প্রথম ইসলামি রাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ, সেলজুক সাম্রাজ্যের উত্থান

ছবি: ফ্রিপিক

ইতিহাসের পাতায় ৮ রমজান দিনটি বড় কোনো ভূখণ্ড জয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এই দিনে একদিকে যেমন মদিনার নবজাত রাষ্ট্র রোমানদের হুমকির মুখে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল, অন্যদিকে সজাগ হয়েছে আন্দালুসের সীমান্ত এবং যাত্রা শুরু করেছে সেলজুক সাম্রাজ্য।

নববি সামরিক কৌশল

৯ হিজরির ৮ রমজান (৬৩০ খ্রিষ্টাব্দ) মদিনাবাসী মুসলিম বাহিনীকে স্বাগত জানায়। দীর্ঘ মরু পথ পাড়ি দিয়ে এদিনই রাসুল (সা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী তাবুক যুদ্ধ থেকে মদিনায় ফিরে আসে। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাববিয়্যাহ, ৪/৪২, ১৯৫৫)

যদিও এই অভিযানে কোনো সম্মুখ যুদ্ধ হয়নি, তবে এটি ছিল একটি বিরাট ‘কৌশলগত মহড়া’। এই অভিযানের মাধ্যমে রোমান ও তাদের মিত্রদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে যায় যে মদিনার এই নতুন শক্তি হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে সীমান্ত রক্ষা করতে সক্ষম।

আরও পড়ুন

এর আগের বছর একই দিনে (৮ হিজরি) আল্লাহর রাসুল (সা.) মক্কা বিজয়ের আগে কোরাইশদের গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে আবু কাতাদা আল-আনসারির নেতৃত্বে একটি ছোট দলকে ‘বাতনে ইদম’ অভিমুখে প্রেরণ করেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪/২৮৫, ১৯৮৮)

সেলজুক সাম্রাজ্যর জন্ম

৮ রমজান দিনটিকে ‘সেলজুকদের দিন’ বলা যেতে পারে। ৪৩১ হিজরিতে (১০৪০ খ্রিষ্টাব্দ) সেলজুক নেতা তুগরিল বেগ ঐতিহাসিক দান্দানাকান যুদ্ধে গজনবিদের পরাজিত করে চূড়ান্ত বিজয় লাভ করেন। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৯/৪৮১, ১৯৮৭)

এই বিজয়েরমধ্য দিয়ে সেলজুকরা একটি যাযাবর গোষ্ঠী থেকে সাম্রাজ্যের মালিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

পরবর্তীকালে ৪৫৫ হিজরির (১০৬৩ খ্রিষ্টাব্দ) এই দিনে তুগরিল বেগের মৃত্যুর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র সুলতান আল্‌প আরসালান। (ইমাম জাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১৮/ ৪১৫, ১৯৮৫)

আল্‌প আরসালানের এই ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে মানজিকার্ট বিজয়ের পটভূমি এবং মঙ্গোল ও বাইজেন্টাইন শক্তির বিরুদ্ধে ইসলামি খেলাফতকে ঐক্যবদ্ধ করার সূচনা হয়।

আরও পড়ুন

আন্দালুসের সংগ্রাম

১৬৪ হিজরির (৭৮১ খ্রিষ্টাব্দ) ৮ রমজান ‘সকরু কুরাইশ’ আব্দুর রহমান আদ-দাখিল কর্ডোভায় ফিরে আসেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/১৪৬, ১৯৮৮)

আন্দালুসের দুর্গম পাহাড়গুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ফ্রাঙ্কদের রাজা শার্লেমেনের বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি ইউরোপীয় শক্তির প্রাথমিক আগ্রাসন থেকে আন্দালুসকে রক্ষা করেন।

একই দিনে, ৯০৭ হিজরির (১৫০২ খ্রিষ্টাব্দ) ৮ রমজান, পর্তুগালের মুসলিমরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে রোজা রাখার অধিকার হারায়।

জ্ঞানের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রেরা

৮৩ হিজরির এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন ইমাম জাফর আস-সাদিক, যিনি ফিকহ শাস্ত্রের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানেরও পথপ্রদর্শক ছিলেন। (ইমাম জাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৬/২৫৫, ১৯৮৫)

তাঁর পাঠশালা থেকেই জাবির ইবনে হাইয়ানের মতো বিজ্ঞানীরা বের হয়ে আসেন।

২৭৩ হিজরির এই দিনে চিরবিদায় নেন হাদিসবিধারদ ইমাম ইবনে মাজাহ, যাঁর সংকলিত ‘সুনান’ গ্রন্থটি আজও বিশুদ্ধ হাদিসের অন্যতম উৎস হিসেবে সমাদৃত। (সুয়ুতি, তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা: ৩৭৫, ২০০৪)

এছাড়া আধুনিক অস্ত্রোপচারের জনক হিসেবে খ্যাত আবু আল-কাসিম আল-জাহরাবি ৪২৭ হিজরির এই দিনে ইন্তেকাল করেন, যাঁর আবিষ্কৃত অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি আজও আধুনিক অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত হচ্ছে (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৯/১২০, ১৯৮৭)

আরও পড়ুন