রবিউল আউয়াল মাসের বিশেষ ৪ মর্যাদা

ছবি: পেক্সেলস

যে সময় মহানবী (সা.) পৃথিবীতে তাঁর প্রথম কদমটি রেখেছিলেন, সেটি ছিল রবিউল আউয়াল মাস এবং যখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর পূর্ণ হলো, তখনো এই মাসেই তাঁকে সোপর্দ করা হয়েছিল জগৎশুদ্ধির কাজ। 

সুতরাং এ হিসেবে বলা যেতে পারে যে রবিউল আউয়ালই এই সর্বজনীন রহমত বিকাশের শুরুক্ষণ। এ কারণেই যখন মোবারক এই মাস আসে, তখন মুসলমানদের হৃদয়ে সেই মহান অস্তিত্বের স্মরণ সজীব হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন ধরনের খুশি ও আনন্দের প্রকাশ ঘটানো হয়ে থাকে। আল্লাহ–তাআলার বড় কোনো নেয়ামতের স্মরণে আনন্দিত হওয়া কোনো খারাপ জিনিস নয়। বরং শরিয়তের সীমারেখা অতিক্রম না করলে এটি একটি পর্যায় পর্যন্ত প্রশংসনীয় বটে।

আরও পড়ুন

রবিউল আউয়াল মাসের মর্যাদা

রবিউল আউয়াল আরবি বর্ষপঞ্জিকার তৃতীয় মাস। শাব্দিক অর্থ প্রথম বসন্ত। মহিমান্বিত রবিউল আউয়াল মাসটি তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার অনেকগুলো দিক আছে।

প্রথম দিক

বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত, মহানবী মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেন রবিউল আউয়াল মাসে।

দ্বিতীয় দিক

রবিউল আউয়াল মাসেই নবীজি নবুয়তপ্রাপ্ত হয়েছেন।

তৃতীয় দিক

আল্লাহর রাসুল (সা.) প্রিয় মাতৃভূমি মক্কা মোকাররমা ছেড়ে মদিনা মোনাওয়ারায় হিজরত করেন এবং যেদিন তিনি মদিনায় পৌঁছান, তা ছিল সোমবার ১২ রবিউল আউয়াল।

চতুর্থ দিক

রাসুলের ওপর আরোপিত রেসালাতের দায়িত্ব পালন শেষে ইসলাম ধর্মের পূর্ণতার মাধ্যমে তিনি নিজের প্রভুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর সান্নিধ্যে চলে যান।

আরও পড়ুন

রবিউল আউয়ালে করণীয়

রবিউল আউয়ালে সুনির্দিষ্ট কোনো আমলের কথা কোরআন–সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। আমাদের জীবনের মৌলিক লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে আল্লাহ প্রদত্ত শরিয়াহ অনুসরণের বিকল্প নেই।

সুতরাং রবিউল আউয়ালে এবং সারা বছরই আমাদের জন্য বিদআত পরিহার করে সুন্নাহ বা শরিয়াহর যথার্থ অনুসরণ করা জরুরি। কয়েকটি আমলের কথা স্মরণ করা যেতে পারে।

এক. রবিউল আউয়ালে অন্যান্য মাসের মতো সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা।

দুই. আইয়ামে বিজ তথা মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ রোজা রাখা।

তিন. অধিক পরিমাণে দরুদ শরিফ পাঠ করা।

চার. গভীর অভিনিবেশে সিরাত পাঠ করা। কমপক্ষে নির্ভরযোগ্য একটি সিরাত গ্রন্থের শুরু থেকে শেষ পাঠ করা।

পাঁচ. সিরাতের শিক্ষা নিজের মাঝে ধারণ করা ও অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া।

  • আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী: মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম, গাজীপুর

আরও পড়ুন