১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক খলিফার পদও বিলুপ্ত করেন এবং উসমানীয় বংশের সব লোককেই নির্বাসনে পাঠান। এক বছর পর আরবে বাদশাহ হুসেন ইবনে আলী নিজেকে খলিফা বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু ইবনে সউদ তাঁকে তা ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এভাবে মুসলিম বিশ্বে খিলাফতের অবসান ঘটে

মুয়াবিয়া প্রতিষ্ঠিত উমাইয়া বংশীয় খলিফারা দামেস্কে অধিষ্ঠিত ছিলেন। খারিজি ও শিয়ারা তাঁদের স্বীকৃতি দেননি। ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসীয় বংশ খিলাফত অধিকার ও বাগদাদে তাদের রাজধানী স্থাপন করেন। কিন্তু উমাইয়া বংশীয়দেরই একজন প্রথম আবদুর রহমান স্পেনে পালিয়ে গিয়ে ৭৮০ সালে কর্ডোভার একটি আমিরাত স্থাপন করেন, যা পরে কর্ডোভার খিলাফত বা পাশ্চাত্য খিলাফত নামে পরিচিতি লাভ করে। এটি ১০০১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

মুসলমানদেরই আরেকটি দল (শিয়া) ফাতিমীয় বংশ উত্তর আফ্রিকায়, বিশেষত মিসরে, ৯০৯-১১৭১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত খিলাফত পরিচালনা করেন। হালাকু খানের নেতৃত্বে মঙ্গোলীয়রা বাগদাদে প্রবেশ করলে আব্বাসীয় শাসকেরা মিসরে পালিয়ে যান ও সেখানে নামমাত্র খিলাফত টিকিয়ে রাখেন। পরে ১৫১৭ খ্রিষ্টাব্দে উসমানীয়-তুর্কি বংশ মিসর দখল করে এবং এই বংশের সুলতান প্রথম মুসলিম খলিফা পদবি গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ উসমানীয় সুলতান ষষ্ঠ মোহাম্মদ (১৯১৮-২২) পর্যন্ত এই শাসকেরাই খলিফা উপাধি ধারণ করতেন।

১৯২২ সালে কামাল আতাতুর্ক ষষ্ঠ মোহাম্মদকে ক্ষমতাচ্যুত, সুলতানের পদ বিলুপ্ত ও তুরস্ককে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন। ষষ্ঠ মোহাম্মদ পালিয়ে যান ও নির্বাসনে তাঁর মৃত্যু হয়। দেশত্যাগের পর তাঁকে খলিফার পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তাঁর জ্ঞাতি ভাই আবদুল মজিদ খলিফার পদবিতে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক খলিফার পদও বিলুপ্ত করেন এবং উসমানীয় বংশের সব লোককেই নির্বাসনে পাঠান। এক বছর পর আরবে বাদশাহ হুসেন ইবনে আলী নিজেকে খলিফা বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু ইবনে সউদ তাঁকে তা ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এভাবে মুসলিম বিশ্বে খিলাফতের অবসান ঘটে।

সূত্র: ‘খিলাফত’, যার যা ধর্ম, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, প্রথমা প্রকাশন, ২০১৪