মনোনয়ন দৌড়ে আছেন ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সাবেক নেতারা

ওপরে এনামুল হক শামীম, অজয় কর খোকন, মাহমুদ হাসান রিপন ও এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। নিচে আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাহউদ্দিন, শফিউল বারী ও হাসান মামুন
ওপরে এনামুল হক শামীম, অজয় কর খোকন, মাহমুদ হাসান রিপন ও এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। নিচে আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাহউদ্দিন, শফিউল বারী ও হাসান মামুন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোতে নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ছড়াছড়ি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। ফলে তখন অভিযোগ ওঠে অনেক আসনে ‘অযোগ্য’ প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে জিতিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু এবার বিএনপি নির্বাচনে আসবে, সেটি মাথায় রেখেই প্রার্থী ঠিক করছে আওয়ামী লীগ। আর তাই অনেক ছাত্রনেতা প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে বিএনপি এবার ভোটে যাবে কি না, সে ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে দলটি ভোটে যাওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজকালের মধ্যে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে দলটি। তবে বিএনপির সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতারা দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বসে নেই। নিজেদের শক্তি জানান দিতে নিজ নিজ এলাকায় প্রচার–প্রচারণা শুরু করেছেন অনেক আগে থেকেই।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রার্থী তালিকায় এবার সাবেক ছাত্রনেতাদের গুরুত্ব বাড়তে পারে। বিভিন্ন সময়ে রাজনীতির বাইরের ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে বড় সমালোচনা রয়েছে। তা ছাড়া, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হলে এবার রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত, এলাকায় জনপ্রিয়তা আছে, এমন প্রার্থীদেরই বাছাই করবে সব পক্ষ। জোটের হিসাব বাদ দিলে বড় দুটি দলে সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকেই প্রার্থী হতে চাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তরুণ নেতারা বলছেন, অনেক সময় প্রার্থী বদলের কারণে আগের সাংসদের অনেক দোষ ঢাকা পড়ে যায়। ফলে দেখা গেছে নতুন প্রার্থী দিলে দলের ভালো করার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে নতুন প্রার্থী দেয় দলগুলো।

আওয়ামী লীগের অন্তত ৭০ জন সাংসদের অবস্থা নিজ এলাকায় ভালো নয় বলে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় দলের বৈঠকে বলেছেন। দলটির বিভিন্ন সূত্র বলছে, গতবার মনোনয়ন পেয়েছেন এবার পাবেন না, এমন নেতার সংখ্যা ১০০ হতে পারে। এসব আসনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন সাবেক ছাত্রনেতারা।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। ভোট হবে ২৩ ডিসেম্বর। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটিতে কেন্দ্রীয় কমিটি ও উপকমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতাই রয়েছেন। উপদেষ্টা পরিষদেও আছেন বর্ষীয়ান একাধিক নেতা।

এই প্রতিবেদন নব্বইয়ের দশক থেকে যাঁরা ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের রাজনীতিতে ছিলেন, তাঁদের নিয়ে।

মনোনয়ন দৌড়ে ছাত্রলীগের নেতারা

১৯৯০ সাল থেকে গত ২৮ বছরে ছাত্রলীগের ১৬ জন সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সংসদে যেতে পেরেছেন মাত্র দুজন। তাঁরা হলেন দিনাজপুর–৩ আসন থেকে ইকবালুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জ–২ (আড়াইহাজার) আসন থেকে নজরুল ইসলাম বাবু। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, এবারও দলের পছন্দের তালিকায় তাঁরা আছেন।

এ ছাড়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না পিরোজপুর–২ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জোটের সমীকরণে বাদ পড়েন। আসনটির সাংসদ বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করেন। এবারও জোটের সমীকরণেই আটকে আছে তাঁর ভাগ্য। তবে পিরোজপুর–১ আসন থেকেও তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাকি ১৩ জনের মধ্যে এবার ৪ জনের অবস্থা ভালো। তাঁরা হলেন : এনামুল হক শামীম, অজয় কর খোকন, মাহমুদ হাসান রিপন ও এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। তবে তিনজনের আসনে আওয়ামী লীগের অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও শক্ত প্রার্থী।

শরীয়তপুর-২ আসনে সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীমকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানায়। সাংসদ ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী এবার নির্বাচন না-ও করতে পারেন। কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে অজয় কর খোকন দলীয় মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করছেন। তবে এর আগে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। ফলে দলের একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। এই আসনের বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের আফজাল হোসেন। তাঁর সমর্থনে স্থানীয়ভাবে আলাদা জনসভাও হয়েছে।

গাইবান্ধা–৫ আসনে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার ভালো অবস্থান রয়েছেন। তবে সেখানে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন প্রার্থী হওয়ার জোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। তিনি এবার বাগেরহাট-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন। তাঁর এলাকার বতর্মান সাংসদ মোজাম্মেল হোসেন। তিনি একাধিকবার সাংসদ হয়েছেন, তিনি প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন।

