ইতিহাসের পাতায় ২৮ রমজান ইসলামি সভ্যতার বিস্তার ও মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের এক জীবন্ত সাক্ষী।
অষ্টম শতাব্দীতে স্পেনের মাটিতে মুসলিমদের বিজয় নিশান ওড়া থেকে শুরু করে আধুনিক যুগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সংযোগস্থল এই দিনটি।
ইউরোপে ইসলামের প্রবেশ
৭১১ খ্রিস্টাব্দের (৯২ হিজরি) ২৮ রমজান মুসলিম সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে স্পেনে ঐতিহাসিক ‘ওয়াদি লাক্কা’ বা শজোনা যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ১২ হাজার মুসলিম সৈন্যের বিপরীতে রাজা রডারিকের প্রায় এক লক্ষ সৈন্যের বিশাল বাহিনী পরাজিত হয়।
এই একটি যুদ্ধের মাধ্যমেই স্পেনে আটশ বছরের মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়, যা ইউরোপকে অন্ধকার যুগ থেকে বের করে আধুনিক বিজ্ঞান ও দর্শনের আলো দেখায়।
কায়রোর উত্থান
ফাতেমি খেলাফতের ইতিহাসে ২৮ রমজান একটি শোকাবহ ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন খেলাফতের অন্যতম প্রভাবশালী শাসক খলিফা আল-মুইজ লি-দীনিল্লাহ ইন্তেকাল করেন।
তিনি তিউনিসিয়া থেকে রাজধানী সরিয়ে মিসরের কায়রো শহর গড়ে তুলেছিলেন এবং উত্তর আফ্রিকা থেকে মক্কা-মদিনা ও সিরিয়া পর্যন্ত মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন। আধুনিক কলম বা ‘ফাউন্টেন পেন’-এর প্রথম নকশাকার হিসেবেও ইতিহাসের পাতায় তার নাম উজ্জ্বল।
৭৮৮ হিজরির এই দিনই মিসরের মামলুক সুলতান জহির বারকুক কায়রোতে তাঁর বিখ্যাত ‘মাদ্রাসা ও খানকাহ’ কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। এখানে চারটি প্রধান মাযহাবের (হানাফি, শাফেয়ি, মালিকি ও হাম্বলি) উচ্চতর শিক্ষা প্রদান করা হতো।
আব্বাসীয় খেলাফতের পতনের সূচনা
মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবেও ২৮ রমজান চিহ্নিত। ৬৫৬ হিজরির এই দিনে হালাকু খাঁ-র নেতৃত্বাধীন তাতার বাহিনী বাগদাদের আব্বাসীয় খেলাফতের চূড়ান্ত পতন ঘটানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
তবে এই ধ্বংসযজ্ঞের পরবর্তী সময়েই আবার মুসলিমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে, যা ইতিহাসের এক বিস্ময়কর পুনরুত্থান।
কুতুব মিনার নির্মাণ
৬০২ হিজরির ২৮ রমজান দিল্লীর সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেকের শাসনামলে কুতুব মিনারের প্রথম তলার নির্মাণকাজ এবং তৎসংলগ্ন ‘কুওয়াতুল ইসলাম’ মসজিদের সম্প্রসারণ কাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়
এই মিনারটি ছিল ভারতবর্ষে মুসলিম সার্বভৌমত্বের প্রতীক। রমজানের শেষ দিকে এই বিশাল স্থাপত্যের অগ্রগতি তৎকালীন মুসলিম স্থাপত্যবিদ্যার উৎকর্ষের পরিচয় দেয়।
ইবনে বাশকুয়ালের ইন্তেকাল
৫৭৮ হিজরির ২৮ রমজান ইন্তেকাল করেন আন্দালুসের (স্পেন) প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদ ইমাম ইবনে বাশকুয়াল (রহ.)। তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-সিলাহ’-এর জন্য অমর হয়ে আছেন।