শাবান মাসে ইবাদত: ৮টি জরুরি দিক

ছবি: পেক্সেলস

শাবান মাস হলো মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সোপান। এটি রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে এবং মুমিনকে আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য প্রস্তুত করে।

শাবান মাসের ফজিলত ও করণীয় সম্পর্কে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো:

১. আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা

শাবান মাসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এই মাসে বান্দার সারা বছরের আমলনামা মহান আল্লাহর দরবারে তুলে ধরা হয়। সাহাবি উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) নবীজিকে (সা.) এই মাসে অধিক রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন:

“এটি এমন এক মাস যাতে জগতসমূহের প্রতিপালকের কাছে আমলসমূহ উঠানো হয়। আর আমি পছন্দ করি যে, আমার আমল এমন অবস্থায় উঠানো হোক যখন আমি রোজা পালনকারী।” (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২৩৫৭)

২. নবীজির (সা.) অধিক হারে রোজা পালন

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের ব্যতীত সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন শাবান মাসে।

আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, “আমি নবী কারিম (সা.)-কে শাবান মাসের চেয়ে বেশি রোজা অন্য কোনো মাসে রাখতে দেখিনি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৬৯)

আরও পড়ুন

৩. মধ্য শাবানে সাধারণ ক্ষমা

শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে (শবে বরাত) আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করেন। তবে এতে দুটি বাধা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শাবানের মধ্যবর্তী রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি নজর দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৯০)

৪. শাবানের রোজার রহস্য

ইমাম ইবনে রজব (র.) বলেন, শাবানের রোজা হলো রমজানের রোজার পূর্বপ্রস্তুতি বা মহড়া স্বরূপ। এর ফলে মুমিন ব্যক্তি রমজানের কষ্ট সহ্য করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং ইবাদতের মিষ্টতা খুঁজে পায়। ফলে সে পূর্ণ উদ্দীপনা নিয়ে রমজানে প্রবেশ করতে পারে। (ইবনে রজব হাম্বলি, লাতায়েফ আল-মাআরিফ ফীমা লি-মাওয়াসিম আল-আম মিন আল-ওয়াযায়েফ, পৃষ্ঠা: ১৩৮, দারু ইবনি কাসির, দামেস্ক, ১৯৯৯)

৫. শাবানের শেষার্ধের রোজার বিধান

শেখ ইবনে বাজ (র.) এর মতে, যদি কেউ আগে থেকেই রোজা রেখে অভ্যস্ত হয় বা পুরো মাস রোজা রাখতে চায়, তবে সে ১৫ তারিখের পরেও রোজা রাখতে পারবে। তবে যারা আগে রোজা রাখেনি, তাদের জন্য শাবানের শেষ ১৫ দিন নতুন করে রোজা শুরু করা সুন্নাহ পরিপন্থী। (ইবনে বাজ, মাজমু ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ, ১৫/৩৮৫, দারুল আসিমাহ, রিয়াদ, ২০০০)

আরও পড়ুন

৬. নির্দিষ্ট দিনে রোজার বিশেষত্ব

অনেকে কেবল ১৫ শাবানের দিনটিকে আলাদা করে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করে নেন। তবে শেখ ইবনে তাইমিয়া (র.) এর মতে, শরয়ি দলিল ছাড়া কেবল এই দিনটিকে রোজার জন্য খাস বা নির্দিষ্ট করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। (ইবনে তাইমিয়া, মাজমু আল-ফাতাওয়া, ১০/৩৮৫, কিং ফাহদ কমপ্লেক্স, মদিনা, ১৯৯৫)

৭. ঘটা করে উৎসব পালনের বিধান

শাবান মাসের পনেরো তারিখের রাতকে কেন্দ্র করে আলোকসজ্জা বা বিশেষ উৎসব পালন করাকে ইসলামি পণ্ডিতগণ বিদআত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। শাইখ ইবনে বাজ (র.) বলেন, এই রাতকে কেন্দ্র করে ঘটা করে উৎসব পালনের সপক্ষে কোনো সহিহ দলিল নেই। (ইবনে বাজ, মাজমু ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ, ১/১৮৬, দারুল আসিমাহ, রিয়াদ, ২০০০)

৮. বিশেষ নামাজের প্রচলিত ধারণা

শবে বরাতে নির্দিষ্ট পদ্ধতির বা নির্দিষ্ট রাকাতের নামাজ আদায়ের যে বর্ণনাগুলো পাওয়া যায়, তার কোনোটিই নির্ভরযোগ্য নয়। এই রাতে বিশেষ পদ্ধতির নামাজ পড়ার সপক্ষে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবই জাল বা ভিত্তিহীন। (ইবনে বাজ, মাজমু ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ, ১/১৮৬, দারুল আসিমাহ, রিয়াদ, ২০০০)

আরও পড়ুন