এর বাইরে সাবেক সভাপতি বাহাদুর ব্যাপারী শরিয়তপুর–৩ আসন থেকে ও লিয়াকত শিকদার ফরিদপুর-১ আসন থেকে মনোনয়নের চেষ্টা করছেন। ফরিদপুর–১ এর বর্তমান সাংসদও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ১৯৮৬ সাল থেকে ৮৮ সাল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সেদিক থেকে লিয়াকত শিকদার দলীয় কোনো পদে নেই।

ওপরে মারুফা আক্তার পপি, সুজিত রায় নন্দী, রাজীব আহসান ও আকরামুল হাসান। নিচে সোহেল রানা টিপু, সাজ্জাদ সাকীব বাদশা ও নুরুল আলম পাঠান মিলন
ওপরে মারুফা আক্তার পপি, সুজিত রায় নন্দী, রাজীব আহসান ও আকরামুল হাসান। নিচে সোহেল রানা টিপু, সাজ্জাদ সাকীব বাদশা ও নুরুল আলম পাঠান মিলন

সভাপতি–সম্পাদকের বাইরে
আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী চাঁদপুর-৩ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। কিন্তু সেখানে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি সাংসদ হিসেবে আছেন। সুজিত ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন।

দলটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাকা–৮ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। আসনটির সাংসদ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এখন থেকে মনোনয়ন চাওয়ার প্রধান কারণ এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় অবস্থিত। দলের নেতা–কর্মীদের দাবি, যেন এই আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নির্বাচন করেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর শিক্ষাজীবন ও রাজনীতির বড় অংশই এখানে কাটানোর কারণে তিনি এখান থেকে নির্বাচন করতে চান।

পিরোজপুর–৩ আসনে মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুর রহমান চেষ্টা করছেন। আসনটিতে গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তুম আলী ফরাজীর কাছে হেরে যান আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন।

ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মারুফা আক্তার পপি জামালপুর-৫ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চান, কিন্তু এই আসনে ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা এখনো শক্ত প্রার্থী। মারুফা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলের নেতারা অনেক প্রাজ্ঞ। তাঁরা সবকিছু বিবেচনা করে যাঁর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, তিনিই মনোনয়ন পাবেন। নির্বাচন আমাদের জন্য উৎসবের মতো। মনোনয়নপত্র কিনে আমরা সেই উৎসবে শামিল হব।’

২০০৭ সালে ১/১১–এর সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকীব বাদশার ভূমিকার বিষয়ে আওয়ামী লীগে ইতিবাচক সাড়া আছে। টিপু রাজবাড়ী–২ আসনে ও বাদশা পিরোজপুর–১ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। টিপুর মনোনয়নের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধনও করেছেন তাঁর সমর্থকেরা। দুজনই বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে আছেন। সাজ্জাদ সাকীব প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ গড়ে তুলেছি। জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়েছি, আমি আশাবাদী।’

নিজেদের দখলে থাকা ময়মনসিংহ–৭ (ত্রিশাল) আসনটি ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এবার জোটগত নির্বাচন না হলে আওয়ামী লীগ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চাইবে। আওয়ামী লীগ থেকে বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতা মনোনয়ন চাইলেও নতুন প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক নুরুল আলম পাঠান মিলন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।

এছাড়া, সাবেক নেতৃত্বের মধ্যে তরুণদের মধ্যে এবার মনোনয়ন চান সাবেক সহসভাপতি ইকবাল হোসেন অপু (শরীয়তপুর-১), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান আনসারী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২), সাবেক সহসম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মানিক (পাবনা-৫), সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত (নেত্রকোনা-৩), সাবেক অর্থ সম্পাদক মোর্শেদুজ্জামান সেলিম (ময়মনসিংহ–৩), সাবেক আইন সম্পাদক শেখ ওবায়েদুর রহমান (বাগেরহাট–৩), সাবেক সহ সভাপতি তারিক আল মামুন (কুষ্টিয়া-১) ও খন্দকার তারেক রহমান (ঢাকা-৫) প্রমুখ মনোনয়নপত্র নেবেন বলে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পুরোনো তবে নতুন মুখ
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন ১৯৮৮ সালের কমিটির। তিনি এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তাঁর আসন নেত্রকোনা-২। আসনটির সাংসদ আরিফ খান জয়ের বিরুদ্ধে সাংসদ থাকাকালীন বেশ কিছু অভিযোগ ওঠায় এবার তিনি বাদ পড়তে পারেন। একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার উকিল আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক। নেত্রকোনা-৩ আসন থেকে তিনি এবার নির্বাচন করতে চান।

ছাত্রদলের বর্তমান নেতারাও মনোনয়ন চান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে একাদশ জাতীয় সংসদে মনোনয়ন পেতে চান ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন। দলটিতে এর আগেও ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নজির রয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসানের আসন বরিশাল–৪। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দল যদি কনসিডার করে তবে অবশ্যই তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তাঁর আগ্রহ আছে এবং সার্বিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা ফুটিয়ে তুলছেন।

সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রায়ই নরসিংদীতে নিজের এলাকায় (নরসিংদী–৩) যান। সেখান থেকে এবারই প্রার্থী হতে আগ্রহী। এই আসনটিতে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মান্নান ভূইয়া ২০০১ সালে এবং ২০০৮ সালে তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার নির্বাচন করেছেন। বর্তমানে সানাউল্লাহ মিয়াও এই আসন থেকে আগ্রহী। সহসভাপতি মামুনুর রশিদ নোয়াখালীর চাটখিল সোনাইমুড়ি উপজেলার আসনে নির্বাচনী কাজ করছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আসলে আসনটি দীর্ঘদিন অভিভাবকশূন্য, যার কারণে দীর্ঘদিন নেতা-কর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন। যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন না করলে তারা ঐকবদ্ধ হওয়ার সাহস পাবে না।

সাবেকদের মধ্যে যাঁরা
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্তত ১০ জন সাবেক ছাত্রনেতার সঙ্গে কথা হয়েছে প্রথম আলোর। তাঁরা প্রত্যেকেই বলছেন, খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ রেখে তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেবেন না। তারপরও দলীয়ভাবে আসন বন্টনের কাজ এগিয়ে রাখছেন নেতারা। শেষ মুহূর্তে যাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, দলের সবাই তাঁর পক্ষেই কাজ করবেন। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রত্যেকেই এলাকায় প্রচারণা ও গণসংযোগ করছেন। এর মধ্যে বর্তমান কমিটির নেতারাও রয়েছেন।

নব্বইয়ের পর থেকে সাবেক হওয়া ছাত্রনেতাদের মধ্যে আমান উল্লাহ আমান ঢাকা-২ আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচন করেছেন। তিনি ডাকসুর সহসভাপতি ছিলেন। এবারও এই আসনে তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শফিউল বারী বাবু বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। তিনি লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপিতে তরুণ নেতৃত্ব সব সময়ই থাকে। এর মাধ্যমে নতুনদের উৎসাহিত করা হয়। তা ছাড়া আসনটি বিএনপি অধ্যুষিত। গ্রহণযোগ্য কাউকে দিলে তিনি অবশ্যই পাস করবেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েল ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তাঁর আসন নরসিংদী-৪। ২০০১ সালে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ২০০৮ সালে জয়নাল আবেদিন। জুয়েল প্রথম আলোকে বলেন, ‘১/১১–এর পর থেকেই এলাকায় যাওয়া–আসা করি। মানুষের কাছ থেকেও প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। নতুন নেতৃত্ব চায়। যারা দলের দুর্দিনে পালিয়ে যায় না এবং সুসময়ে চরিত্র হারায় না, তাদের চায় জনগণ।’

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিব–উন–নবী খান সোহেল ঢাকা-৮ আসন থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচন করে হেরে গেছেন। এবারও এই আসনে তিনিই মনোনয়ন পাবেন বলে দলের নেতারা বলছেন।

বিএনপি'র কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল খুলনা-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। এর আগে তিনি ২০০৮ সালে ঢাকার একটি আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল–২ থেকে এর আগেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এবারও তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে দলীয় সূত্রগুলো বলছে।

পটুয়াখালী-৩ আসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন দলীয় মনোনয়ন চান। তাঁর আসনে জেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। দল থেকে এর আগে শাহজাহান খানকে মনোনয়ন দিলেও তিনি জিততে পারেননি।

ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি হায়দার লেনিন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি ভোলা সদর থেকে মনোনয়ন চান। আসনটিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০–দলীয় জোটের অধীনে জেপির আন্দালিব রহমান পার্থ নির্বাচন করেছিলেন। এবার জোটের হিসাব ও দলের অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্ভর করছে লেনিনের ভাগ্য।

ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শহিদুল্লাহ এমরান নেত্রকোনা–৫ (পূর্বধলা) আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ডা. মোহাম্মদ আলী নির্বাচন করেছিলেন। ২০১২ সালে তিনি মারা গেছেন। শহিদুল্লাহ এমরান বলেন, ‘পারিবারিকভাবে বহু আগে থেকেই মাঠে ছিলাম। আমার বাবা-মা দুজনই থানা বিএনপিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।’ এই আসন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদারও মনোনয়ন চান।

এর বাইরে ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবুল ফরিদপুর–২, আরিফা সুলতানা রুমা পাবনা–৩, আজমল হোসেন পাইলট নেত্রকোনা–১ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। এ ছাড়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ ঢাকা–৭ থেকে নির্বাচন করতে চান। তুলনামূলক পুরোনোদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসন থেকে শেখ মোহাম্মদ শামীম, ঝিনাইদহ–৩ থেকে আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ঝিনাইদহ–৪–এ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ নির্বাচন করতে আগ্রহী।