একটি দল কেন সব চেয়ার দখলে রাখল, লাঠিসোঁটা জড়ো করল, তদন্ত দরকার: মাহদী আমিন  

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরেছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ থেকে

শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।  

মাহদী আমিন বলেন, এই সংঘাত এড়ানো যেত কি না, নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল? সেই দলের লোকজন কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করল? সবার সম্মিলিত অনুরোধ উপেক্ষা করে সেই দলের প্রার্থী কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলেন, এসব বিষয় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমীন এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন

মাহদী আমিন বলেন, ‘শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে, সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রতিটি দলের বসার জন্য আসন নির্ধারিত ছিল। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সব আসন, তথা চেয়ার দখল করে রেখেছিলেন এবং বিএনপির নেতা–কর্মীদের তাঁদের নির্ধারিত আসনে বসতে দিচ্ছিলেন না। প্রশাসন বারবার আহ্বান জানানোর পরেও তাঁরা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেরপুরে যে সহিংসতা ও সংঘাত আমরা দেখেছি, সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণ–অভ্যুত্থানের পর আমাদের সবার প্রত্যাশা ছিল এমন একটি নির্বাচন, যেখানে পরিবেশ হবে উৎসবমুখর, সংঘাতময় নয়।’

নির্বাচন যেন বিতর্কমুক্ত, শান্তিপূর্ণ থাকে এবং নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যেন কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সেই আহ্বান জানান মাহদী আমিন।

শেরপুরে ঘটনাটি  অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন,  কীভাবে সেটি শুরু হলো, কারা সেখানে মদদ দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পারল না, এসব বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন জাগছে।

আরও পড়ুন

মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি, যেখানে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতের যিনি প্রার্থী রয়েছেন, তাঁকে বারবার পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতা–কর্মীরাও হাত জোড় করে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি ওই রাস্তা দিয়ে না যান। তারপরও তিনি কেন সেই দিক দিয়েই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? তাঁকে বারবার বলতে শোনা যাচ্ছিল, ‘জান যায় যাক।’

বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান বিএনপির এই নেতা।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান মাহদী আমিন। কেউ যেন কোনো উসকানি না দেন, কোনো উসকানিতে পা না দেন সেই আহ্বান জানান তিনি। সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে বলেন তিনি।

গতকাল বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি–জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে জামায়াতের এক নেতা নিহত হন। ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক ছিলেন। গতকাল ঝিনাইগাতীর ওই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।