প্রথম আব্বাসীয় খলিফার বায়াত, মাকদিসির ইন্তেকাল

ছবি: পেক্সেলস

৩০ রমজান ইসলামি ইতিহাসে একটি বিরল দিন, কারণ চান্দ্র মাসের হিসেবে অধিকাংশ বছরই ২৯ দিনে রমজান শেষ হয়ে যায়।

তবে যখন রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হয়, তখন এটি ইবাদতের পূর্ণতা ও ধৈর্য পরীক্ষার এক বিশেষ স্মারক হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁকে এই দিনে বড় বড় সব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটেছে।

মিসরে আমর ইবনুল আস

২০ হিজরির ৩০ রমজান সেনাপতি আমর ইবনুল আস (রা.) মিসরের বিখ্যাত ব্যাবিলন দুর্গ বিজয়ের পর কায়রোর প্রশাসনিক কাঠামো বিন্যাস এবং ফুস্তাত নগরীর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/১০৫, ১৯৮৮)

এই দিনটি ছিল মিসরের বুকে বাইজান্টাইন শাসনের অবসান ও ইসলামি সভ্যতার নতুন সূর্যোদয়ের সন্ধিক্ষণ।

আরও পড়ুন

প্রথম আব্বাসীয় খলিফার বায়াত

১৩২ হিজরির ৩০ রমজান উমাইয়া খেলাফতের পতনের পর কুফায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম আব্বাসীয় খলিফা হিসেবে আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ-র জন্য বায়াত বা আনুগত্যের শপথ নেওয়া হয়। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৫/৪০৫, ১৯৮৭)

এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু দামেস্ক থেকে ইরাকে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা পরবর্তী কয়েক শতাব্দী ধরে বিশ্ব রাজনীতি ও জ্ঞানচর্চাকে প্রভাবিত করেছিল।

ক্রুসেডারদের পিছু হটা

৫৮৪ হিজরির ৩০ রমজান সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি হিত্তিন বিজয়ের পরবর্তী সময়ে সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে তাঁর সামরিক অবস্থান সুসংহত করেন।

এই দিনে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ পুনরুদ্ধার করেন, যা ক্রুসেডারদের পিছু হটতে বাধ্য করে। ঈদের চাঁদ দেখার প্রাক্কালে এই বিজয় সংবাদ মুসলিম বাহিনীর মনোবল কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১২/৩৯৫, ১৯৮৮)

আরও পড়ুন

ইবনে কুদামা মাকদিসির ইন্তেকাল

৬২০ হিজরির ৩০ রমজান জুমার দিনে ইন্তেকাল করেন হাম্বলি মাজহাবের প্রখ্যাত ফকিহ ও ‘আল-মুগনি’ গ্রন্থের লেখক ইমাম ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি (রহ.)। (ইমাম জাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ২২/১৬৫, ১৯৮৫)

তিনি কেবল একজন আলেম ছিলেন না, বরং সুলতান সালাহউদ্দিনের বাহিনীতে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর প্রয়াণ ছিল ইলমি জগতের এক বিশাল অপূরণীয় ক্ষতি।

আল-হামরা প্রাসাদের অলঙ্করণ সমাপ্তি

স্পেনের গ্রানাডায় অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত আল-হামরা প্রাসাদের অন্যতম প্রধান অংশ ‘হল অব জাস্টিস’-এর কাজ ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে (৭৫০ হিজরি) সমাপ্ত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিকরা ধারণা করেন।

নাাসরি রাজবংশের শাসনামলে রমজানের শেষ দিকে এই স্থাপত্যশৈলীর পূর্ণতা ছিল মুসলিম স্পেনের শৈল্পিক উৎকর্ষের এক অনন্য নিদর্শন।

আরও পড়ুন