সুন্দর আচরণের এত তাগিদ কেন ইসলামে

ছবি: পেক্সেলস

বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম কিংবা গোত্র নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে চমৎকার ও পরিশীলিত সামাজিক আচরণ বজায় রাখা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। বিশেষ করে আজকের তরুণ সমাজের জন্য শিষ্টাচার ও ভালো চরিত্র গঠন করা ইমানের এক অন্যতম প্রধান অংশ।

সামাজিক মেলামেশায় পরিশীলিত আচরণ বজায় রাখা একজন সচেতন ও অনুশীলনকারী মুসলিমের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সুন্দর আচরণ করার শিক্ষা বিশ্বজনীন।

এই শিষ্টাচার আমাদের প্রতিদিনের জীবনচর্চায় স্থান পাওয়া উচিত—যেখানে থাকবে অন্যের প্রতি সম্মান, কাজের মাঝে দয়াশীলতা, অনুপযুক্ত আচরণ পরিহার করা, মার্জিত ভাষার ব্যবহার এবং এমন একটি সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা যাতে অন্য কেউ কোনো আঘাত বা কষ্ট না পায়।

মানবধর্ম ও আচরণে নবীজির বার্তা

ইসলামের সুমহান বার্তাকে যদি একটি বাক্যে প্রকাশ করতে বলা হয়, তবে তা হলো উত্তম চরিত্রের বিকাশ। মহানবী  (সা.) নিজের নবুয়তি দায়িত্ব ও আগমনের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন, “আমাকে তো শুধু উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরণ করা হয়েছে।” (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ২৭৩)

তিনি শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অসীম রহমত হিসেবে এ ধরায় পাঠিয়েছেন।

বড়দের সঙ্গে হাঁটার সময় সামান্য পেছনে হাঁটা, দরজায় বা যানবাহনে প্রবেশের সময় তাদের আগে সুযোগ দেওয়া এবং তাদের উপস্থিতির সম্মান জানানোর নবীজির শিক্ষা।
আরও পড়ুন

কোরআনে বলা হয়েছে, “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য শুধু রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।” (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)

মা-বাবার প্রতি বিনয় ও মমতা

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নিজের ইবাদত বা একত্ববাদের আদেশের পরেই মা-বাবার সঙ্গে সুব্যবহার করার হুকুম দিয়েছেন।

কোরআনে বলা হয়েছে, “আপনার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সৎব্যবহার করবে। তাদের একজন বা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদেরকে ‘উফ’ পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক নম্র কথা বলো।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩)

শৈশবে আমরা যখন অসহায় ও দুর্বল ছিলাম, তখন মা-বাবাই নিজেদের সুখ বিসর্জন দিয়ে আমাদের গড়ে তুলেছেন। আজকে আমরা যখন সামর্থ্যবান হয়েছি, তখন তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মা-বাবাকে সন্তুষ্ট রাখা হলো পরকালের অন্যতম সেরা পুণ্যের কাজ।

প্রবীণ ও মুরুব্বিদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ

রাস্তাঘাটে বা সামাজিক মেলামেশায় বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি বিনয়ী হওয়া উচিত। তাদের সঙ্গে হাঁটার সময় সামান্য পেছনে হাঁটা, দরজায় বা যানবাহনে প্রবেশের সময় তাদের আগে সুযোগ দেওয়া এবং তাদের উপস্থিতির সম্মান জানানোর নবীজির শিক্ষা।

আরও পড়ুন
যে ব্যক্তি আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের আলেমদের উপযুক্ত মর্যাদা দেয় না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯১৯

বয়স্ক মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে কদর করা উচিত। তাদের সম্মান করা সম্পর্কে মহানবী (সা.) সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের আলেমদের উপযুক্ত মর্যাদা দেয় না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯১৯)

আত্মপর্যালোচনা ও সুন্দর অভ্যাসের বিকাশ

প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, আমি কি অন্যদের সঙ্গে তেমন আচরণ করছি, যেমন আচরণ আমি নিজের জন্য আশা করি?

একদিন আমাদের সবাইকে বৃদ্ধ হতে হবে। আমরা আজ বয়স্কদের সঙ্গে যেমন আচরণ করব, ভবিষ্যতে আমাদের তরুণ প্রজন্মও আমাদের সঙ্গে তেমনই আচরণ করবে।

সামাজিক মেলামেশায় হাসিমুখে কথা বলা, সুন্দর কথা বলা এবং সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইমানের অন্যতম সৌন্দর্য। মহানবী (সা.) বলেছেন, “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ওই ব্যক্তি, যার চরিত্র বা আচরণ সবচেয়ে সুন্দর।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৫৫৯)

আরও পড়ুন