’

বিএনপি আরেকটা ১/১১ সৃষ্টির দিবাস্বপ্ন দেখছে—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এটা (এক-এগারো) ওরা করেছে তো। সেই অভ্যাস তাদের আছে। সে জন্য তারা এই কথা মনে করে। আমরা কোনো দিবাস্বপ্ন দেখি না। আমরা স্বপ্ন দেখি, একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার, সত্যিকার একটা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার।’

আওয়ামী লীগও রাজপথে নামবে—এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওখানে তো কোনো আপত্তি নাই। উনাদের সেই গণতান্ত্রিক অধিকার আছে, রাজপথে নামতেই পারেন। কিন্তু একই সঙ্গে সব বিরোধী দলের সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে—এটা সরকার হিসেবে তাদের দায়িত্ব।’

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকেল চারটায় প্রথমে জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা ও বিকেল পাঁচটায় ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরীর সঙ্গে দলীয় নেতাদের নিয়ে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসেন বিএনপির মহাসচিব। দুটি বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।