রমজান কাটুক কোরআনের সান্নিধ্যে

ছবি: পেক্সেলস

রমজান ও পবিত্র কোরআন একটি আরেকটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; যেন এক বৃন্তে দুটি দৃষ্টিনন্দন ফুল। রমজানের সৌন্দর্যকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে কোরআন।

রমজানে কোরআনের ছোঁয়ায় মুমিনের অন্তর উদ্বেলিত হয়, হৃদয়ে নামে হেদায়েতের বসন্ত। আর সে বসন্ত পূর্ণতা পায় তারাবির নামাজে কোরআন পাঠের মাধ্যমে।

রমজানের এই সুন্দর সময়ে কোরআন মজিদ নিয়ে আমরা কিছু মৌলিক কথা উপস্থাপনের প্রয়াস পাব।

কোরআনের ভাষায় কোরআনের পরিচয়

কোরআন নিজেই নিজের পরিচয় পেশ করেছে। নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে কোরআন বলছে: “নিশ্চয়ই এটা সম্মানিত কোরআন, যা আছে এক সংরক্ষিত কিতাবে। যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না।” (সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত: ৭৭-৭৯)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে: “বরং এটা সম্মানিত কোরআন, যা লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ।” (সুরা বুরুজ, আয়াত: ২১-২২)

কোরআন মানবজাতির পথপ্রদর্শক

কোরআন নির্দিষ্ট কোনো গোত্র বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং কেয়ামত পর্যন্ত আগত প্রতিটি মানুষের সফলতার পথনির্দেশক।

বলা হয়েছে, “রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন। এই কোরআন মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো এক মজবুত রশি। এই রশি যারা শক্ত করে ধরে রাখবে, তারাই সফল হবে। কোরআনে বলা হয়েছে, “আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। কখনো বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৩)

আরও পড়ুন

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির (রহ.) তাঁর তাফসির গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, “কিতাবুল্লাহ তথা কোরআন হচ্ছে আকাশ থেকে জমিনে পাঠানো আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি রজ্জু বা রশি।”

তিনি আরো বলেন, “নিঃসন্দেহে এই কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো সুদৃঢ় রশি। এটি একটি বিমল আলোকরেখা, একটি উপকারী প্রতিষেধক। যারা এই কোরআনকে আঁকড়ে ধরবে, তারা সকল বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা থেকে বেঁচে থাকবে। যারা কোরআনের নির্দেশনা মেনে চলবে, তারা চিরকালীন মুক্তি লাভ করবে।” (তাফসিরুল কুরআনিল আজিম)

কোরআন পাঠ ইমান বাড়ায়

কোরআন পড়লে ইমান বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “মুমিন তো তারা, যাদের অন্তর কেঁপে ওঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। আর যখন তাদের ওপর তাঁর আয়াতগুলো পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ইমান বৃদ্ধি করে এবং যারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।” (সুরা আনফাল, আয়াত: ২)

তেলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশ

কেয়ামতের ভয়াবহ অবস্থায় কোরআন তার তেলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশ করবে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা কোরআন পাঠ করো। কারণ, কোরআন কেয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১০)

আরও পড়ুন

জান্নাতের পথে কোরআন

জান্নাতে যাওয়ার জন্য কোরআন পড়তে হবে। হাদিসে বলা হয়েছে, “রোজা ও কোরআন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে—হে আমার রব, আমি দিনের বেলায় তাকে পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন।

অনুরূপভাবে কোরআন বলবে—হে আমার প্রতিপালক, আমাকে অধ্যয়নরত থাকায় রাতের ঘুম থেকে আমি তাকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৬৬২৬)

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, কোরআন সুপারিশকারী এবং তার সুপারিশ কবুল করা হবে। যে কোরআনকে সামনে রাখবে অর্থাৎ কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গড়বে, কোরআন তাকে পথ দেখিয়ে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আর যে কোরআনকে উপেক্ষা করে পেছনে রাখবে, কোরআন তাকে জাহান্নামে পৌঁছে দেবে। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ১২৪)

কোরআন মানবজাতির সফলতার মৌলিক পাথেয়। হাজার বছর ধরে কোরআন অসংখ্য বনি আদমকে সঠিক পথের দিশা দিয়ে যাচ্ছে। তাই আসুন, আমরাও কোরআনের স্নিগ্ধ আলোয় নিজেদের জীবনকে আলোকিত করি। কোরআনের আলো ছড়িয়ে দিই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

আবদুল্লাহ আলমামুন আশরাফী: শিক্ষক ও লেখক

আরও পড়ুন